hadith book logo

মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত বিবাদ বিষয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা:

তদ্রƒপ সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বনের প্রতি আমরা ঈমান পোষণ করি। আমরা আরো অবগত আছি যে, এ মর্মে বর্ণিত বহু কথা আছে যা বানোয়াট। আর কিছু ছিল ইজতিহাদী বিষয়। কারণ সাহাবায়ে কেরাম মুজতাহিদ ছিলেন। আর ইজতিহাদে (শরী‘আত গবেষণায়) সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য তাদের জন্য রয়েছে দু’টি পুরষ্কার আর ভুল হলে একটি পুরস্কার যা তাদের সৎকর্মে পরিণত হবে। ভুলের জন্য তারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন। মহান আল্লাহ তা‘আলার রহমতে তাদের পাপসমূহের ওপর তাদের পুণ্যসমূহ অগ্রবর্তী হবে। মহান আল্লাহ তা‘আলা তাওবা, বিশেষ পুণ্যাবলী, পাপ বিমুক্ত হওয়ার বিপদ-আপদ বা অন্য কোনো কিছু দ্বারা তাদের পাপকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ, তারা এ উম্মতের স্বর্ণ যুগের অধিবাসী। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«خير القرون قرني الذي بعثت فيهم، ثم الذين يلونهم»

“সবচেয়ে উত্তম যুগ সেই যুগ যে যুগের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তার পরবর্তী যুগ”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৩৩]

এ উম্মতই হলো শ্রেষ্ঠতম উম্মত। মানুষের কল্যাণের জন্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

এতদসত্ত্বেও জানা যায় যে, মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও তার সহযোগী যুদ্ধ বাহিনীর চেয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উত্তম ও অধিক সত্যের নিকটবর্তী ছিলেন। যেমন, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

«تمرق مارقة على حين فرقة من المسلمين تقتلهم أدنى الطائفتين إلى الحق»

“মুসলিমদের মধ্য হতে একটি দল বের হয়ে যাবে। দু’দলের মধ্যে যেটি হকের বেশি কাছাকাছি সেটিকে তারা হত্যা করবে।” এ হাদীস প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদমূলক সকল দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তার প্রকৃষ্ট দলীল। আর আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছিলেন হকের অধিক নিকটবর্তী”।

পক্ষান্তরে সা‘আদ ইবন আবী ওক্কাছ, ইবন উমারসহ অনেকে ফিতনার মধ্যে কোনো একদলে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে বসে ছিলেন। তারা ফিতনার যুগে সশস্ত্র যুদ্ধ হতে বিরত থাকার অকাট্য দলীলসমূহ গ্রহণ করেছিলেন। অধিকাংশ আহলে হাদীস ও আহলে ইলম এর ওপরই সু-প্রতিষ্ঠিত।