১
প্রাথমিক তাওহীদ শিক্ষা
লেখকঃ ডঃ আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
২- আল্লাহর প্রভূত্বে বিশ্বাস:
ক- আল্লাহর প্রভূত্বে বিশ্বাসের অর্থ: এ কথা স্বীকার করা যে আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সব কিছুর পালনকর্তা, মালিক, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, উপকার ও ক্ষতি পৌছান, সব কিছুই তাঁর, তাঁর হাতে সকল কল্যাণ, তিনি সব কিছু করতে পারেন। এসকল ক্ষেত্রে তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই।
আল্লাহর প্রভুত্বে বিশ্বাস হল: দৃঢ় এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ্ তায়ালাই একমাত্র রব বা প্রতিপালক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আল্লাহর কাজে তাঁকে একক হিসেবে বিশ্বাস করা। যেমন: এ আক্বীদাহ্ পোষণ করা যে এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা হলেন একমাত্র আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। আল্লাহ্ তায়া'লা বলেন:
﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ﴾ [ الزمر : ৬২[
অর্থ: আল্লাহ্ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূরাহ্ আয যুমার আয়াত ৬২। তিনিই সকল সৃষ্টিজীবের রিযিক্বদাতা। আল্লাহ্ বলেন:
﴿وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا﴾ [ هود : ৬[
অর্থ: আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই (অর্থাৎ, পৃথিবীর সকল জীবের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর)। সূরাহ্ হুদ আয়াত ৬।
আল্লাহ্ সবকিছুর মালিক। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴾ [ المائدة : ১২০[
অর্থ: নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ে অবস্থিত সবকিছুর আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ আয়াত ১২০।
খ- আল্লাহ্ তায়ালা এককভাবে সকল সৃষ্টিজীবের পালনকর্তা। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন: ﴿ الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ ( الفاتحة -২)
অর্থ: যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তায়ালার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। সূরাহ্ আল ফাতিহা আয়াত ২।
রব্বুল আলামীনের অর্থ: তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সকল সৃষ্টিজীবের সৃষ্টিকর্তা, মালিক, কল্যাণকারী । বিভিন্ন নিয়ামত ও অনুগ্রহের দ্বারা তিনি তাদেরকে লালন পালন করেন।
গ- আল্লাহ্ তায়ালা সকল সৃষ্টিজীবকে তাঁর প্রভুত্বের বিশ্বাস দিয়েই সৃষ্টি করেছেন, এমনকি রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানার আরবীয় মুশরিকদেরকেও। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (৮৬) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ (৮৭) قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (৮৮) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ﴾ [ المؤمنون : ৮৬ ৮৯[
অর্থ: বলুন: সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে? অবশ্যই তারা বলবে: আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। বলুন: তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
বলুন: তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কর্র্তৃত্ব, যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না ? অবশ্যই তারা বলবে: আল্লাহর। বলুন: তাহলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে? সূরাহ্ আল মু'মিনূন আয়াত ৮৬-৮৯।
আল্লাহ্ তায়ালার প্রভুত্বে বিশ্বাস করলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায় না। বরং অবশ্যই তাকে আল্লাহর উলুহিয়্যাতে (ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদে) বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। কেননা, আল্লাহর প্রভুত্বে বিশ্বাস স্থাপনের পরও রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার ক্বুরাইশদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।
ঘ- আসমান-যমীন, গ্রহ-উপগ্রহ, তারকা, গাছ-পালা এবং মানুষ ও জ্বিনসহ সারা বিশ্ব মহান আল্লাহর অনুগত ও অধীনে রয়েছে। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ﴾ [ آل عمران ৮৩[
অর্থ: আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। সূরাহ্ আল ইমরান আয়াত ৮৩। অতএব, কোন সৃষ্টি জীবই আল্লাহর শক্তি ও নির্ধারিত তাক্বদীর হতে বের হতে পারবে না।
কেননা, আল্লাহ্ তায়ালাই হলেন তাদের মালিক, তিনি নিজের হিকমত অনুযায়ী যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে পরিচালনা করেন। তিনি সকল জীবের সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ্ ব্যতীত সবকিছু তাঁর তৈরী, দরীদ্র এবং তাদের সৃষ্টিকর্তা মহান রব্বুল আলামীনের নিকটে মুখাপেক্ষী।
