hadith book logo

ইসলামে সার্বভৌমত্বের স্বরূপ

লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

থ. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও মানুষের তাকদীর লিখন

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, আর সৃষ্টি করেছেন তিনি সবকিছুকে, তারপর সবকিছুর তাকদীরও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন তারপর সর্বকিছুর তাকদীর তিনিই ঠিক করে দিয়েছেন। তিনিই সব কিছুর আকৃতি-প্রকৃতিকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং এ মহা সৃষ্টির বুকে কার সাথে কি সম্পর্ক প্রয়োজন তাও তিনিই নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

এই মহাবিশ্বের গঠন প্রণালী এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছুর আকৃতি প্রকৃতির দিকে তাকালে একেবারেই দিশেহারা হয়ে যেতে হয়। সকল প্রতিরোধ ক্ষমতা বিলুপ্ত হয় এবং কোনো বুদ্ধিই আর তখন কাজ করতে চায় না।

এ সময়ে মানুষের কাছে তাকদীরের লিখন যে কতো সত্য এবং কোনো অবস্থাতেই যে তাকদীরের সিদ্ধান্ত এড়ানো যায় না, এ কথাটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

মানুষ চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু কিছুতেই সে জোর করে বলতে পারে না যে অমুক সময়ের মধ্যে অবশ্যই সে অমুক কাজটি করবে। সৃষ্টির রহস্যরাজির মধ্যে অবশ্যই এটা একটা বড় রহস্য। যতবেশী মানুষ তার জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে থাকে ততো বেশী তার সামনে সৃষ্টি রহস্যের জট একে একে খুলতে থাকে এবং সেই বুঝতে পারে সকলের সৃষ্টিকর্তা এক। এমনকি আল্লাহই সার্বভৌমত্বের অধিকারী অন্য কেউ নয়। যারা নিজেরা সার্বভৌমত্বের দাবীদার তাঁরাও নিজের ভাগ্য সর্ম্পকে অজ্ঞ। আসমান যমীনের সবখানেই রয়েছে তাঁর নিরংকুশ ক্ষমতা, রয়েছে মালিকানার ক্ষমতা কর্তৃত্ব করার শক্তি সাহস, ব্যয় ও ব্যবস্থা নির্মানের অধিকার এবং যে কোনো বিষয়কে পরিবর্তন করার সার্বিক এখতিয়ার একমাত্র তাঁরই রয়েছে।

তাঁর মালিকানা সারা বিশ্বব্যাপী পরিব্যপ্ত, তাঁর যুক্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা সবখানে বিরাজিত এবং সব কিছুই পূর্ব পরিকল্পিত ও পূর্ব নির্ধারিত। আল্লাহ রাববুল আলামিনের একত্ব ও একচ্ছত্র আধিপত্য নিরংকুশ তা প্রশ্নাতীত। মানুষের ভাগ্য লিখনেও প্রমাণ করে সার্বভৌমত্ব শুধু মহান আল্লাহর।