hadith book logo

মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন:

যেমন,

কিবলা, কুরবানি বা ইবাদতপদ্ধতি, জীবন-ব্যবস্থা, সঠিক পথ প্রভৃতি। যেমন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারিত সংখ্যায় সময়মত আদায় করা, কিরাত পড়া, রুকু ও সাজদাহ করা, কিবলা তথা বায়তুল্লাহিল হারামের দিকে মুখ ফিরানো।

এ ব্যাপারে আরো দৃষ্টান্ত: ফরয যাকাত ও তার পরিমাণ যা তিনি মুসলিমদের বিভিন্ন সম্পদের মধ্যে ফরয করেছেন। যথা গবাদি পশু, শস্য, ফলমূল, ব্যবসায়ীক পণ্য, স্বর্ণ, রূপা প্রভৃতি। আর যারা যাকাতের মালের হকদার। সে প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন-

﴿إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡعَٰمِلِينَ عَلَيۡهَا وَٱلۡمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمۡ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلۡغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۖ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ ٦٠ ﴾ [ التوبة : ٦٠ ]

“সদকা হলো ফকীর, মিসকীন ও সদকা (আদায়ের) জন্যে নিযুক্ত কর্মচারী এবং যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, আর গোলামদের আযাদ করার কাজে ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আর জিহাদে আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে। এ হুকুম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ তা‘আলা মহাজ্ঞানী ও অতি প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০]

অনুরূপ শরী‘আতের বিধি-বিধানের আরো দৃষ্টান্ত হলো, রমযান মাসের সওম পালন, বায়তুল্লাহিল হারামের হজ সম্পাদন করা। আর ঐসব নিয়ম কানুন ও সীমারেখা যা আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জন্যে বিবাহ, মিরাস, শাস্তি, ক্রয়-বিক্রয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর ঐসব সুন্নাহসমূহ যা তিনি ‘ঈদ, জুমু‘আ, ফরয সালাতের জামা‘আত এবং কুসূফ, ইসতিসকা, জানাযা ও তারাবীর সালাতে সুন্নাত হিসাবে বিধিবদ্ধ করেছেন।

আর শরী‘আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত: যা তিনি অভ্যাগত রীতি বলে সাব্যস্ত করেছেন। যথা: খাদ্য গ্রহণ, পোশাক পরিধান, জন্ম-মৃত্যু বিষয়ক কার্যাবলী, শিষ্টাচার ইত্যাদি। আর ঐসব আহকাম যেগুলো তাদের মধ্যে আল্লাহ ও তার রাসূলেরই বিধান বলে বিবেচিত। যেমন খুন-খারাবী, আত্মসাৎ, বিবাহ-সাদি, লাভ লোকসান ইত্যাদির বিধান, যা আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য তার নবীর জবানে উম্মতের জন্য প্রচলন করেছেন।