hadith book logo

অধ্যয়ন ও জ্ঞানসাধনা

লেখকঃ আবু বকর সিরাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৪

সপ্তম অন্তরায়: ইলম অন্বেষণে ত্বরাপ্রবণতা

প্রতিবন্ধকতার আরেকটি হলো ত্বরাপ্রবণতা বা ত্বরিতমনস্কতা। অর্থাৎ নূন্যতম ও স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় আলেম হতে চাওয়া। অল্প সময় ব্যয় করে মুফতি বা মুহাদ্দিস হতে চাওয়া। অথচ এটি ইলম হাসিলের সরলপথ নয়, বরং বক্রপথ। কারণ, ইলম একদিনে হাসিল হওয়ার বস্তু নয়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এবং এভাবে যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিতে হয় ইলম হাসিলের জন্য। কেননা মানুষ যখনই সংক্ষিপ্ত পন্থা অবলম্বন করে এবং তাতে সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয় তখনই পথচ্যুত হয়, ইলম হাসিলের পথ ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় নামে। সুতরাং বলা যায়, ইলম অন্বেষণের বড় অন্তরায় হচ্ছে ধীর-সুস্থতা অবলম্বন না করা। অল্প সময়ে সবকিছু শিখে ফেলার প্রবণতা। দুই-চার বছর খরচ করে মাওলানা মুফতি হয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করা। কেননা ইলমের রীতি হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করে এবং ধীরতা অবলম্বন করে তা অর্জন করতে হয়। কুরআনেও বারবার নবীকে এই সুন্নত বা রীতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত-

﴿ وَقُرۡءَانٗا فَرَقۡنَٰهُ لِتَقۡرَأَهُۥ عَلَى ٱلنَّاسِ عَلَىٰ مُكۡثٖ وَنَزَّلۡنَٰهُ تَنزِيلٗا ١٠٦ ﴾ [ الاسراء : ١٠٦ ]

‘আর কুরআন আমি নাযিল করেছি কিছু কিছু করে, যেন তুমি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পার ধীরে ধীরে এবং আমি তা নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে।’ {সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১০৬}

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন-

﴿ وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَيۡهِ ٱلۡقُرۡءَانُ جُمۡلَةٗ وَٰحِدَةٗۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِۦ فُؤَادَكَۖ وَرَتَّلۡنَٰهُ تَرۡتِيلٗا ٣٢ ﴾ [ الفرقان : ٣١ ]

‘আর কাফিররা বলে, ‘তার উপর পুরো কুরআন একসাথে কেন নাযিল করা হল না? এটা এজন্য যে, আমি এর মাধ্যমে তোমার হৃদয়কে সুদৃঢ় করব। আর আমি তা আবৃত্তি করেছি ধীরে ধীরে।’ {সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৩১}

এসব আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ধীরতা অবলম্বন এবং সময়ক্ষেপণ করে কুরআন হাসিল করার আদেশ করেছেন।