hadith book logo

মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে অতিরঞ্জনকারীদের অবস্থান

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা অনুযায়ী আখেরাতে আল্লাহ তা‘আলার দর্শন লাভকে মিথ্যা মনে করা, চরমপন্থীদের দুনিয়াতে স্বচক্ষে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাওয়ার দাবীকে সত্য বলে মনে করা, এ দু’টির মাঝামাঝি রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার দীন। এ দু’টি আক্বীদাই বাতিল। এসব লোকদের কারো কারো দাবী যে, সে পৃথিবীতে স্বচক্ষে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখেছে। এরাও পূর্ববর্তী লোকদের ন্যায় পথভ্রষ্ট। যদি তারা কোনো সত্যপরায়ণ ব্যক্তি অথবা সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তি বা রাষ্ট্র প্রধান কিংবা অন্য কোনো ধরণের মানুষের আকৃতিতে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখার দাবি করে, তাহলে তাদের পথভ্রষ্টটা ও কুফুরী আরো মারাত্মক হবে। তখন তারা ঐসব খ্রিস্টানদের থেকেও অধিক পথভ্রষ্ট যারা দাবী করেছিল যে, তারা আল্লাহ তা‘আলাকে ঈসা ইবন মারইয়ামের আকৃতিতে দেখেছে।

এরা হলো শেষ জামানার দজ্জালের অনুচর পথভ্রষ্ট-কারীর চেয়েও নিকৃষ্ট ও অধিক গোমরাহ। দাজ্জাল মানুষকে বলবে আমি তোমাদের রব, সে আসমানকে নির্দেশ দিবে, অতঃপর বৃষ্টি প্রবাহিত হবে এবং যমীনকে নির্দেশ দিবে, অতঃপর সুজলা-সুফলা ফসল উৎপাদিত হবে। সে অনাবাদী যমীনকে বলবে তোমার ভিতর প্রোথিত সম্পদ বের করে দাও সঙ্গে সঙ্গে যমীন তা বের করে দিবে। এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাতিকে দজ্জাল বিষয়ে সতর্ক করে গেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«ما من خلق آدم إلى يوم القيامة فتنة أعظم من الدجال»

“আদম সৃষ্টি থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত এই সবুজ শস্য শ্যামল পৃথিবীতে যত ফিতনার ঘটনার অবতারণা হবে তার মধ্যে দজ্জালের ঘটনাই হবে সবচেয়ে বড় ফিতনা”। [তাবরানী, আওসাতে কবীর, হাদীস নং ৩৩৬]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,

«إذا جلس أحدكم في الصلاة فليستعذ بالله من أربع، ليقل : اللهم إني أعوذبك من عذاب جهنم، وأعوذبك من عذاب القبر، وأعوذبك من فتنة المحيا والممات، وأعوذبك من فتنة المسيح الدجال»

“তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাতের সমাপনী বৈঠকে বসে তখন সে যেন চারটি বিষয় থেকে মুক্তির জন্যে আশ্রয় চেয়ে বলে, হে আল্লাহ তা‘আলা! আমি জাহান্নামের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করছি, কবরের সাজা হতে নিষ্কৃতির জন্যে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, জীবন ও মরণের পরীক্ষার বিষয়ে আশ্রয় চাচ্ছি এবং মাসীহ দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে বাঁচার জন্যে তোমার দরবারে আশ্রয় ভিক্ষা করছি”।

এ দাজ্জাল রুবুরিয়্যাহ দাবী করবে এবং কিছু সংশয় বিষয় নিয়ে আসবে যদ্বারা মানুষকে পরীক্ষায় ফেলবে। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা ও আল্লাহ তা‘আলার দাবীদার দাজ্জালের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إنه أعور، وإن ربكم ليس بأعور»

“জেনে রাখ! দাজ্জাল হবে কানা, আর তোমাদের রব কানা নন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৩৭]

তিনি আরো বলেছেন, তোমরা ভালোভাবে জেনে রেখ! তোমাদের মধ্যে কেউই কখনই মৃত্যুর পূর্বে তার আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে না”। উম্মতের জন্যে উপরোক্ত দু’টি প্রকাশ্য আলামত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। মানুষ সে দু’টি চিহ্নের মাধ্যমে মিথ্যা আল্লাহ তা‘আলা দাবীদার দাজ্জালকে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, দাজ্জালের পরীক্ষায় কিছু মানুষ পথভ্রষ্ট হবে তারা দুনিয়াতে মানুষের আকৃতিতে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখা জায়েয বলবে। যেমন, ঐসব বিভ্রান্তকারী পথভ্রষ্ট যাদের নাম করা হয় সর্বেশ্বর-বাদী ও অদ্বৈতবাদী। (তারা প্রধানত এ দু’টি ভাগে বিভক্ত। এ প্রকৃতির লোকেরা আল্লাহ তা‘আলাকে কতিপয় বস্তুর মধ্যে সর্বেশ্বর ও অদ্বৈতবাদ মনে করে। [অনুবাদক])