১
অধ্যয়ন ও জ্ঞানসাধনা
লেখকঃ আবু বকর সিরাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫১
কোন্ ইলম শিক্ষা করা ফরয?
ইলম শিক্ষার গুরুত্ব কেউ অস্বীকার করেন না। কিন্তু আভিধানের আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ অপব্যাখ্যা করেন। ইলম মানে জানা, ইলম মানে জ্ঞান- অভিধানের এই অর্থ গ্রহণ করে কৌশলে অনেকেই জাগতিক জ্ঞান ও সেই সাধনাকেও দীনের অংশ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। একারণে বই-পুস্তকে, স্কুল-কলেজের দেয়ালে লেখা থাকে- ‘প্রত্যেক নর-নারীর ওপর জ্ঞান শিক্ষা করা ফরয।’ কিন্তু আসলেই কি তাই? জাগতিক শিক্ষার জন্য কুরআন-হাদীছে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? বর্ণিত ফযীলতের কথা বলা হয়েছে? আদৌ তা নয়। বরং কুরআন-হাদীছ এবং দীনী বিষয়ের যে জ্ঞান সেটাকেই ইলম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং সেগুলোরই ফযীলতের কথা বলা হয়েছে। বিখ্যাত হাদীছ বিশারদ আল্লামা মুনাবী (রহ.) বলেন,
قد تباينت الأقوال وتناقضت الآراء في هذا العلم المفروض على نحو عشرين قولاً وأجود ما قيل قول القاضي أن العلم المفروض هو ما لا مندوحة عن تعلمه كمعرفة الخالق جل وعلا ونبوة محمد { وكيفية الصلاة ونحوها فإن تعلمها فرض عين والظاهر أن المراد به كل ما يحتاجه المسلم من أمور العقيدة وشرائع الإسلام من حلال وحرام مما جاء عن النبي ﷺ
‘এই ফরয ইলমের ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী প্রায় বিশটি মত-অভিমত রয়েছে। তবে সবচেয়ে উত্তম মত হচ্ছে কাজী ইয়াদ্ব (রহ.)-এর অভিমত। তা হচ্ছে; ফরয ইলম হচ্ছে যা শিক্ষা করার বিকল্প নেই। যেমন, আল্লাহ তা‘আলার মারেফাত হাসিল করা, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান হাসিল করা, সালাত ও অন্যান্য বিধান সম্পর্কে অবহিত হওয়া। এসব ইলম হাসিল করা ফরযে আইন। মোটকথা হচ্ছে, জরুরী আকীদা, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়তের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে জানার জন্য মুসলিম যে ইলমের মুখাপেক্ষী সেটাই ফরয ইলম হিসেবে বিবেচিত।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
«طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ »
‘ইলম শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরয।’ [ইবন মাজাহ: ২২৪]
এর ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম লিখেন-
فأشرف العلوم ثمرة العلم بالله سبحانه وتعالى وملائكته ورسله وما يعين عليه فإن ثمرته السعادة الأبدية
‘সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে জ্ঞান হাসিল হওয়ার ইলম, তাঁর ফেরেশতা, রাসূল এবং এগুলোর সহায়ক ইলম। কারণ এর ফল হলো অনন্ত সৌভাগ্য।’
হাসান ইবন রবী‘ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سألت ابن المبارك عن قول النبي صلى الله عليه وسلم : طلب العلم فريضة على كل مسلم قال : ليس هو الذي يطلبونه ولكن فريضة على من وقع في شيء من أمر دينه
‘ইলম শিক্ষা করা ফরয’ দ্বারা সেই ইলম উদ্দেশ্য নয়, মানুষ যা (জাগতিক স্বার্থে) হাসিল করে। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে দীনের প্রয়োজনের ইলম।’
قد تباينت الأقوال وتناقضت الآراء في هذا العلم المفروض على نحو عشرين قولاً وأجود ما قيل قول القاضي أن العلم المفروض هو ما لا مندوحة عن تعلمه كمعرفة الخالق جل وعلا ونبوة محمد { وكيفية الصلاة ونحوها فإن تعلمها فرض عين والظاهر أن المراد به كل ما يحتاجه المسلم من أمور العقيدة وشرائع الإسلام من حلال وحرام مما جاء عن النبي ﷺ
‘এই ফরয ইলমের ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী প্রায় বিশটি মত-অভিমত রয়েছে। তবে সবচেয়ে উত্তম মত হচ্ছে কাজী ইয়াদ্ব (রহ.)-এর অভিমত। তা হচ্ছে; ফরয ইলম হচ্ছে যা শিক্ষা করার বিকল্প নেই। যেমন, আল্লাহ তা‘আলার মারেফাত হাসিল করা, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান হাসিল করা, সালাত ও অন্যান্য বিধান সম্পর্কে অবহিত হওয়া। এসব ইলম হাসিল করা ফরযে আইন। মোটকথা হচ্ছে, জরুরী আকীদা, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়তের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে জানার জন্য মুসলিম যে ইলমের মুখাপেক্ষী সেটাই ফরয ইলম হিসেবে বিবেচিত।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
«طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ »
‘ইলম শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরয।’ [ইবন মাজাহ: ২২৪]
এর ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম লিখেন-
فأشرف العلوم ثمرة العلم بالله سبحانه وتعالى وملائكته ورسله وما يعين عليه فإن ثمرته السعادة الأبدية
‘সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে জ্ঞান হাসিল হওয়ার ইলম, তাঁর ফেরেশতা, রাসূল এবং এগুলোর সহায়ক ইলম। কারণ এর ফল হলো অনন্ত সৌভাগ্য।’
হাসান ইবন রবী‘ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سألت ابن المبارك عن قول النبي صلى الله عليه وسلم : طلب العلم فريضة على كل مسلم قال : ليس هو الذي يطلبونه ولكن فريضة على من وقع في شيء من أمر دينه
‘ইলম শিক্ষা করা ফরয’ দ্বারা সেই ইলম উদ্দেশ্য নয়, মানুষ যা (জাগতিক স্বার্থে) হাসিল করে। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে দীনের প্রয়োজনের ইলম।’