hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ম খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

ইবন কাসীর (র)-এর বিলুপ্ত রচনাবলী

ইবন কাসীর (র)-এর যে সকল রচনা আমরা পাইনি কিন্তু তাঁর গ্রন্থাদিতে কিংবা পূর্ববর্তী যুগের লেখকদের গ্রন্থে সেগুলোর নাম পাওয়া যায় তার কতকগুলোর কথা আমরা নিম্নে উল্লেখ করছিঃ

(১০) আত তাকমীল ফী মারিফাতিস সিকাতি ওয়াদ দুআ’ফা ওয়াল মাজাহীল

হাদীসের বর্ণনাকারিগণ সংক্রান্ত ৫ খণ্ডে সমাপ্ত এ-গ্রন্থটিতে তিনি তাঁর শায়খ ‘মিযযী’-এর ‘তাহযীবুল কামাল’ এবং আল্লামা যাহাবী-এর মীযানুল ইতিদাল’ গ্রন্থদ্বয় একত্র করেছেন। তিনি নিজে হাদীস বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত অতিরিক্ত কিছু তথ্যও এতে সংযোজন করেছেন।

নিম্নে বর্ণিত গ্রন্থসমূহে আলোচ্য গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছেঃ

(ক) হাজী খলীফা রচিত কাশফুযযুনূন, খঃ ১, পৃঃ ৪৭১

(খ) দাউদী রচিত তাবাকাতুল মুফাসসেরীন, খঃ ১, পৃঃ ১১০

(গ) আল্লামা সুয়ূতী রচিত যায়লু তাযকিরাতিল হুফফাজ, পৃঃ ৫৮।

(১১) আল কাওয়াকিবুদ দারারী ফীত তারীখ

এটি জীবন চরিত বিষয়ক গ্রন্থ। 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ থেকে এটি সংকলিত। হাজী খলীফা তাঁর 'কাশফুজ জুনুন’ গ্রন্থে আলোচ্য গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৫২১ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ করেছেন।

(১২) সীরাতুশ শায়খায়ন

এ গ্রন্থে তিনি হযরত আবু বকর (রা)-এর খিলাফত প্রাপ্তি, তার মর্যাদা ও আচার-আচরণের বিষয় উল্লেখ করেছেন। এরপর উল্লেখ করেছেন হযরত উমর ফারুক (রা)-এর জীবন, কর্ম ও অন্যান্য বিষয়। তারা দুজনে নবী করীম (সা) থেকে যে সকল হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেগুলোও তিনি এ গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। ফলে গ্রন্থটি হয়েছে তিনখণ্ড বিশিষ্ট।

নিম্নে বর্ণিত গ্রন্থগুলোতে আলোচ্য গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়ঃ

(ক) আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খঃ ৭, পৃঃ ১৮।

(খ) আল্লামা সুয়ূতী রচিত যায়লু তাযকিরাতিল হুফফাজ, পৃঃ ৩৬১।

(১৩) আল ওয়াদিহুন নাফীস ফী মানাকিবিল ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইদরীস

এ গ্রন্থটি মানাকিবিশ শাফি’ঈ’ নামে প্রসিদ্ধ।

নিম্নে বর্ণিত গ্রন্থগুলোতে এর উল্লেখ রয়েছেঃ

(ক) হাজী খলীফা রচিত কাশফুজ জুনুন, খঃ ২, পৃঃ ১৮৪০।

(খ) আদ দাউদী রচিত ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরীন’ খঃ ১, পৃঃ ১১১।

(১৪) কিতাবুল আহকাম

এটি একটি বিরাট গ্রন্থ। তিনি এটি সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। হজ্জ অধ্যায় পর্যন্ত রচনা করেছিলেন। “আল-আহকামুস সুগরা ফীল হাদীস” নামেও এটির উল্লেখ পাওয়া পায়। হাজী খলীফা রচিত 'কাশফুজ জুনুন’ গ্রন্থের ১ম খণ্ডে ৫৫০ পৃষ্ঠায় এ গ্রন্থটির উল্লেখ পাওয়া যায়।

(১৫) আল আহকামুল কবীরা

নিম্নলিখিত গ্রন্থাদিতে এ গ্রন্থের আলোচনা রয়েছেঃ

(ক) ইবন কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ৩, পৃঃ ২৫৩।

(খ) আদ দাউদী তাবাকাতুল মুফাসসিরীন, খঃ ১, পৃঃ ১১০, ১১১।

(১৬) তাখরীজু আহাদীসি আদিল্লাতিৎ তানবীহ ফী ফুরুইশ শাফি’ঈয়্যা

নিম্নোক্ত গ্রন্থাদিতে এ গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়ঃ

(ক) ইবন কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ২, পৃঃ ১২৫।

(খ) আল বাগদাদী, হিদায়াতুল আরেফীন, খঃ ১, পৃঃ ২১৫।

(১৭) ইখতিসারু কিতাবি আল মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান লিল বায়হাকী

এর সারসংক্ষেপ। ইবন কাসীর (র) রচিত “ইখতিসার উলুমিল হাদীস" গ্রন্থের ৪র্থ পৃষ্ঠায় উল্লেখ পাওয়া যায়।

(১৮) শারহু সহীহ আল-বুখারী

তিনি এটি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেন নি। নিম্নে বর্ণিত গ্রন্থগুলোতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়ঃ

(ক) ইবন কাসীর (র) রচিত 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’, খঃ ৩, পৃঃ ৩। (খ) প্রাগুক্ত খঃ ১১, পৃঃ ৩৬।

(গ) হাজী খলীফা রচিত 'কাশফুজ জুনুন’ খঃ ১, পৃঃ ৫৫০।

(ঘ) আদ দাউদী, তাবাকাতুল মুফাসৃসিরীন, খঃ ১, পৃঃ ১১০-১১১।

(১৯) আস-সিমাত

হাজী খলীফা রচিত কাশফুজ জুনুন গ্রন্থের ২য় খণ্ডে ১০০২ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। উপরোল্লেখিত পরিশিষ্ট, ভাষ্য গ্রন্থ, সারসংক্ষেপ এবং সংকলনগুলোর পাশাপাশি ইবন কাসীর (র)-এর একটি কাব্য গ্রন্থেরও সন্ধান পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। এটি সংকলন ও ব্যাখ্যা করা জরুরী। অদূর ভবিষ্যতে একাজ সম্পন্ন করার হিম্মত ও তাওফীক যেন আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে দান করেন।

তার কবিতার নমুনাঃ

تمر بنا الايام تتري وانما - نساق الي الاجال والعين تنظر

দিন যাচ্ছে অবিরাম আর আমরা আহা

নীত হচ্ছি মৃত্যুর দিকে চক্ষু দেখিছে তাহা।

فلا عائد ذاك الشباب الذي مضى - ولا زائل هذا المشيب المكدر

অতীত যৌবন আসবে না ফিরে কভু এ জীবনে

জরাজীর্ণ এই বার্ধক্য যাবে না সরে কোনক্ষণে।