১
প্রাথমিক তাওহীদ শিক্ষা
লেখকঃ ডঃ আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯
ঘ- রাসূলগণের গুণাবলী এবং নিদর্শনসমূহ:
রাসূলগণের গুণাবলী: তাঁরা মানুষ, তাই মানুষের মত তাঁদেরও পানাহারের প্রয়োজন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ﴾ [ الأنبياء : ৭[
অর্থ: আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। সূরাহ্ আল আম্বিয়া আয়াত ৭।
রাসূলগণ অন্যান্য মানুষের মত অসুস্থ হন এবং তাঁদেরও মৃত্যু আসে। তাই রব এবং ইবাদাতের দাবিদার হওয়ার ক্ষেত্রে রাসূলগণের (আলাইহিমুস্ সালাম) কোন অধিকার নেই।
তবে তাঁরা মানুষের বাহ্যিক সৃষ্টি এবং চরিত্রগত দিক দিয়ে পরিপূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। বংশগত দিক থেকে তাঁরা উত্তম মানুষ এবং সম্পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা স্পষ্টভাষী যা তাঁদেরকে নবূয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তোলে।
মানুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণের হিকমত হলো যাতে মানুষেরা নিজেদের মধ্যে একজনকে নমুনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ফলে তারা সহজেই রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ করতে সক্ষম হয়। (ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হলে মানুষ তাঁকে দেখেই ভয় পেত, কেননা তাঁদের আকৃতি ভিন্ন, তখন বিরুদ্ধবাদীরা বলত মানুষকে কেন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হলো না? তাছাড়া ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলে আরো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতো)।
রাসূলগণের অন্যতম গুণ হলো আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) (অন্য সকল মানুষ বাদ দিয়ে কেবল মাত্র ) তাঁদের নিকটে ওহী পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ﴾ [ الكهف : ১১০[
অর্থ: বলুন, আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ্। সূরাহ্ আল কাহাফ আয়াত ১১০।
এখান থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ সকল মানুষের মাঝ থেকে তাঁদেরকে চয়ণ করেছেন। অন্য স্থানে আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
[ ﴿اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ﴾ [ الأنعام : ১২৪
অর্থ: আল্লাহ্ এ বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। সূরাহ্ আল আনআ'ম আয়াত ১২৪।
রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা প্রচার করেন সে ব্যাপারে তাঁরা নিষ্পাপ। তাই তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাবলীগে এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যা দিয়ে তাঁদেরকে প্রেরণ করেছেন তা বাস্তবায়নে ভুল করেন না।
রাসূলদের অন্যতম গুণ হলো সত্যবাদীতা, তাই রাসূলগণ তাঁদের কথা ও কাজে সত্যবাদী। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُون﴾ [ يس : ৫২[
অর্থ: রহমান আল্লাহ্ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন। সূরাহ্ ইয়াসীন আয়াত ৫২। রাসূলগণের আরেকটি গুণ হলো ধৈর্য্য ধারন করা। তাঁরা সুসংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারী। মানুষদেরকে আল্লাহর দ্বীনের পথে আহ্বান করেন। একাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে তাঁদের উপর অনেক কষ্ট, নির্যাতন নেমে এসেছে। এতদ সত্বেও তাঁরা ধৈর্য্য ধারন করতঃ আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করার জন্য কাজ করেছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ﴾ [ الأحقاف : ৩৫[
অর্থ: অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী রাসূলগণ সবর করেছেন। সূরাহ্ আল আহ্ক্বাফ আয়াত ৩৫।
রাসূলগণের আলামত বা নিদর্শনসমূহ:
আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদেরকে অকাট্য প্রমাণ এবং স্পষ্ট মু'জিযা (মানুষের সাধ্যাতিত বিষয়) দিয়ে শক্তিশালী করেছেন। যা তাঁদের সত্যতা এবং তাঁদের নবূয়ত ও রিসালাতের বিশুদ্ধতার উপর প্রমাণ বহন করে। সঙ্গত কারনেই আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) স্বীয় রাসূলগণের সত্যতা এবং দৃঢ়তা প্রমাণে তাঁদের হাতে মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়সমূহ সংঘটিত করেছেন।
রাসূলগণের আলামত ও মু'জিযার পরিচয়: তা হলো মানুষের সাধ্যাতীত অলৌকিক বিষয়াবলী যা আল্লাহ্ তা'য়ালা স্বীয় নবী ও রাসূলগণের হাতে প্রকাশ করেছেন। (অনুরূপ মু'জিযা মানুষ ঘটাতে অপারগ)।
এ সকল মু'জিযা ও নিদর্শনের উদাহরণ: ঈসা কর্তৃক তাঁর ক্বওম বা জাতি তাদের বাড়িতে কি খাবে ও কি গুদামজাত করবে তার সংবাদ দেওয়া, মূসা এর লাঠি সাপে রুপান্তরিত হওয়া এবং আমাদের মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়া ইত্যাদী।
