১
যেসব কারণে ইবাদাত বরবাদ হয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
বিদআতের সংজ্ঞা
বিদআত শব্দের অর্থ হচ্ছে, কোনরূপ পূর্ব নমুনা না দেখে এবং অন্য কিছুর অনুসরণ না করেই কোন কাজ নতুনভাবে সৃষ্টি করা। শরীয়াতের পরিভাষায় বিদআত হচ্ছে,
اَلْمُرَادُ بِالْبِدْعَةِ مَا اَحْدَثَ فِي الدِّيْنِ مَا لَا اَصْلٌ لَهٗ فِى الشَّرِيْعَةِ يَدِلُّ عَلَيْهِ
বিদআত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরীয়াতে নব আবিস্কৃত ঐ সকল ইবাদাত, যার কোন ভিত্তি নেই। [মির‘আতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, ১৬৫ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দৃষ্টব্য।]
ইমাম কুরতুবী বলেছেন,
مَا لَمْ تُوَافِقْ كِتَابًا اَوْ سُنَّةً اَوْ عَمَلَ الصَّحَابَةِ
যা কিছু আল্লাহর কিতাব বা রাসূলের সুন্নাত অথবা সাহাবাদের আমলের অনুরূপ নয় তা-ই বিদআত। [তাফসীরে কুরতুবীর ১১৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় দ্রষ্টব্য।]
বিদআতের এ সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট জানা গেল যে, বৈষয়িক জীবন যাপনের জন্য নিত্য নতুন উপায় উদ্ভাবন এবং নব আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি নির্মাণের সঙ্গে শরীয়াতী বিদআতের কোন সম্পর্ক নেই। কেননা তার কোনটিই ইবাদাত হিসেবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব পাওয়ার আশায় করা হয় না। অবশ্য এ পর্যায়েও শর্ত এই যে, তার কোনটিই শরীয়াতের মূল আদর্শের বিপরীত হতে পারবে না। অনুরূপভাবে নবী করীম ﷺ এর সময় যে কাজ করার প্রয়োজন হয়নি; কিন্তু পরবর্তীকালে কোন দ্বীনি কাজের জন্য দ্বীনি লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যেই তা করার প্রয়োজন দেখা দেবে, তা করাও বিদআতের পর্যায়ে গণ্য হতে পারে না। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা ও প্রচারমূলক সংস্থা ও দ্বীনি প্রচার বিভাগ কায়েম করা, কুরআন হাদীস বুঝানোর জন্য আরবি ব্যাকরণ রচনা করা, ইসলাম বিরোধীদের জবাব দেয়ার জন্য যুক্তিবিজ্ঞান ও দর্শন রচনা করা, জিহাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র বা যন্ত্রপাতি ও আধুনিক যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষাদান, দ্রুতগামী ও সুবিধাজনক যানবাহন ব্যবহার করা- এসব জিনিস যদিও রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে বর্তমান রূপে প্রচলিত ছিল না; তা সত্ত্বেও এগুলোকে বিদআত বলা যাবে না। কেননা এসবের ব্যবস্থা করার কোন প্রয়োজন সেকালে দেখা যায়নি। কিন্তু পরবর্তীকালে এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলেই তা করা হয়েছে এবং তা দ্বীনের জন্যই জরুরি।
এক কথায় সুন্নাত হচ্ছে, নবী ﷺ আল্লাহর নিকট থেকে যে দ্বীন লাভ করেছেন, আর নিজে বাস্তব জীবনে যার অনুসরণ করে চলেছেন এবং জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন ও অনুসরণ করে চলতে বলেছেন। আর তার বিপরীত যা কিছু আছে তথা আকীদা-বিশ্বাস, কথা, আমল ও চরিত্র যে কোন ক্ষেত্রেই হোক তা-ই হলো বিদআত। এ দৃষ্টিতে সুন্নাত ও বিদআত দুটো পরস্পর বিপরীত মতাদর্শ। অর্থাৎ যা সুন্নাত তা বিদআত নয়, আর যা বিদআত তা সুন্নাত নয়।
اَلْمُرَادُ بِالْبِدْعَةِ مَا اَحْدَثَ فِي الدِّيْنِ مَا لَا اَصْلٌ لَهٗ فِى الشَّرِيْعَةِ يَدِلُّ عَلَيْهِ
বিদআত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরীয়াতে নব আবিস্কৃত ঐ সকল ইবাদাত, যার কোন ভিত্তি নেই। [মির‘আতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, ১৬৫ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দৃষ্টব্য।]
ইমাম কুরতুবী বলেছেন,
مَا لَمْ تُوَافِقْ كِتَابًا اَوْ سُنَّةً اَوْ عَمَلَ الصَّحَابَةِ
যা কিছু আল্লাহর কিতাব বা রাসূলের সুন্নাত অথবা সাহাবাদের আমলের অনুরূপ নয় তা-ই বিদআত। [তাফসীরে কুরতুবীর ১১৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় দ্রষ্টব্য।]
বিদআতের এ সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট জানা গেল যে, বৈষয়িক জীবন যাপনের জন্য নিত্য নতুন উপায় উদ্ভাবন এবং নব আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি নির্মাণের সঙ্গে শরীয়াতী বিদআতের কোন সম্পর্ক নেই। কেননা তার কোনটিই ইবাদাত হিসেবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব পাওয়ার আশায় করা হয় না। অবশ্য এ পর্যায়েও শর্ত এই যে, তার কোনটিই শরীয়াতের মূল আদর্শের বিপরীত হতে পারবে না। অনুরূপভাবে নবী করীম ﷺ এর সময় যে কাজ করার প্রয়োজন হয়নি; কিন্তু পরবর্তীকালে কোন দ্বীনি কাজের জন্য দ্বীনি লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যেই তা করার প্রয়োজন দেখা দেবে, তা করাও বিদআতের পর্যায়ে গণ্য হতে পারে না। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা ও প্রচারমূলক সংস্থা ও দ্বীনি প্রচার বিভাগ কায়েম করা, কুরআন হাদীস বুঝানোর জন্য আরবি ব্যাকরণ রচনা করা, ইসলাম বিরোধীদের জবাব দেয়ার জন্য যুক্তিবিজ্ঞান ও দর্শন রচনা করা, জিহাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র বা যন্ত্রপাতি ও আধুনিক যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষাদান, দ্রুতগামী ও সুবিধাজনক যানবাহন ব্যবহার করা- এসব জিনিস যদিও রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে বর্তমান রূপে প্রচলিত ছিল না; তা সত্ত্বেও এগুলোকে বিদআত বলা যাবে না। কেননা এসবের ব্যবস্থা করার কোন প্রয়োজন সেকালে দেখা যায়নি। কিন্তু পরবর্তীকালে এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলেই তা করা হয়েছে এবং তা দ্বীনের জন্যই জরুরি।
এক কথায় সুন্নাত হচ্ছে, নবী ﷺ আল্লাহর নিকট থেকে যে দ্বীন লাভ করেছেন, আর নিজে বাস্তব জীবনে যার অনুসরণ করে চলেছেন এবং জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন ও অনুসরণ করে চলতে বলেছেন। আর তার বিপরীত যা কিছু আছে তথা আকীদা-বিশ্বাস, কথা, আমল ও চরিত্র যে কোন ক্ষেত্রেই হোক তা-ই হলো বিদআত। এ দৃষ্টিতে সুন্নাত ও বিদআত দুটো পরস্পর বিপরীত মতাদর্শ। অর্থাৎ যা সুন্নাত তা বিদআত নয়, আর যা বিদআত তা সুন্নাত নয়।