১
কবরের বর্ণনা
লেখকঃ মুহাম্মদ ইকবাল কীলানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
একটি ভ্রান্তির অপনোদন
মোসলমানদের একটি দল কবরের আযাব বা শান্তিকে অস্বীকার করে, তাদের দলীল সমূহের মধ্যে একটি এই যে সাস্তি বা শান্তির দিন কিয়ামতের দিন সুতরাং কিয়ামতের পূর্বে তা হওয়া ন্যায় পরায়নতা বিরোধী। তাই কবরে আযাব বা শান্তি হতে পারেনা। এ ভ্রান্তির একটি কারণ এই যে বারযাখী জীবন আমাদের বর্তমান জীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তা পরকালের জীবনের চেয়েও ভিন্ন। তাই বারযাখী জীবনের পরিপূর্ণ ধরনকে বর্তমান জীবনের সাথে তুলনা করে বুঝার চেষ্টা করা আমাদের জন্য অসম্ভব। এ বিষয়ে আমি এগ্রন্থে ভূমিকার পর পয়েন্ট আকারে বারযাখী জীবন কেমন? এ সিরোনামে তা বিস্তারিত আলোকপাত করেছি। তা পাঠ করলে এ ধরনের ভ্রান্তি ইনশাআল্লাহ্ দূর হবে।
এ ভ্রান্তির আরেকটি কারণ কবরের আযাব ও সোয়াবের ধরণ সম্পর্কে সঠিক ধারনা না থাকাও। বারযাখী জীবনের আযাব ও সোয়াব আমরা একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার চেষ্টা করব। ধরুন কোন পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করল এবং পুলিশকে উপর থেকে জানিয়ে দেয়া হল যে এ ব্যক্তি সত্যিই অন্যায় কাজের সাথে জড়িত আছে। আদালতের ফায়সালার পূর্বে পুলিশ তাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা বটে কিন্তু সে অন্যায় কারী বলে জানার কারণে তাকে তারা খারাপ চোখে দেখে এবং হুমকি ধমকি দেয়, তাকে ভয় দেখায় যে আদালতের ফায়সালা হতে দাও এরপর দেখ যে তোমার সাথে কি আচরণ করা হয়। সেখানে তার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়। তাকে না কোন চেয়ারে বসার সুযোগ দেয়া হয়, না কোন খাটে সোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তার আসপাস দিয়ে চলাচল কারী পুলিশরা তার প্রতি এমন ভাবে তাকায় যেন তার জান তারা বের করে ফেলবে। এ ধরনের আসামী কখনো চাইবে না যে তার মামলা আদালতে যাক এবং তার ব্যাপারে কোন ফায়সালা হোক। কিন্তু যখনই আদালত থেকে তার ব্যাপার কোন রায় আসবে তখনই তার মূল সাজা শুরু হবে। চাবুক মারা বা জরিমানা বা অন্য কোন সাস্তি তখন তাকে দেয়া হবে। জেলের পূর্বে হাজতে থাকা কালে সে যে শাস্তি ভোগ করেছে যদিও তা জেলের শাস্তির চয়ে আলাদা তবুও তো সেটা এক প্রকার শাস্তি। এমনি ভাবে কবরে শাস্তির ধরণ হাজতে বন্দী আসামীর মত, আদালতে যার ফায়সালা হওয়া এবং শাস্তি ধার্য হওয়া এখনও বাকী যা মূলত কেয়ামতের দিন হবে। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে কাফেরকে তার পরিনতি সম্পর্কে অবগত করানো তাকে লাঞ্ছিত, অপদস্ত করাও এক প্রকার সাজা।
যদিও এর ধরণ জাহান্নামের শাস্তি থেকে ভিন্ন। এমনি ভাবে কবরে মোমেন ও মোত্তাকী ব্যক্তির সোয়াবের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে মিলে যাকে পুলিশ উপরের নির্দেশে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে কিন্তু উপর থেকে পুলিশকে একথা ও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নির্দোষ, সে আইন মেনে চলে, ভদ্র লোক, অতএব তার সাথে ভদ্রতা মূলক আচরণ করবে। আদালতের ফায়সালার পূর্বে পুলিশ তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না বটে কিন্তু সে ভাল লোক হওয়ার কারণে সমস্ত পুলিশ তাকে ভাল চোখে দেখবে। সে যেন কোন কষ্ট না পায় সে দিকে লক্ষ রাখবে এবং তার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের ব্যবস্থা করে দিবে এবং তাকে শান্তনাও দিবে যে আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আপনি নির্দোষ আপনি আদালত থেকে ইজ্জতের সাথে মুক্তি পাবেন।
এমন ব্যক্তি কামনা করবে যে তার মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব আদালতে পেশ হোক, যাতে করে সে দ্রুত আরাম দায়ক জীবন যাপন করতে পারে আদালতে তার মামলা পেশ হওয়ার পর যখন আদালত তাকে ইজ্জতের সাথে নির্দোষ বলে প্রমাণ করবে তখন পুলিশ তাকে যথেষ্ঠ ইজ্জত ও সম্মানের সাথে বাড়ীতে পৌঁছিয়ে দিবে। নিঃসন্দেহে হাজতে থাকা কালে সে ঐ আরাম পায় নাই যা সে তার নিজের ঘরে পৌঁছার পর পাবে। কিন্তু তবু ও সেখানে সে ভদ্র মানুষ হওয়ার কারণে কিছুটা হলে ও আরাম পেয়েছে। ঠিক এ ধরনেরই সম্মান জনক আচরণ কবরে করা হবে মোমেন ব্যক্তির সাথে। তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হবে, জান্নাতের অন্যান্য নে’মত সমূহ দেখানো হবে, সর্ব প্রকার আরামের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু জান্নাতের নে’মতের স্বাদ মূল মোমেন ব্যক্তি তখনই পাবে যখন সে আল্লাহ্ তা’লার আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে সম্মানের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে আল্লাহ্ ই এব্যাপারে সর্বাধিক অবগত।
