hadith book logo

ইসলামে মানবাধিকার

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

রাজনৈতিক সংঘাত আর ক্ষমতার দন্দ্ব নয় বরং শাসকের জন্য কল্যাণ কামনা ও সদুপদেশ:

রাজনীতির ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত মানব ইতিহাসের সর্বোৎকৃষ্ট ও পরীক্ষিত যে নীতিটি উপাস্থাপন করেছে তা হল, শাসকের জন্য নসীহত তথা কল্যাণ কামনা করা ও সদুপদেশ দেয়া। এটিকে কেবল ইবাদতের অংশ নয় বরং মুসলিম উম্মার উপর ফরজ করে দেয়া হয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

الدِّينُ النَّصِيحَةُ قُلْنَا لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ

“দ্বীন-ইসলাম নসীহত বা সদুপদেশ ও কল্যাণ কামনার উপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য নসীহত হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: “আল্লাহ, তাঁর কিতাব (কুরআন), তাঁর রাসূল, মুসলিমদের ইমাম এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য।” [মুসলিম,হা/৫৫ ও বুখারী (মুয়াল্লাক), কিতাবুল ঈমান, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: “দ্বীন হল নসীহত (বা সদুপদেশ ও কল্যাণ কামনার) উপর প্রতিষ্ঠিত...।”]

সুতরাং মুসলমানদের ইমামদের (শাসক ও নেতৃবৃন্দ) কল্যাণ কামনা ও তাদেরকে সদুপদেশ দেয়া সবার উপর ফরজ।

শাসকগণ যদি নসীহত না শুনে তবে তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই এবং ঐ মুসলিমদের মাঝেও কোন কল্যাণ নেই যারা শাসকদের নসীহত করে না। কিন্তু কথা হল, এই নসীহত শাসক পর্যন্ত পৌঁছবে কিভাবে?

ইসলামের প্রথম যুগে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত জনগণের নসীহত পৌঁছার মাধ্যমে ছিল প্রধানত: আহলুল হাল্লে ওয়াল আকদ এবং আহলে শুরা (উপদেষ্টা পরিষদ) যারা এ ক্ষেত্রে কোন কাজটি উপযুক্ত সেটা অনুধাবন করতে পারতেন।