১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ম খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
ইবন কাসীর (র)-এর জীবনী (ক) ব্যক্তি পরিচয়
তার নাম ইসমাঈল ইবন উমর ইবন কাসীর ইবন দূ ইবন কাসীর ইবন দিরা আলকুরায়শী। তাঁর খান্দানটি কুরায়শের বনী হাসালা শাখা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভ্রান্ত গোত্ররূপে এ গোত্রটির খ্যাতি রয়েছে। তাদের বংশ লতিকা সংরক্ষিত রয়েছে।
আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক আল মিযযী এ বংশ লতিকার কিছু অংশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করেছেন— যদ্দরুন তিনি আনন্দিত হন ও অনেকটা বিস্ময়বোধ করেন। এ জন্যে তিনি আমার বংশ তালিকায় ‘আল কুরায়শী’ উপাধি লেখা শুরু করেন।৪০ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ৩২।]
আমার নিকট এটি ইবন কাসীর (র)-এর বিশুদ্ধতম বংশ তালিকা। কারণ, ইবন কাসীর (র) তার ইতিহাস গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া’তে নিজে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এজন্যে তার নাম ও বংশ পরিচয়ে যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে সে সম্পর্কে আমরা আলোকপাত করবো না।৪১ [ইবন হাজর, আদদুররুল কামিনা, খঃ ১, পৃঃ ২৯৯, ৩৭৭। দাউদী, তাবাকাতুল মুফাসসিরীন, খঃ ১, পৃঃ ১১০। যাহাবীঃ তাবাকাতুল হুফফাজ পৃঃ ৫৭, যিরকানী আল-আলম, খঃ ১, পৃঃ ৩২০।] কারণ যার সম্পর্কে এসব বিবৃতি তার সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে অন্য সব তথ্য একেবারে গুরুত্বহীন।
জন্মঃ ৭০১ হিজরী সনে ইবন কাছীর (র) জন্মগ্রহণ করেন। যেমনটি ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে তিনি উল্লেখ করেছেন।৪২ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ২২।] এ থেকে তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে যে মতপার্থক্য ছিল তার নিরসন হল।৪৩ [ইবন কাসীর, উমদাতুত্ তাফসীর (আল মুকাদ্দামা) খঃ ১১, পৃঃ ২২। যারকানী, আল ইলাম, খঃ ১: পৃঃ ৩৭।] তাঁর জন্মস্থান ছিল 'বুসরা’(বর্তমানে উযা হুরান নামে পরিচিত।)-এর অন্তর্গত ‘মিজদাল’ নামক জনপদে। ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে তাঁর জন্মস্থান ‘মুজায়দিল’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।৪৪ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ১৪, পৃঃ ৩২।] যতদূর মনে হয় ভুলক্রমেই এমনটি লিখিত হয়েছে।
তাঁর পিতাঃ তার পিতা হলেন খতীব শিহাবউদ্দীন আবু হাফস উমর ইবন কাসীর। তিনি বসবাস করতেন বুসরা নগরীর পশ্চিমে অবস্থিত ‘শারকাবীন’ গ্রামে। বসরা ও শারকাবীনের দূরত্ব খুবই সামান্য। খতীব শিহাবউদ্দীন ৬৪০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতুল গোত্র বনু উকবায় তিনি বিদ্যার্জনে ব্রতী হন। তিনি চমৎকার কবিতা লিখতেন। বুসরার আন্নাকা অঞ্চলের বিদ্যালয়সমূহে তিনি লেখাপড়া করেন। তারপর বুসরার পূর্বদিকে অবস্থিত খিতাবা জনপদে চলে যান। তিনি শাফিঈ মাযহাব অবলম্বন করেন এবং ইমাম নওয়াবী ও ইমাম গাযারীর নিকট বিদ্যা শিক্ষা করেন। তিনি সেখানে প্রায় ১২ বছর অবস্থান করেন। এরপর ফিরে আসেন ‘মিজদাল’-এ। এখানে তার বিবাহ হয়। আবদুল ওহহাব, আবদুল আযীয ও ইসমাঈল নামক তিন পুত্রের জন্মের পর তার কয়েকজন কন্যা সন্তানও জন্মগ্রহণ করে। এছাড়া ইউনুস ও ইদ্রীস নামক দুই পুত্রও জন্মগ্রহণ করে। ইবন কাসীরের পিতার একটি প্রসিদ্ধ জীবনালেখ্য 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।৪৫ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ১৪, পৃঃ ৩৩।] ৭০৩ হিজরীতে মুজায়দিলে ইবন কাছীরের পিতার ইতিকাল হয়। তখন ইসমাঈল-এর বয়স প্রায় তিন বছর।
আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক আল মিযযী এ বংশ লতিকার কিছু অংশ সম্পর্কে অবগতি লাভ করেছেন— যদ্দরুন তিনি আনন্দিত হন ও অনেকটা বিস্ময়বোধ করেন। এ জন্যে তিনি আমার বংশ তালিকায় ‘আল কুরায়শী’ উপাধি লেখা শুরু করেন।৪০ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ৩২।]
আমার নিকট এটি ইবন কাসীর (র)-এর বিশুদ্ধতম বংশ তালিকা। কারণ, ইবন কাসীর (র) তার ইতিহাস গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া’তে নিজে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এজন্যে তার নাম ও বংশ পরিচয়ে যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে সে সম্পর্কে আমরা আলোকপাত করবো না।৪১ [ইবন হাজর, আদদুররুল কামিনা, খঃ ১, পৃঃ ২৯৯, ৩৭৭। দাউদী, তাবাকাতুল মুফাসসিরীন, খঃ ১, পৃঃ ১১০। যাহাবীঃ তাবাকাতুল হুফফাজ পৃঃ ৫৭, যিরকানী আল-আলম, খঃ ১, পৃঃ ৩২০।] কারণ যার সম্পর্কে এসব বিবৃতি তার সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে অন্য সব তথ্য একেবারে গুরুত্বহীন।
জন্মঃ ৭০১ হিজরী সনে ইবন কাছীর (র) জন্মগ্রহণ করেন। যেমনটি ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে তিনি উল্লেখ করেছেন।৪২ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ২২।] এ থেকে তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে যে মতপার্থক্য ছিল তার নিরসন হল।৪৩ [ইবন কাসীর, উমদাতুত্ তাফসীর (আল মুকাদ্দামা) খঃ ১১, পৃঃ ২২। যারকানী, আল ইলাম, খঃ ১: পৃঃ ৩৭।] তাঁর জন্মস্থান ছিল 'বুসরা’(বর্তমানে উযা হুরান নামে পরিচিত।)-এর অন্তর্গত ‘মিজদাল’ নামক জনপদে। ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে তাঁর জন্মস্থান ‘মুজায়দিল’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।৪৪ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ১৪, পৃঃ ৩২।] যতদূর মনে হয় ভুলক্রমেই এমনটি লিখিত হয়েছে।
তাঁর পিতাঃ তার পিতা হলেন খতীব শিহাবউদ্দীন আবু হাফস উমর ইবন কাসীর। তিনি বসবাস করতেন বুসরা নগরীর পশ্চিমে অবস্থিত ‘শারকাবীন’ গ্রামে। বসরা ও শারকাবীনের দূরত্ব খুবই সামান্য। খতীব শিহাবউদ্দীন ৬৪০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতুল গোত্র বনু উকবায় তিনি বিদ্যার্জনে ব্রতী হন। তিনি চমৎকার কবিতা লিখতেন। বুসরার আন্নাকা অঞ্চলের বিদ্যালয়সমূহে তিনি লেখাপড়া করেন। তারপর বুসরার পূর্বদিকে অবস্থিত খিতাবা জনপদে চলে যান। তিনি শাফিঈ মাযহাব অবলম্বন করেন এবং ইমাম নওয়াবী ও ইমাম গাযারীর নিকট বিদ্যা শিক্ষা করেন। তিনি সেখানে প্রায় ১২ বছর অবস্থান করেন। এরপর ফিরে আসেন ‘মিজদাল’-এ। এখানে তার বিবাহ হয়। আবদুল ওহহাব, আবদুল আযীয ও ইসমাঈল নামক তিন পুত্রের জন্মের পর তার কয়েকজন কন্যা সন্তানও জন্মগ্রহণ করে। এছাড়া ইউনুস ও ইদ্রীস নামক দুই পুত্রও জন্মগ্রহণ করে। ইবন কাসীরের পিতার একটি প্রসিদ্ধ জীবনালেখ্য 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।৪৫ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ১৪, পৃঃ ৩৩।] ৭০৩ হিজরীতে মুজায়দিলে ইবন কাছীরের পিতার ইতিকাল হয়। তখন ইসমাঈল-এর বয়স প্রায় তিন বছর।