এ ভ্রান্তির আরেকটি কারণ কবরের আযাব ও সোয়াবের ধরণ সম্পর্কে সঠিক ধারনা না থাকাও। বারযাখী জীবনের আযাব ও সোয়াব আমরা একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার চেষ্টা করব। ধরুন কোন পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করল এবং পুলিশকে উপর থেকে জানিয়ে দেয়া হল যে এ ব্যক্তি সত্যিই অন্যায় কাজের সাথে জড়িত আছে। আদালতের ফায়সালার পূর্বে পুলিশ তাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা বটে কিন্তু সে অন্যায় কারী বলে জানার কারণে তাকে তারা খারাপ চোখে দেখে এবং হুমকি ধমকি দেয়, তাকে ভয় দেখায় যে আদালতের ফায়সালা হতে দাও এরপর দেখ যে তোমার সাথে কি আচরণ করা হয়। সেখানে তার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়। তাকে না কোন চেয়ারে বসার সুযোগ দেয়া হয়, না কোন খাটে সোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তার আসপাস দিয়ে চলাচল কারী পুলিশরা তার প্রতি এমন ভাবে তাকায় যেন তার জান তারা বের করে ফেলবে। এ ধরনের আসামী কখনো চাইবে না যে তার মামলা আদালতে যাক এবং তার ব্যাপারে কোন ফায়সালা হোক। কিন্তু যখনই আদালত থেকে তার ব্যাপার কোন রায় আসবে তখনই তার মূল সাজা শুরু হবে। চাবুক মারা বা জরিমানা বা অন্য কোন সাস্তি তখন তাকে দেয়া হবে। জেলের পূর্বে হাজতে থাকা কালে সে যে শাস্তি ভোগ করেছে যদিও তা জেলের শাস্তির চয়ে আলাদা তবুও তো সেটা এক প্রকার শাস্তি। এমনি ভাবে কবরে শাস্তির ধরণ হাজতে বন্দী আসামীর মত, আদালতে যার ফায়সালা হওয়া এবং শাস্তি ধার্য হওয়া এখনও বাকী যা মূলত কেয়ামতের দিন হবে। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে কাফেরকে তার পরিনতি সম্পর্কে অবগত করানো তাকে লাঞ্ছিত, অপদস্ত করাও এক প্রকার সাজা।
যদিও এর ধরণ জাহান্নামের শাস্তি থেকে ভিন্ন। এমনি ভাবে কবরে মোমেন ও মোত্তাকী ব্যক্তির সোয়াবের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে মিলে যাকে পুলিশ উপরের নির্দেশে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে কিন্তু উপর থেকে পুলিশকে একথা ও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নির্দোষ, সে আইন মেনে চলে, ভদ্র লোক, অতএব তার সাথে ভদ্রতা মূলক আচরণ করবে। আদালতের ফায়সালার পূর্বে পুলিশ তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না বটে কিন্তু সে ভাল লোক হওয়ার কারণে সমস্ত পুলিশ তাকে ভাল চোখে দেখবে। সে যেন কোন কষ্ট না পায় সে দিকে লক্ষ রাখবে এবং তার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের ব্যবস্থা করে দিবে এবং তাকে শান্তনাও দিবে যে আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আপনি নির্দোষ আপনি আদালত থেকে ইজ্জতের সাথে মুক্তি পাবেন।
এমন ব্যক্তি কামনা করবে যে তার মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব আদালতে পেশ হোক, যাতে করে সে দ্রুত আরাম দায়ক জীবন যাপন করতে পারে আদালতে তার মামলা পেশ হওয়ার পর যখন আদালত তাকে ইজ্জতের সাথে নির্দোষ বলে প্রমাণ করবে তখন পুলিশ তাকে যথেষ্ঠ ইজ্জত ও সম্মানের সাথে বাড়ীতে পৌঁছিয়ে দিবে। নিঃসন্দেহে হাজতে থাকা কালে সে ঐ আরাম পায় নাই যা সে তার নিজের ঘরে পৌঁছার পর পাবে। কিন্তু তবু ও সেখানে সে ভদ্র মানুষ হওয়ার কারণে কিছুটা হলে ও আরাম পেয়েছে। ঠিক এ ধরনেরই সম্মান জনক আচরণ কবরে করা হবে মোমেন ব্যক্তির সাথে। তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হবে, জান্নাতের অন্যান্য নে’মত সমূহ দেখানো হবে, সর্ব প্রকার আরামের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু জান্নাতের নে’মতের স্বাদ মূল মোমেন ব্যক্তি তখনই পাবে যখন সে আল্লাহ্ তা’লার আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে সম্মানের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে আল্লাহ্ ই এব্যাপারে সর্বাধিক অবগত।