hadith book logo

ইসলামে সার্বভৌমত্বের স্বরূপ

লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

ঙ. পৃথিবী ধ্বংস করার দৃষ্টিকোণে সার্বভৌমত্ব :

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যখন চরমভাবে দিশেহারা সার্বভৌত্বের ধারণা নিয়ে, তখন আমাদের সামনে স্পষ্ট যে, যারা পৃথিবীতে সার্বভৌমত্বের দাবী নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তেমনি সময়ে আল্লাহ যদি পৃথিবীটাকে ধ্বংস করে দেন, তারা কি তা রক্ষা করতে পারবে? এক কথায় সবার মুখে একইসুর বেজে উঠবে, পারবে না তারা আল্লাহর ধ্বংস থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে। সুতরাং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দৃষ্টিতেও সার্বভৌমত্ব আল্লাহর।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:-

﴿وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوۡمَئِذٖ يَخۡسَرُ ٱلۡمُبۡطِلُونَ ٢٧ ﴾ [ الجاثية : ٢٧ ]

‘‘নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। যে দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। সে দিন মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ [সূরা আল জাসিয়া:২৭।]

তাছাড়া আল্লাহ যখন পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ প্রদান করবেন তখন এর শব্দ এত বিকট ও প্রচণ্ড হবে যে, তার তীব্রতায় কান, ‎ হৎপিণ্ড, কলিজ্বাসহ মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ফেটে যাবে, মানুষ বেহুশ হয়ে পড়বে। আকাশ ফেটে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাবে। পাহাড়-পর্বত ধুনিত তুলার ন্যায় উৎক্ষিপ্ত হতে থাকবে। নক্ষত্ররাজি বিলুপ্ত হবে। চন্দ্রসূর্য জ্যোতিহীন হয়ে একত্রিত হবে। তখন পারবে কি সার্বভৌমত্বের দাবীদাররা রক্ষা করতে নিজেদেরকে?

মহান আল্লাহ বলেন:

﴿ فَإِذَا نُفِخَ فِي ٱلصُّورِ نَفۡخَةٞ وَٰحِدَةٞ ١٣ وَحُمِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَٱلۡجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٗ وَٰحِدَةٗ ١٤ فَيَوۡمَئِذٖ وَقَعَتِ ٱلۡوَاقِعَةُ ١٥ وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِيَ يَوۡمَئِذٖ وَاهِيَةٞ ١٦ ﴾ [ الحاقة : ١٣، ١٦ ]

‘‘অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে একটি ফুৎকার পর্বতমালাসহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে (তুলার ন্যায়)। একই ধাক্কায় এরা চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাবে। সেদিন সংঘটিত হবে মহাপ্রলয়। আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে ফলে সেদিন তা দুর্বল-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং সে দিন হবে মহাভয়ঙ্কর।’’ [সূরা আল হাক্কাহ:১২-১৩।]

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:

﴿ فَإِذَا ٱلنُّجُومُ طُمِسَتۡ ٨ وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ فُرِجَتۡ ٩ وَإِذَا ٱلۡجِبَالُ نُسِفَتۡ ١٠﴾ [ المرسلات : ٨، ١ 0]

‘‘অতঃপর যখন তারকারাজী নিশ্চিহ্ন করা হবে, আকাশ-মণ্ডল খণ্ড-বিখণ্ড করা হবে এবং পর্বতমালা ধুলির ন্যায় উড়ে যাবে।’’ [সূরা মুরসালাত:৮-১১।]

এ মর্মে আল-কুরআনে আরো বর্ণনা এসেছে,

﴿ إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنشَقَّتۡ ١ وَأَذِنَتۡ لِرَبِّهَا وَحُقَّتۡ ٢ وَإِذَا ٱلۡأَرۡضُ مُدَّتۡ ٣ وَأَلۡقَتۡ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتۡ ٤ وَأَذِنَتۡ لِرَبِّهَا وَحُقَّتۡ ٥ ﴾ [ الانشقاق : ١، ٥ ]

‘‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত। আর যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারণ করা হবে এবং পৃথিবী তার ভূগর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে এবং তার পালকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত।’’ [সূরা ইনশিকাক:১-৫।]

আরো ইরশাদ হয়েছে:

﴿ إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنفَطَرَتۡ ١ وَإِذَا ٱلۡكَوَاكِبُ ٱنتَثَرَتۡ ٢ وَإِذَا ٱلۡبِحَارُ فُجِّرَتۡ ٣ وَإِذَا ٱلۡقُبُورُ بُعۡثِرَتۡ ٤ عَلِمَتۡ نَفۡسٞ مَّا قَدَّمَتۡ وَأَخَّرَتۡ ٥ ﴾ [ الانفطار : ١، ٥ ]

‘‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে, যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে, তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।’’ [সূরা ইনফিতার:১-৫।]

﴿ ٱلۡقَارِعَةُ ١ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٢ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٣ يَوۡمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلۡفَرَاشِ ٱلۡمَبۡثُوثِ ٤ وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ ٱلۡمَنفُوشِ ٥ ﴾ [ القارعة : ١، ٥ ]

‘‘করাঘাতকারী (মহাপ্রলয়) করাঘাতকারী কি (মহাপ্রলয় কি) করাঘাতকারী (প্রলয়) সম্পর্কে আপনি জানেন কি? ‘‘সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত। আর পর্বতমালা হবে ধুলিত রঙ্গিন পশমের মত।’’ [সূরা আল কারি‘আহ:১-৫।]

﴿ إِذَا زُلۡزِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ زِلۡزَالَهَا ١ وَأَخۡرَجَتِ ٱلۡأَرۡضُ أَثۡقَالَهَا ٢ وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣ ﴾ [ الزلزلة : ١، ٦ ]

‘‘যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দিবে এবং মানুষ বলবে এর কি হল।’’ [সূরা যিলযাল:১-৬।]

আল্লাহ বলেন:

﴿ كُلُّ مَنۡ عَلَيۡهَا فَانٖ ٢٦ وَيَبۡقَىٰ وَجۡهُ رَبِّكَ ذُو ٱلۡجَلَٰلِ وَٱلۡإِكۡرَامِ ٢٧ ﴾ [ الرحمن : ٢٦، ٢٧ ]

‘‘এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, শুধু বাকি থাকবে তোমার সম্মানিত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের চেহারাসহ সত্তা।’’ [সূরা আর রাহমান:২৬-২৭।]