hadith book logo

প্রাথমিক তাওহীদ শিক্ষা

লেখকঃ ডঃ আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

ঙ- রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য:

রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো মানুষেরা যাতে তাদের এক মাত্র সত্য মা'বূদকে চিনতে পারে এবং রাসূলগণ তাদেরকে এক-অদ্বিতীয় লাশারীক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করেন। তাঁরা পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন (ইসলাম) প্রতিা করতঃ তাতে ফাটল সৃষ্টি হতে নিষেধ করেন। আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:

﴿ شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ﴾ [ الشورى : ১৩[

অর্থ: তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহ্‌কে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিতি কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। সূরাহ্‌ আশ্‌ শুরা আয়াত ১৩।

আল্লাহ্‌ রাসূল প্রেরণ করেছেন সুসংবাদ ও ভয় প্রদর্শনের জন্য, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:

﴿وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ﴾ [ الكهف : ৫৬[

অর্থ: আমি রাসূলগণকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি। সূরাহ্‌ আল কাহাফ আয়াত ৫৬।

রাসূলগণের (আলাইহিমুস্‌ সালাতু ওয়াস্‌ সালাম) সুসংবাদ দেওয়া ও ভয় প্রদর্শন করা উভয় জাগতিক। অনুগতদেরকে তাঁরা দুনিয়াতে সুন্দর জীবনের সুসংবাদ দেন। আল্লাহর ঘোষনা:

﴿مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً﴾ [ النحل : ৯৭[

অর্থ: যে সৎকর্ম সমপাদন করে এবং সে ঈমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব। সূরাহ্‌ আন্‌ নাহ্‌ল আয়াত ৯৭।

রাসূলগণ অনুগতদের দুনিয়ার শাস্তি এবং ধ্বংসের ভয় প্রদর্শন করেন। আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:

﴿فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنْذَرْتُكُمْ صَاعِقَةً مِثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ﴾ [ فصلت : ১৩[

অর্থ: অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন: আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সমপর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত। সূরাহ্‌ (ফুস্‌সিলাত) হামীম সাজদাহ্‌ আয়াত ১৩।

রাসূলগণ অনুগতদেরকে পরকালীন জান্নাত ও তার নিয়ামতের সুসংবাদ দেন। আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:

﴿وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾ [ النساء : ১৩[

অর্থ: যে কেউ আল্লাহ ও রাসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন। যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য। সূরাহ্‌ আন নিসা আয়াত ১৩। রাসূলগণ পাপী ও অবাধ্যদেরকে পরকালে শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেন। আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেন:

﴿وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ﴾ [ النساء : ১৪[

অর্থ: যে কেউ আল্লাহ্‌ ও রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। সূরাহ্‌ আন্‌ নিসা আয়াত ১৪।

সঠিক ও উন্নত চরিত্র এবং বিশুদ্ধ ইবাদাতের উত্তম আদর্শ-নমুনা স্থাপনের জন্যও আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। যেমন আল্লাহ্‌ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ক্ষেত্রে বলেছেন:

﴿لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا﴾ [ الأحزاب : ২১[

অর্থ: যারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। সূরাহ্‌ আল আহ্‌যাব - ২১।