hadith book logo

ইসলামে মানবাধিকার

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

এ প্রসঙ্গে উমর রা. এর যুগে সংঘটিত একটি ঘটনা:

গুনাইম গোত্রের সুবাইগ ইবনে ইসল নামক এক ব্যক্তি মদীনায় আগমন করল। তার কাছে ছিল কিছু বই-পুস্তক। সে লোকটি কুরআনে আয়াতে মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা সাপেক্ষ) আয়াতগুলোর ব্যাপারে লোকজনকে জিজ্ঞেস করা শুরু করল। বিষয়টি উমর রা. এর নিকট অভিযোগ উঠলে তিনি সে ব্যক্তিকে তার কাছে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠালেন। আর ইতোমধ্যে তার উদ্দেশ্যে তিনি খেজুরের ডালের কায়েকটি লাঠি প্রস্তুত করলেন।

লোকটি উমর রা. এর নিকটে এসে বসলে-

তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: কে তুমি?

বলল: আমি আব্দুল্লাহ সুবাইগ

উমর রা.: আমি আব্দুল্লাহ উমর

এরপর তিনি তাকে খেজুরের লাঠি দিয়ে তাকে প্রহার শুরু করলেন। লোকটি আহত হয়ে তার চেহারা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল। তখন এক পর্যায়ে সে বলল, হে আমীরুল মুমিন, যথেষ্ট হয়েছে, এবার থামুন। আল্লাহর কসম, আমার মাথায় যা ছিল তা দূর হয়ে গেছে।” [আল আজুররী ফিশ শরীয়াহ পৃষ্ঠা নং ১৫৩ ইবনে বাত্তা ফিল ইবানাহ, পৃষ্ঠা নং ৭৮৯, লালকাঈ ফি শরহে উসূলে ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ৪/৭০৬] অর্থাৎ হে আমীরুল মুমিনীন, আমার মনে যে সব সংশয় ছিল, সেগুলো থেকে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। অত:পর উমর রা. তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে তাকে লোকজনের সাথে উঠাবসা করতে নিষেধ করে দিলেন যেন, লোকজনের মধ্যে তার খারাপ প্রভাব না পড়ে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়ার বুকে কেন পাঠানো হয়েছিলো? নবী-রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন মহান আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেয়।

সুতরাং কেউ যদি মন যা চায় তাই প্রচার করে মানুষের দ্বীনকে নষ্ট করে দেয় তবে সেটি হবে নবী-রাসূল প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও প্রেরণ করা হয়েছে এ জন্য যে, মানুষ যেন মহান আল্লাহর অনুগত দাসে পরিণত হয়, বিশ্বজাহানের পালনকর্তা মহান আল্লাহর সামনে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সঁপে দেয় এবং ইসলামের শিক্ষা ও দাবীকে বাস্তবায়ন করে।

কোন ব্যক্তি যদি ইসলামের এই মূলনীতি ধ্বংস করার জন্য অগ্রসর হয় বা নিচের দিকে গর্ত খুঁড়ে যাতে ইসলামের ভীত ধ্বসে পড়ে তবে তাকে থামিয়ে দেয়া অপরিহার্য।

সুতরাং আমাদের ইসলামে নি:শর্ত বাক স্বাধীনতা বা দ্বিধাহীন মত প্রকাশের সুযোগ নেই।

আপনি বিভিন্ন বিষয়ে মত দিতে পারেন কিন্তু তা যেন কুরআন, সুন্নাহ বা ইসলামের কোন মূলনীতিকে কটাক্ষ না করে না হয়।

পক্ষান্তরে আপনি যদি এমন সব মত বা মতাদর্শ প্রচার করেন যা দ্বীনকে আঘাত করে বা দ্বীনের মর্যাদাহানী করে বা মানুষকে বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তবে সেটি হবে যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণের মূলনীতি ও মূল শিক্ষার পরিপন্থী।