hadith book logo

অধ্যয়ন ও জ্ঞানসাধনা

লেখকঃ আবু বকর সিরাজী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৩

ষষ্ঠ অন্তরায়: শুধু নবীনদের ইলমে ভরসা করা

প্রতিবন্ধকতার আরেকটি বিষয় হচ্ছে অভিজ্ঞতাহীন নবীনদের থেকে ফিকহ-ফাতাওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ ইলম হাসিল করা। বস্তুত অভিজ্ঞতা এবং বয়সের একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে, যা নবীনদের মধ্যে অনুপস্থিত। এর প্রভাব পড়ে তার ইলম ও কথাবার্তাতেও। তাই পূর্বসূরীগণ নবীনদের কাছ থেকে ফিকহ-ফাতাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইলম হাসিল করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا أَخَذُوا الْعِلْمَ عَنْ أَكَابِرِهِمْ وَعَنْ أُمَنَائِهِمْ وَعُلَمَائِهِمْ , فَإِذَا أَخَذُوهُ مِنْ أَصَاغِرِهِمْ وَشِرَارِهِمْ هَلَكُوا

‘যতদিন মানুষ ইলম অর্জন করবে নিজেদের প্রবীণ, বিশ্বস্ত ও আলেমদের কাছ থেকে, তারা কল্যাণের মধ্যেই থাকবে। আর যখন ইলম গ্রহণ করবে নবীন ও অশিষ্টদের কাছ থেকে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ [বাইহাকী, মাদখাল: ২৭৫]

হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْجُمَحِيِّ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ» .

‘আবূ উমাইয়া জুমাহি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের আলামত নিদর্শনের অন্যতম হলো নবীনদের কাছ থেকে ইলম তালাশ করা।’ [জামে ছগীর: ২২০৩; সহীহ]

অবশ্য নবীনের সংজ্ঞা নিয়ে মতভেদ আছে। ইবন কুতায়বা বলেন, এর দ্বারা বয়সে নবীন উদ্দেশ্য। কেননা শায়খের বয়সের বালখিল্যতা, ত্বরাপ্রবণতা, বোকামি, লালসা, শয়তানী পদস্খলন ইত্যাদি স্বভাব দূরীভূত হওয়ার ফলে তার মধ্যে গভীরতা ও গাম্ভীর্য সৃষ্টি হয়। যা ইলমের গাম্ভীর্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরী। উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

وإذا جاء الفقه من الكبير تابعه الصغير فاهتديا

‘ফিকহ যখন প্রবীণ থেকে আসে আর নবীন তার অনুগমন করে তখন উভয়ে পথপ্রাপ্ত হয়।’

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

إنكم لن تزالوا بخير ما دام العلم في كباركم ، فإن كان العلم في صغاركم سفه الصغير الكبير

‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইলম থাকবে প্রবীণদের মধ্যে। আর ইলম যদি নবীন থেকে প্রবীণের দিকে আসে তখন নবীন প্রবীণকে বোকা বানিয়ে দেয়।’

অবশ্য এই বক্তব্য সর্বাংশে প্রযোজ্য নয়। বরং কোনো নবীন যদি সত্যিকার অর্থেই যোগ্যতা, বিশ্বস্ততা এবং ইলমী মাকাম প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় তবে তার কাছ থেকে ইলম হাসিল করাতে দোষ নেই। সাহাবী-তাবেঈদের মধ্যে অনেক নবীন প্রবীণের চেয়েও ইলমী অবস্থানে বেশি এগিয়ে ছিলেন। ফলে তাদের কাছ থেকে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে ইলম হাসিল করা হতো। অতএব, নবীনদের কাছ থেকে ইলম হাসিল করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার অর্থ হচ্ছে প্রত্যেককে যথাযথ স্থানে আসন দেয়া। সুতরাং নবীন ও প্রবীণদেরকে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা খুবই প্রয়োজনীয়।