hadith book logo

অধ্যয়ন ও জ্ঞানসাধনা

লেখকঃ আবু বকর সিরাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

পূর্ববতী যুগের রাজা-বাদশাদের দৃষ্টিতে ইলমের গুরুত্ব

বর্তমান যুগের রাজা-বাদশা ও ক্ষমতাশালীরা নিজেদের সন্তানদের পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থায় পারদর্শী করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন এবং কুরআন-হাদীছের জ্ঞান থেকে তাদের একেবারেই বঞ্চিত করেন। কিন্তু অতীতের কীর্তিমান শাসকগণের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা তাদের সন্তানদের কুরআন-হাদীছের ইলম শিখিয়ে ধন্য হতেন এবং সন্তানদের জীবন ধন্য হয়েছে বলে মনে করতেন। বেশিদিন আগের কথা নয়। মোঘল সম্রাট আলমগীরের কথাই ধরুন। ভারত শাসন করেছেন যারা তাদের কয়জন তার মতো কৃতিত্ব ও ইতিহাসে স্মরণীয় হতে পেরেছেন?

‘বাদশা আলমগীর, কুমারে তাহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লির’ হৃদয়কাড়া কবিতার এই অংশই প্রমাণ করে বিখ্যাত মোঘল সম্রাট পুত্রের জন্য কী ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি নিজেও অত্যন্ত ইলম-অনুরাগী ছিলেন। বিশ্বখ্যাত ফাতাওয়ার গ্রন্থ ‘ফাতাওয়ায়ে আলমগির’ তারই তত্ত্বাবধানে সংকলিত ও প্রকাশিত হয়েছিল।

আগের যুগের সকল খলীফা ও আমীর-উমারা এরূপই ইলমের প্রতি সীমাহীন অনুরাগী ছিলেন। যেমন বিখ্যাত শাসক আবদুল মালেক ইবন মারওয়ান তার পুত্রকে উপদেশ প্রদান করে বলেছিলেন-

يا بنيّ تعلموا العلم فإن كنتم سادة فقتم وإن كنتم وسطاً سدتم وإن كنتم سوقة عشتم

‘হে বৎস! ইলম শিক্ষা করো। কেননা যদি নেতা হও তবে সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে। যদি মধ্যম ধরনের লোক হও তবে নেতার আসন লাভ করতে পারবে। আর যদি সাধারণ প্রজা হও তবে আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করতে পারবে।’

এরপর তিনি কবিতা আবৃত্তি করে বলেন,

ومن لم يذق مر التعلم ساعة تجرع ذل الجهل طول حياته

ومن فاته التعليم وقت شبابه فكبر عليه أربعا لوفاته

وذات الفتى والله بالعلم والتقى إذا لم يكونا لا اعتبار لذاته

‘যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের কিঞ্চিত তিক্ততা বরদাশত করে না, সে দিনের পর দিন মূর্খতার লাঞ্ছনা গিলতে বাধ্য হয়।

যৌবনে যার ইলম শিক্ষা করার সুযোগ হয়নি তার ওপর (জানাযার) চার তাকবীর পাঠ করো। কেননা সে তো মৃত!

আল্লাহ তা‘আলার শপথ! যুবকের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তার ইলম ও তাকওয়ার কারণে। যদি এই দুটি বস্তু না থাকে তবে তার কোনো মূল্যই নেই।’