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ﴾ [ الأنبياء : ৭[
অর্থ: আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। সূরাহ্ আল আম্বিয়া আয়াত ৭।
রাসূলগণ অন্যান্য মানুষের মত অসুস্থ হন এবং তাঁদেরও মৃত্যু আসে। তাই রব এবং ইবাদাতের দাবিদার হওয়ার ক্ষেত্রে রাসূলগণের (আলাইহিমুস্ সালাম) কোন অধিকার নেই।
তবে তাঁরা মানুষের বাহ্যিক সৃষ্টি এবং চরিত্রগত দিক দিয়ে পরিপূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। বংশগত দিক থেকে তাঁরা উত্তম মানুষ এবং সম্পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা স্পষ্টভাষী যা তাঁদেরকে নবূয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তোলে।
মানুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণের হিকমত হলো যাতে মানুষেরা নিজেদের মধ্যে একজনকে নমুনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ফলে তারা সহজেই রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ করতে সক্ষম হয়। (ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হলে মানুষ তাঁকে দেখেই ভয় পেত, কেননা তাঁদের আকৃতি ভিন্ন, তখন বিরুদ্ধবাদীরা বলত মানুষকে কেন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হলো না? তাছাড়া ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলে আরো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতো)।
রাসূলগণের অন্যতম গুণ হলো আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) (অন্য সকল মানুষ বাদ দিয়ে কেবল মাত্র ) তাঁদের নিকটে ওহী পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ﴾ [ الكهف : ১১০[
অর্থ: বলুন, আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ্। সূরাহ্ আল কাহাফ আয়াত ১১০।
এখান থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ সকল মানুষের মাঝ থেকে তাঁদেরকে চয়ণ করেছেন। অন্য স্থানে আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
[ ﴿اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ﴾ [ الأنعام : ১২৪
অর্থ: আল্লাহ্ এ বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। সূরাহ্ আল আনআ'ম আয়াত ১২৪।
রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা প্রচার করেন সে ব্যাপারে তাঁরা নিষ্পাপ। তাই তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাবলীগে এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যা দিয়ে তাঁদেরকে প্রেরণ করেছেন তা বাস্তবায়নে ভুল করেন না।
রাসূলদের অন্যতম গুণ হলো সত্যবাদীতা, তাই রাসূলগণ তাঁদের কথা ও কাজে সত্যবাদী। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُون﴾ [ يس : ৫২[
অর্থ: রহমান আল্লাহ্ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন। সূরাহ্ ইয়াসীন আয়াত ৫২। রাসূলগণের আরেকটি গুণ হলো ধৈর্য্য ধারন করা। তাঁরা সুসংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারী। মানুষদেরকে আল্লাহর দ্বীনের পথে আহ্বান করেন। একাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে তাঁদের উপর অনেক কষ্ট, নির্যাতন নেমে এসেছে। এতদ সত্বেও তাঁরা ধৈর্য্য ধারন করতঃ আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করার জন্য কাজ করেছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ﴾ [ الأحقاف : ৩৫[
অর্থ: অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী রাসূলগণ সবর করেছেন। সূরাহ্ আল আহ্ক্বাফ আয়াত ৩৫।
রাসূলগণের আলামত বা নিদর্শনসমূহ:
আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদেরকে অকাট্য প্রমাণ এবং স্পষ্ট মু'জিযা (মানুষের সাধ্যাতিত বিষয়) দিয়ে শক্তিশালী করেছেন। যা তাঁদের সত্যতা এবং তাঁদের নবূয়ত ও রিসালাতের বিশুদ্ধতার উপর প্রমাণ বহন করে। সঙ্গত কারনেই আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) স্বীয় রাসূলগণের সত্যতা এবং দৃঢ়তা প্রমাণে তাঁদের হাতে মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়সমূহ সংঘটিত করেছেন।
রাসূলগণের আলামত ও মু'জিযার পরিচয়: তা হলো মানুষের সাধ্যাতীত অলৌকিক বিষয়াবলী যা আল্লাহ্ তা'য়ালা স্বীয় নবী ও রাসূলগণের হাতে প্রকাশ করেছেন। (অনুরূপ মু'জিযা মানুষ ঘটাতে অপারগ)।
এ সকল মু'জিযা ও নিদর্শনের উদাহরণ: ঈসা কর্তৃক তাঁর ক্বওম বা জাতি তাদের বাড়িতে কি খাবে ও কি গুদামজাত করবে তার সংবাদ দেওয়া, মূসা এর লাঠি সাপে রুপান্তরিত হওয়া এবং আমাদের মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়া ইত্যাদী।