১
প্রাথমিক তাওহীদ শিক্ষা
লেখকঃ ডঃ আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩
খ- তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাসের স্তরসমূহ:
তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস চারটি বিষয়কে শামিল করে:
প্রথম: এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ্ তায়ালা সকল বিষয় সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত জানেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সকল সৃষ্টিজীব সম্পর্কে সৃষ্টির পূর্বেই অবগত আছেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বান্দার সৃষ্টির পূর্বেই তাদের রিযিক্ব, জীবনের নির্ধারিত সময়, কথা-কাজ, তাদের চলা-ফেরা, গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব বিষয়, কে জান্নাতী, কে জাহান্নামী তা অবগত আছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ﴾ [ الحشر : ২২[
অর্থ: তিনিই আল্লাহ্ তায়ালা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন, তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। সূরাহ্ আল্ হাশ্র আয়াত ২২। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
﴿اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا﴾ [ الطلاق : ১২[
অর্থ: আল্লাহ্ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত। সূরাহ্ আত্বলাক্ব আয়াত ১২।
দ্বিতীয়: এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর পূর্ব জ্ঞানানুযায়ী পৃথিবীতে যা কিছু ঘটবে তা তিনি লওহে মাহ্ফুজে লিপিবদ্ধ করেছেন। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী:
﴿مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ [ الحديد : ২২[
অর্থ: পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। সূরাহ্ আল্ হাদীদ আয়াত ২২।
রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
﴿كَتَبَ اللَّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ قَالَ وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ﴾ ( صحيح مسلم - (১৩/ ১১৭(
অর্থ: আসমান যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ্ তায়ালা মাখলুক্ব বা সৃষ্টজীবের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। সহীহ্ মুসলিম ১৩/১১৭।
তৃতীয় বিষয়: আল্লাহর অনিবার্য (যা বাস্তবায়ীত হবেই) ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস রাখা যা কেউ প্রতিরোধ করতে পারে না। আল্লাহর শক্তিকে কেউ অপারগ করতে সক্ষম নয়। সংঘটিত যাবতীয় ঘটনাসমূহ আল্লাহর শক্তি ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যা চান তা সংঘটিত হয়, যা চান না তা হয় না। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
﴿وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا﴾ [ الإنسان : ৩০[
অর্থ: আল্লাহ্র অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। সূরাহ্ আদ্দাহ্র আয়াত ৩০। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যত্রে বলেন:
﴿وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ﴾ [ إبراهيم : ২৭[
অর্থ: আল্লাহ্ যা ইচ্ছা, তা করেন। সূরাহ্ ইবরাহীম আয়াত ২৭।
চতুর্থ বিষয়: আল্লাহ্ তায়ালা একাই সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু মাখলুক্ব বা সৃষ্ট। আল্লাহ্ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ ﴾ [ الرعد : ১৬[
অর্থ: আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী। সূরা আর্ রাহদ আয়াত ১৬। অন্য স্থানে আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا﴾ [ الفرقان : ২[
অর্থ: তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে। সূরাহ্ আল্ ফুরক্বান আয়াত ২।
ইহা জানা আবশ্যক যে সৃষ্টিকুল সৃষ্টির আগে তাদের ভাগ্যের ভালো মন্দ জানা মহান আল্লাহর অসীম শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মেই চলছে। তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবেই। বান্দার ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীন, তিনি তাদের জন্য যা চান তা হয়, আর যা চাননা তা হয় না।
তেমনি জানা আবশ্যক তাক্বদীর মূলত বান্দার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর গোপনীয় বিষয়, কোন নৈকট্যশীল ফেরেশতা বা প্রেরীত রাসূল তা জানেন না।
মু'মিন তার পালনকর্তাকে পরিপূর্ণ গুণে গুনান্বিত করে, তাই সে বিশ্বাস করে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার একটা হিকমত আছে। যদি কোন বিষয়ে আল্লাহর হিক্মত জানতে না পারে তবে সকল কিছু ব্যপ্তকারী আল্লাহর জ্ঞানের সামনে নিজের জ্ঞানের সল্পতা বুঝতে পারে। ফলে মহাজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর উপর বাদানুবাদ করে না।
তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না কিন্তু মানুষেরা নিজেদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
প্রথম: এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ্ তায়ালা সকল বিষয় সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত জানেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সকল সৃষ্টিজীব সম্পর্কে সৃষ্টির পূর্বেই অবগত আছেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বান্দার সৃষ্টির পূর্বেই তাদের রিযিক্ব, জীবনের নির্ধারিত সময়, কথা-কাজ, তাদের চলা-ফেরা, গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব বিষয়, কে জান্নাতী, কে জাহান্নামী তা অবগত আছেন। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ﴾ [ الحشر : ২২[
অর্থ: তিনিই আল্লাহ্ তায়ালা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন, তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। সূরাহ্ আল্ হাশ্র আয়াত ২২। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
﴿اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا﴾ [ الطلاق : ১২[
অর্থ: আল্লাহ্ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত। সূরাহ্ আত্বলাক্ব আয়াত ১২।
দ্বিতীয়: এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর পূর্ব জ্ঞানানুযায়ী পৃথিবীতে যা কিছু ঘটবে তা তিনি লওহে মাহ্ফুজে লিপিবদ্ধ করেছেন। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী:
﴿مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ [ الحديد : ২২[
অর্থ: পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। সূরাহ্ আল্ হাদীদ আয়াত ২২।
রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
﴿كَتَبَ اللَّهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ قَالَ وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ﴾ ( صحيح مسلم - (১৩/ ১১৭(
অর্থ: আসমান যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ্ তায়ালা মাখলুক্ব বা সৃষ্টজীবের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। সহীহ্ মুসলিম ১৩/১১৭।
তৃতীয় বিষয়: আল্লাহর অনিবার্য (যা বাস্তবায়ীত হবেই) ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস রাখা যা কেউ প্রতিরোধ করতে পারে না। আল্লাহর শক্তিকে কেউ অপারগ করতে সক্ষম নয়। সংঘটিত যাবতীয় ঘটনাসমূহ আল্লাহর শক্তি ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যা চান তা সংঘটিত হয়, যা চান না তা হয় না। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
﴿وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا﴾ [ الإنسان : ৩০[
অর্থ: আল্লাহ্র অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। সূরাহ্ আদ্দাহ্র আয়াত ৩০। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যত্রে বলেন:
﴿وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ﴾ [ إبراهيم : ২৭[
অর্থ: আল্লাহ্ যা ইচ্ছা, তা করেন। সূরাহ্ ইবরাহীম আয়াত ২৭।
চতুর্থ বিষয়: আল্লাহ্ তায়ালা একাই সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু মাখলুক্ব বা সৃষ্ট। আল্লাহ্ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ ﴾ [ الرعد : ১৬[
অর্থ: আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী। সূরা আর্ রাহদ আয়াত ১৬। অন্য স্থানে আল্লাহ্ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:
﴿وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا﴾ [ الفرقان : ২[
অর্থ: তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে। সূরাহ্ আল্ ফুরক্বান আয়াত ২।
ইহা জানা আবশ্যক যে সৃষ্টিকুল সৃষ্টির আগে তাদের ভাগ্যের ভালো মন্দ জানা মহান আল্লাহর অসীম শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মেই চলছে। তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবেই। বান্দার ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীন, তিনি তাদের জন্য যা চান তা হয়, আর যা চাননা তা হয় না।
তেমনি জানা আবশ্যক তাক্বদীর মূলত বান্দার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর গোপনীয় বিষয়, কোন নৈকট্যশীল ফেরেশতা বা প্রেরীত রাসূল তা জানেন না।
মু'মিন তার পালনকর্তাকে পরিপূর্ণ গুণে গুনান্বিত করে, তাই সে বিশ্বাস করে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার একটা হিকমত আছে। যদি কোন বিষয়ে আল্লাহর হিক্মত জানতে না পারে তবে সকল কিছু ব্যপ্তকারী আল্লাহর জ্ঞানের সামনে নিজের জ্ঞানের সল্পতা বুঝতে পারে। ফলে মহাজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর উপর বাদানুবাদ করে না।
তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না কিন্তু মানুষেরা নিজেদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।