১
ইসলামে সার্বভৌমত্বের স্বরূপ
লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
ইসলামী সার্বভৌমত্বে আল্লাহর স্বরূপ
ইসলামে সার্বভৌমত্বের ধারণা হলো আল্লাহ তা‘আলা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা, বিযিকদাতা ও পালনকর্তাই নন, তিনি শাসক ও বিধানদাতাও বটে, এটা সেই সার্বভৌমত্বের ধারণার বিস্ময়কর বহিঃপ্রকাশ যা প্রথম খলিফা আবু বকর রাদিয়া্ল্লাহু আনহু তার খিলাফতের বায়আত অনুষ্ঠানের পরে সর্বপ্রথম ভাষণে বলেছিলন,
‘‘তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তি আমার নিকট শক্তিশালী, যতক্ষণ না আমি তাঁর প্রাপ্য ফিরিয়ে দিতে পারি। আর তোমাদের মধ্যকার সবল ব্যক্তি আমার নিকট দুর্বল যতক্ষণ না তাঁর থেকে তাঁর নিকট প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে পারি।”
ইসলাম কোনো ব্যক্তি বিশেষের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। অপরদিকে পাশ্চাত্য সার্বভৌমত্বে ব্যক্তি বিশেষের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়। সার্বভৌমত্ব বাস্তবিক পক্ষে মানবীয় পরিমণ্ডলে বিদ্যমান আছে কি?
যদি থেকে থাকে তবে তা কোথায়? এ সার্বভৌমত্বের প্রকৃত মালিক কাকে বলা যেতে পারে? স্বয়ং রাষ্ট্র বিজ্ঞানের পণ্ডিতগণ এ বিষয় নিয়ে চরমভাবে দিশেহারা। ইসলামের দৃষ্টিতে যদি তা ব্যক্তি বিশেষের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তা হবে তাওহীদ পরিপন্থী কাজ। এ কারণেই ইসলামী সমাজব্যবস্থায় কেউ ঐশী অধিকার বলে (Divine rights) সর্বাত্মক ক্ষমতা ধারণের অধিকার প্রাপ্ত হয় না। তাই ইসলামের মূলকথা হল সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর অধিকার। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে যদি এ সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রদান করা হয় তবে তার হুকুম বাস্তবিক পক্ষে আইন বলে বিবেচিত হবে না। তার উপর কোনো অধিকার থাকবে না। তার শর্তহীন আনুগত্য করতে হবে এমনটি নয়। বরং তার নির্দেশ সম্পর্কে ভাল-মন্দ-ভুল ও র্নিভুল হওয়ায় প্রশ্ন উপস্থাপন করা যাবে। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে আল্লাহর সৃষ্টির উপর অন্য কোনো সৃষ্টির প্রভূত্ব কায়েম করার এবং হুকুম চালাবার কোনো অধিকার অপর কারও নেই।
এ অধিকার একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর অধিকার ভিত্তি এ যে,
﴿ إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ ٥٤ ﴾ [ الاعراف : ٥٤ ]
‘‘বস্তুত আল্লাহ তোমাদের রব, যিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন’’। [সূরা আল আরাফ:৫৪।]
সার্বভৌমত্বের এ অধিকার যদি কোনো মানবশক্তিকে দেওয়া হয়, তাতে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হতে পারে না। মানুষ সে যে কোনো ব্যক্তি হোক, শ্রেণী হোক, কিংবা কোনো জাতি বা সমষ্টি হোক সার্বভৌমত্বের এতো বিরাট ক্ষমতা সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব। তথাপি এরূপ অধিকার ও কর্তৃত্ব যদি কোনো মানবীয় শক্তি লাভ করেন তবে সেখানে যুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতন বেড়ে যাবে। সমাজের মধ্যে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাঁর যুলুমের দায়ভার প্রতিবেশী সমাজের উপর পড়বে। মানুষ যখনই সার্বভৌমত্বের ক্ষমতাকে নিজের মনে করেছেন তখনি সমাজের ভাঙ্গণ বির্পযয় ও অশান্তি সর্বগ্রাসী হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ যার বাস্তবিক পক্ষে সার্বভৌমত্ব নেই এবং যাকে সার্বভৌমত্বের অধিকার ও প্রদান করা হয় নি, তাকেই যদি কৃত্রিমভাবে সার্বভৌমত্বের অধিকার ও ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তবে সে কিছুতেই এ পদের যাবতীয় ক্ষমতার এখতিয়ার সঠিক পন্থার ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না। তাই বলতে পারি ইসলামী মতাদর্শ অনুসারে আকাশ পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের উৎস ও মালিক হবেন একমাত্র আল্লাহ।
মহান আল্লাহর বাণী :
﴿إِنِ ٱلۡحُكۡمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلۡقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ٤٠ ﴾ [ يوسف : ٤٠ ]
‘‘বিধান একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। এটিই সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।’’ [সূরা ইউসুফ:৪০।]
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, আল্লাহ তো বির্মূত সত্যের (Abstract reality) প্রতীক যিনি মানুষের ধরাছোঁয়ার উর্ধ্বে; কাজেই পার্থিব সমস্যা মীমাংসার জন্য কী কারো শরণাপন্ন হওয়া যাবে? তার উত্তরে বলা যায়, আল্লাহ মানবের মঙ্গলের জন্য সকল আইন কুরআনের মাধ্যমে বিশ্বনবীর নিকট প্রেরণ করেছেন এবং মানবগণ এ বিধানসমূহ পালন করলে তাদের উন্নতি হবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, দুনিয়াতে আল্লাহর এ আইনগত সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি হচ্ছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণ। অন্যকথায় আমাদের জন্য আইন রচয়িতা ও সংবিধান দাতা আমাদের জন্য কি আইন এবং কি কি নির্দেশ দিয়েছেন তা জানাবার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আম্বিয়ায়ে কিরাম। তাই সার্বভৌমত্বে তাঁদের আনুগত্য করতে হবে।
‘‘তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তি আমার নিকট শক্তিশালী, যতক্ষণ না আমি তাঁর প্রাপ্য ফিরিয়ে দিতে পারি। আর তোমাদের মধ্যকার সবল ব্যক্তি আমার নিকট দুর্বল যতক্ষণ না তাঁর থেকে তাঁর নিকট প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে পারি।”
ইসলাম কোনো ব্যক্তি বিশেষের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। অপরদিকে পাশ্চাত্য সার্বভৌমত্বে ব্যক্তি বিশেষের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়। সার্বভৌমত্ব বাস্তবিক পক্ষে মানবীয় পরিমণ্ডলে বিদ্যমান আছে কি?