ঙ- যখন এটা নিশ্চিত হলো যে আল্লাহ্ তায়ালাই সবকিছুর মালিক তখন জানাগেল, আল্লাহ্ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা নেই। একমাত্র আল্লাহই সারা বিশ্বের পরিচালনাকারী। অতএব, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত একটা পিপিলিকাও নড়ে না। তাই আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখব, বিপদাপদে তাঁর নিকটেই প্রার্থনা করব, তাঁর উপর ভরসা রাখবো। কেননা, আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা এবং মালিক।
আল্লাহর প্রভুত্বে বিশ্বাস হল: দৃঢ় এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ্ তায়ালাই একমাত্র রব বা প্রতিপালক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আল্লাহর কাজে তাঁকে একক হিসেবে বিশ্বাস করা। যেমন: এ আক্বীদাহ্ পোষণ করা যে এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা হলেন একমাত্র আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। আল্লাহ্ তায়া'লা বলেন:
﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ﴾ [ الزمر : ৬২[
অর্থ: আল্লাহ্ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূরাহ্ আয যুমার আয়াত ৬২। তিনিই সকল সৃষ্টিজীবের রিযিক্বদাতা। আল্লাহ্ বলেন:
﴿وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا﴾ [ هود : ৬[
অর্থ: আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই (অর্থাৎ, পৃথিবীর সকল জীবের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর)। সূরাহ্ হুদ আয়াত ৬।
আল্লাহ্ সবকিছুর মালিক। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴾ [ المائدة : ১২০[
অর্থ: নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ে অবস্থিত সবকিছুর আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ আয়াত ১২০।
খ- আল্লাহ্ তায়ালা এককভাবে সকল সৃষ্টিজীবের পালনকর্তা। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন: ﴿ الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ ( الفاتحة -২)
অর্থ: যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তায়ালার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। সূরাহ্ আল ফাতিহা আয়াত ২।
রব্বুল আলামীনের অর্থ: তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সকল সৃষ্টিজীবের সৃষ্টিকর্তা, মালিক, কল্যাণকারী । বিভিন্ন নিয়ামত ও অনুগ্রহের দ্বারা তিনি তাদেরকে লালন পালন করেন।
গ- আল্লাহ্ তায়ালা সকল সৃষ্টিজীবকে তাঁর প্রভুত্বের বিশ্বাস দিয়েই সৃষ্টি করেছেন, এমনকি রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যামানার আরবীয় মুশরিকদেরকেও। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (৮৬) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ (৮৭) قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (৮৮) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ﴾ [ المؤمنون : ৮৬ ৮৯[
অর্থ: বলুন: সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে? অবশ্যই তারা বলবে: আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। বলুন: তবুও কি তোমরা ভয় করবে না?
বলুন: তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কর্র্তৃত্ব, যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না ? অবশ্যই তারা বলবে: আল্লাহর। বলুন: তাহলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে? সূরাহ্ আল মু'মিনূন আয়াত ৮৬-৮৯।
আল্লাহ্ তায়ালার প্রভুত্বে বিশ্বাস করলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায় না। বরং অবশ্যই তাকে আল্লাহর উলুহিয়্যাতে (ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদে) বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। কেননা, আল্লাহর প্রভুত্বে বিশ্বাস স্থাপনের পরও রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার ক্বুরাইশদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।
ঘ- আসমান-যমীন, গ্রহ-উপগ্রহ, তারকা, গাছ-পালা এবং মানুষ ও জ্বিনসহ সারা বিশ্ব মহান আল্লাহর অনুগত ও অধীনে রয়েছে। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ﴾ [ آل عمران ৮৩[
অর্থ: আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। সূরাহ্ আল ইমরান আয়াত ৮৩। অতএব, কোন সৃষ্টি জীবই আল্লাহর শক্তি ও নির্ধারিত তাক্বদীর হতে বের হতে পারবে না।
কেননা, আল্লাহ্ তায়ালাই হলেন তাদের মালিক, তিনি নিজের হিকমত অনুযায়ী যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে পরিচালনা করেন। তিনি সকল জীবের সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ্ ব্যতীত সবকিছু তাঁর তৈরী, দরীদ্র এবং তাদের সৃষ্টিকর্তা মহান রব্বুল আলামীনের নিকটে মুখাপেক্ষী।
ঙ- যখন এটা নিশ্চিত হলো যে আল্লাহ্ তায়ালাই সবকিছুর মালিক তখন জানাগেল, আল্লাহ্ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা নেই। একমাত্র আল্লাহই সারা বিশ্বের পরিচালনাকারী। অতএব, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত একটা পিপিলিকাও নড়ে না। তাই আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখব, বিপদাপদে তাঁর নিকটেই প্রার্থনা করব, তাঁর উপর ভরসা রাখবো। কেননা, আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা এবং মালিক।