hadith book logo

কবরের বর্ণনা

লেখকঃ মুহাম্মদ ইকবাল কীলানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

কবরের আযাব রুহের উপর হয় না শরীরের উপর?

কবরে আযাব ও সোয়াব সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ার পর, স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে যে বারযাখের আযাব বা সোয়াব কি রুহের উপর হবে, না শরীরের উপর, না উভয়ের উপর?

জ্ঞানীরা এ ব্যাপারে লম্বা আলোচনা করেছে, কেউ কেউ মনে করে যে, কিছুদিনের মধ্যেই মাটি শরীরকে নষ্ট করে দেয়, অথচ সোয়াব বা আযাব তো কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকে, অতএব এ সোয়াব বা আযাব রুহের উপর হয়।

কেউ কেউ মনে করে যে, বারযাখে সোয়াব বা আযাবের সম্পর্ক যেহেতু কবরের সাথে, সুতরাং মোমেনের জন্য কবরকে প্রশস্ত করা হয়, কবরকে আলোকিত করা হয়, কাফেরের কবরে সাপ তাকে ধ্বংশন করতে থাকে, কবরের উভয় পাশ্ব বার বার মৃত ব্যক্তিকে চাপ দিতে থাকে, আর কবরে শুধু শরীর ই থাকে অতএব আযাব বা সোয়াব শরীরের উপরই হয়, চাই শরীরের এক ক্ষুদ্র অংশই বাকী থাকুক না কেন? কোন কোন হযরত মনে করেন যে রুহ ও শরীর পৃথক পৃথক হওয়া সত্ত্বেও এ উভয়ের মাঝে একটি অদৃশ্য সম্পর্ক থেকে যায়, অতএব সোয়াব বা আযাব উভয়কেই হয়। আমার মতে (লেখকের) এ বিষয়টিও ঐসমস্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি ঈমান থাকা ওয়াজিব, কিন্তু এর পদ্ধতি জানা অসম্ভব। আল্লাহ্ তা’লা এব্যাপারে যথেষ্ঠ ক্ষমতাবান, যদি তিনি চান তাহলে মাটিতে ধুলিসাৎ হয়ে যাওয়ার পরও তাকে আযাব বা সোয়াব দিতে পারেন, তিনি চাইলে রুহকে দিতে পারেন, তিনি চাইলে রুহ ও শরীর উভয়কেই দিতে পারেন।

আমার মতে এটা একটা উদ্দেশ্য হিন আলোচনা, যার পিছনে পরে আমি না আমার নিজের সময় নষ্ট করতে চাই, না পাঠকদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই! যদি এ বিষয়টি আমাদেরকে দিক নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে সামান্যতম গুরুত্ব বহন করত তাহলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই এব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন কথা বলতেন, অতএব এব্যাপারে আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ঠ হবে, যতটুকু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন। আর তিনি বলেনঃ কবরের আযাব সত্য তা থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর।

এব্যাপারে এতটুকুই আমার বলার ছিল, এর সঠিক জ্ঞান আল্লাহ্ ভাল রাখেন, তিনি সব বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত।

وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه اجمعين