hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ম খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

(৩) তার শিক্ষকবৃন্দ

ইবন কাসীর (র) প্রখর মেধাশক্তির অধিকারী ছিলেন। দশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি কুরআন মজীদ কণ্ঠস্থ করে নিয়েছিলেন। শায়খ নূরুদ্দীন আলী ইবন ইবনুহীজা কুরকী শাওবাকী দিমাশকী শাফিঈ (মৃত্যুঃ ৭৩০ হিঃ)-এর ওফাত উপলক্ষে ইবন কাছীর (র) লিখেছেন, “কুরআন হিফজ ও কিতাব অধ্যয়নে তিনি আমাদের সহপাঠী ছিলেন। আমি ৭১১ হিজরীতে কুরআন খতম করি।’৪৭ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃ ১৫৬, ৩২৬।]

শত শত শায়খের নিকট তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। তবে তিনি যাদের দ্বারা প্রভাবিত হন এবং যাদের তিনি অনুসরণ করেন তাদের সংখ্যা খুবই অল্প ছিল। এদের মধ্যে শায়খ তকী উদ্দীন ইবন তাইমিয়া সর্বাগ্রগণ্য। কারণ তাঁর সাথে ইবন কাছীর (র)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ইবন কাসীর তার অভিমত অনুসরণ করতেন এবং তালাকের মাসআলায় তার মতানুযায়ী ফতোয়া দিতেন। এ ব্যাপারে তিনি বিপদেও পড়েছিলেন এবং কষ্টও ভোগ করেছেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে ইবন কাসীর (র)-এর লিখিত তথ্য সূত্রে আমরা তা জানতে পারি। হিজরী ৮ম শতাব্দীর প্রথমার্ধের বড় বড় ঘটনার বর্ণনায় এ তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ইতিহাস শাস্ত্রে তিনি সিরিয়ার ইতিহাসবিদ কাসিম ইবন মুহাম্মদ বিরলী (মৃত্যু ৭৩৯ হিঃ) দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। কাসিম ইবন মুহাম্মদ (র)-এর ইতিহাস গ্রন্থ যা মূলত শায়খ শিহাবুদ্দীন আবু শামা মাকদেসী-এর ইতিহাস গ্রন্থের পরিশিষ্ট। ইবন কাসীরের ইতিহাস গ্রন্থে উপরোল্লেখিত গ্রন্থের সবিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

হাদীস শাস্ত্রে তার উপর প্রভাব বিস্তার করেছেন শায়খ মিযযী ইউসুফ ইবন আবদুর রহমান জামালুদ্দীন (মৃত্যু ৭৪৪ হিঃ)। তিনি সে যুগে গোটা মিসরে স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন। 'তাহযীবুল কামাল’ গ্রন্থটি তাঁর রচিত। ইবন কাছীর (র) শায়খ 'মিযযী’-এর অধিকাংশ গ্রন্থ তাঁর কাছে অধ্যয়ন করেন। ইবন কাসীর (র) উক্ত শায়খের এতই ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য অর্জন করেছিলেন যে, শায়খের কন্যা ‘যায়নাব’কে তিনি বিবাহ করেন। তিনি হাদীসশাস্ত্র ও রাবীদের জীবনী সম্পর্কে শায়খ মিযযী থেকে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন।৪৮ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ২০৩, ২০৪। ইবন হাজর, আদদুরারুল কামিনা, খঃ ৪, পৃঃ ৪৫৭।] তিনি অংক শাস্ত্রের শিক্ষা গ্রহণ করেন উস্তাদ ‘হাযরী’ থেকে।৪৯ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ১৫৬।]

ইবন কাসীর (র)-এর আরো কতিপয় শিক্ষক

(১) জনাব ইজুদ্দীন আবু ইয়া’লা, হামযা ইবন মুআইয়িদুদ্দীন আবুল মা’আলী, আস’আদ ইবন ইজ্জুদ্দীন আবু গালিব মুযাফফর ইবনুল ওযীর আত তামীমী দামেশকী ইবনুল কালানসী (মৃঃ ৭২৯ হিঃ)। ইনি মুহাদ্দিস ছিলেন। নেতৃত্বের গুণাবলীও তাঁর মধ্যে ছিল। ৭১০ হিজরী সনে তিনি মন্ত্রীত্ব লাভ করেছিলেন।৫০ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃঃ ১৫৩।]

(২) ইব্রাহীম ইবন আবদুর রহমান গাযারী। ইবন কাসীর (র) তাঁর নিকট শাফিঈ মাযহাবের দীক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ তাঁর কাছে অধ্যয়ন করেন।৫১ [ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ ১৪, পৃষ্ঠা ১৫২।]

(৩) নাজমুদ্দীন ইবনুল আসকালানী (র)। ৯টি মজলিসে ইবন কাসীর (র) তাঁর নিকট সহীহ মুসলিম অধ্যয়ন করেন।

(৪) শিহাবুদ্দীন আলহিজার ওরফে ইবন শাহনা। আশরাফিয়া দারুল হাদীসে তিনি হাদীসের প্রায় ৫০০টি পুস্তিকা( جزء ) অধ্যয়ন করেন। ৭৩০ হিজরীতে তাঁর ইনতিকাল হয়। তার নাম ছিল আহমদ ইবন আবু তালিব।

(৫) কামালুদ্দীন ইবন কাযী শাহবাহ্, তাঁর নিকট ইবন হাজিব রচিত উসূল বিষয়ক গ্রন্থ ‘মুখতাসার’ পাঠ করেন।

(৬) শায়খ নাজমুদ্দীন মূসা ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ জীলী দামেশকী। ইনি বিদগ্ধ জ্ঞানীজন এবং লেখক ছিলেন। ইবনুল বাসীস নামে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। লিপি বিদ্যায় উস্তাদ এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞ বলে তিনি বিবেচিত হতেন। ৭১৬ হিজরী সনে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৭) শায়খ হাফিজ ও ইতিহাসবিদ শামসুদ্দীন যাহাবী মুহাম্মদ ইবন আহমদ কায়মায- তাঁর নিকটও তিনি শিক্ষা লাভ করেন। ৭৪৮ হিজরী সনে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৮) নাজমুদ্দীন মূসা ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ, তিনি একাধারে শায়খ এবং উচ্চমানের কবি ছিলেন। ৭১৬ হিজরীতে তিনি ইনতিকাল করেন।

(৯) কাসিম ইবন আসাকির, ইবন শীরাযী, ইসহাক আসাদী মিসর থেকে তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন আবু মূসা কুরাফী এবং আবুল ফাতাহ্ দারূসী।