hadith book logo

অধ্যয়ন ও জ্ঞানসাধনা

লেখকঃ আবু বকর সিরাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

ইলম সম্পদের জননী

এ দেশের মানুষ হীনমন্যতায় ভোগে। ইলম শিক্ষা করলে ‘খাবে কী’ সেই দুঃচিন্তায় ঘুম হয় না অনেকের। অনেকে এধরনের অপপ্রচারও করে বেড়ায়। আর দুনিয়াপূজারীর দৃষ্টিতে একজন আলেমের জীবন চলারই কথা নয়! তাদের দৃষ্টি সার্টিফিকেট আর চাকরিতে। তাই তারা বংশের কেউ আলেম হোক তা কল্পনাও করতে পারে না। অথচ বিষয়টি বাস্তবে আদৌ এমন? প্রথমত ইলম শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, সমাজের সব মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা। এই দুটি বস্তু হাসিল হলে ইলম শিক্ষা করার উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেল। আর রিযিক? সেটা তো আল্লাহ তা‘আলা দেবেন এবং তাঁর কুদরতী পদ্ধতি অনুযায়ী যাকে যেভাবে যে পরিমাণ দেয়ার তাকে সেভাবে সে পরিমাণই দান করবেন। তথাপি সমালোচনা এবং অপপ্রচারের জবাবে বলা যায়, ইলম শিক্ষায় রিযিকের অভাব হয় না বরং ইলমের বরকতে আল্লাহ তা‘আলা রিযিকের মধ্যে প্রশস্তি দান করেন। এজন্য ইলমকে উম্মুল মাল বা সম্পদের জননী বলা হয়। বিখ্যাত মুহাক্কিক আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ইলম ও মালের মধ্যে তুলনা করে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। এতে তিনি ইলমকে বহুদিক দিয়ে মালের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং ইলমকে মালের জননী আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইলম নবীগণের মীরাছ। পক্ষান্তরে সম্পদ ধনী এবং রাজা-বাদশাহদের মীরাছ। সুতরাং কোনটা শ্রেষ্ঠ? ধন-সম্পদকে মালিকের হেফাজত করতে হয়। পক্ষান্তরে ইলম মালিককে হেফাজত করে। মাল খরচ করলে কমে যায়। পক্ষান্তরে ইলম খরচ করলে তা দিন দিন বাড়ে। ইলম মালিককে সর্বদা সঙ্গ দেয়। এমনকি কবরের জগতেও। পক্ষান্তরে মাল ও ধন-সম্পদ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মালিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইলম ধন-সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব করে। সুতরাং ইলম শাসক আর মাল শাসিত।

মাল ও ধন-সম্পদ ভালো-মন্দ, মুসলিম-কাফের এবং নেককার-পাপী সবাই হাসিল করতে পারে। কিন্তু ইলমের ধন একমাত্র নেককার মুমিন ব্যক্তিই হাসিল করতে পারে। আলেমের কাছে রাজা-বাদশাহ সকলেই মুহতাজ তথা মুখাপেক্ষী। পক্ষান্তরে ধনীর কাছে কেবল অভাবী ব্যক্তি মুহতাজ। ধন-সম্পদের অধিকারী যখন তখন নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আলেমের সেই শঙ্কা নেই।

সম্পদ কখনও কখনও মালিকের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ইতিহাসের এধরনের বহু দৃষ্টান্ত আছে। যেমন, কারুন, নমরুদ, শাদ্দাদ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ইলম আলেমের জন্য জীবনস্বরূপ, এমনকি তা মৃত্যুর পরেও।’