যদি থেকে থাকে তবে তা কোথায়? এ সার্বভৌমত্বের প্রকৃত মালিক কাকে বলা যেতে পারে? স্বয়ং রাষ্ট্র বিজ্ঞানের পণ্ডিতগণ এ বিষয় নিয়ে চরমভাবে দিশেহারা। ইসলামের দৃষ্টিতে যদি তা ব্যক্তি বিশেষের স্বীকৃতি দেওয়া হয় তা হবে তাওহীদ পরিপন্থী কাজ। এ কারণেই ইসলামী সমাজব্যবস্থায় কেউ ঐশী অধিকার বলে (Divine rights) সর্বাত্মক ক্ষমতা ধারণের অধিকার প্রাপ্ত হয় না। তাই ইসলামের মূলকথা হল সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর অধিকার। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে যদি এ সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রদান করা হয় তবে তার হুকুম বাস্তবিক পক্ষে আইন বলে বিবেচিত হবে না। তার উপর কোনো অধিকার থাকবে না। তার শর্তহীন আনুগত্য করতে হবে এমনটি নয়। বরং তার নির্দেশ সম্পর্কে ভাল-মন্দ-ভুল ও র্নিভুল হওয়ায় প্রশ্ন উপস্থাপন করা যাবে। পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে আল্লাহর সৃষ্টির উপর অন্য কোনো সৃষ্টির প্রভূত্ব কায়েম করার এবং হুকুম চালাবার কোনো অধিকার অপর কারও নেই।
এ অধিকার একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর অধিকার ভিত্তি এ যে,
﴿ إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ ٥٤ ﴾ [ الاعراف : ٥٤ ]
‘‘বস্তুত আল্লাহ তোমাদের রব, যিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন’’। [সূরা আল আরাফ:৫৪।]
সার্বভৌমত্বের এ অধিকার যদি কোনো মানবশক্তিকে দেওয়া হয়, তাতে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হতে পারে না। মানুষ সে যে কোনো ব্যক্তি হোক, শ্রেণী হোক, কিংবা কোনো জাতি বা সমষ্টি হোক সার্বভৌমত্বের এতো বিরাট ক্ষমতা সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব। তথাপি এরূপ অধিকার ও কর্তৃত্ব যদি কোনো মানবীয় শক্তি লাভ করেন তবে সেখানে যুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতন বেড়ে যাবে। সমাজের মধ্যে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাঁর যুলুমের দায়ভার প্রতিবেশী সমাজের উপর পড়বে। মানুষ যখনই সার্বভৌমত্বের ক্ষমতাকে নিজের মনে করেছেন তখনি সমাজের ভাঙ্গণ বির্পযয় ও অশান্তি সর্বগ্রাসী হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ যার বাস্তবিক পক্ষে সার্বভৌমত্ব নেই এবং যাকে সার্বভৌমত্বের অধিকার ও প্রদান করা হয় নি, তাকেই যদি কৃত্রিমভাবে সার্বভৌমত্বের অধিকার ও ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তবে সে কিছুতেই এ পদের যাবতীয় ক্ষমতার এখতিয়ার সঠিক পন্থার ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না। তাই বলতে পারি ইসলামী মতাদর্শ অনুসারে আকাশ পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের উৎস ও মালিক হবেন একমাত্র আল্লাহ।
মহান আল্লাহর বাণী :
﴿إِنِ ٱلۡحُكۡمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلۡقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ٤٠ ﴾ [ يوسف : ٤٠ ]
‘‘বিধান একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। এটিই সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।’’ [সূরা ইউসুফ:৪০।]
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, আল্লাহ তো বির্মূত সত্যের (Abstract reality) প্রতীক যিনি মানুষের ধরাছোঁয়ার উর্ধ্বে; কাজেই পার্থিব সমস্যা মীমাংসার জন্য কী কারো শরণাপন্ন হওয়া যাবে? তার উত্তরে বলা যায়, আল্লাহ মানবের মঙ্গলের জন্য সকল আইন কুরআনের মাধ্যমে বিশ্বনবীর নিকট প্রেরণ করেছেন এবং মানবগণ এ বিধানসমূহ পালন করলে তাদের উন্নতি হবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, দুনিয়াতে আল্লাহর এ আইনগত সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি হচ্ছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণ। অন্যকথায় আমাদের জন্য আইন রচয়িতা ও সংবিধান দাতা আমাদের জন্য কি আইন এবং কি কি নির্দেশ দিয়েছেন তা জানাবার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আম্বিয়ায়ে কিরাম। তাই সার্বভৌমত্বে তাঁদের আনুগত্য করতে হবে।