১
মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
নবী ও রাসূলদের তাওহীদ:
আল্লাহ তা‘আলা তার নবী ও রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। তিনি আল্লাহকে বাদ দিয়ে কাউকে ডাকতে নিষেধ করেছেন, ইবাদতের ডাকও নয় এবং সাহায্যেরও নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِهِۦ فَلَا يَمۡلِكُونَ كَشۡفَ ٱلضُّرِّ عَنكُمۡ وَلَا تَحۡوِيلًا ٥٦ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ يَبۡتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ ٱلۡوَسِيلَةَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ وَيَرۡجُونَ رَحۡمَتَهُۥ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُۥٓۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحۡذُورٗا ٥٧﴾ [ الاسراء : ٥٦، ٥٧ ]
“বল, ‘তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, (তাদেরকে আহ্বান করলেও দেখবে) তারা তোমাদের দুঃখ-বেদনা দূর করতে বা পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়। তারা যাদেরকে আহবান করে তারা নিজেরাই তো তাদের ‘রব’-এর নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটবর্তী হতে পারে, তার দয়া প্রত্যাশা করে ও তার শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের শাস্তি ভয়াবহ”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৫৬-৫৭]
পূর্বসূরি এক দল জ্ঞানী বলেন, প্রাচীনকালে কিছু লোক ছিল যারা মাসীহ, উযাইর ও ফিরিশতামণ্ডলীকে ডাকত, আল্লাহ তা‘আলা তাদের বলেন, তোমরা যেমন আমার নিকট নৈকট্য চাও, তোমরা যাদেরকে ডাকছ তারাও তেমনি আমার নৈকট্য চাইত, তোমরা যেমন আমার রহমত চাও তারাও আমার নিকট রহমত চাইত। তোমরা যেমন আমার আযাবকে ভয় কর তারাও আমার আযাবকে ভয় করত। আল্লাহ তা‘আলা এদের প্রসঙ্গে বলেন,
﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَمۡلِكُونَ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا لَهُمۡ فِيهِمَا مِن شِرۡكٖ وَمَا لَهُۥ مِنۡهُم مِّن ظَهِيرٖ ٢٢ وَلَا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ عِندَهُۥٓ إِلَّا لِمَنۡ أَذِنَ لَهُۥۚ ٢٣﴾ [ سبا : ٢٢، ٢٣ ]
“বল, তোমরা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে যাদেরকে ইলাহ মনে করতে তাদেরকে আহবান কর। তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনুপরিমাণও কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দু’য়ে তাদের কোনোও অংশ নেই, আর তাদের কেউ আল্লাহর সাহায্যকারীও নয়। যাকে অনুমতি দেওয়া হয় সে ছাড়া আল্লাহ তা‘আলার নিকট কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না”। [সূরা সাবা, আয়াত: ২২-২৩]
মহান পবিত্র আল্লাহ অবহিত করছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন শক্তিকে ডাকা হচ্ছে যাদের আল্লাহ তা‘আলার রাজত্বে অনুপরিমাণ ক্ষমতা ও অংশীদারীত্ব নেই, সৃষ্টি বিষয়ে তাদের কোনো ক্ষমতাও নেই যার দ্বারা সাহায্য করবে। আর আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া তারা নিকট কারো সুপারিশ উপকারে আসবে না।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيًۡٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦﴾ [ النجم : ٢٦ ]
“আকাশসমূহে কত ফিরিশতা রয়েছে। তাদের কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না যতক্ষণ আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেবেন”। [সুরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿أَمِ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَۚ قُلۡ أَوَلَوۡ كَانُواْ لَا يَمۡلِكُونَ شَيۡٔٗا وَلَا يَعۡقِلُونَ ٤٣ قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعٗاۖ لَّهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٤٤﴾ [ الزمر : ٤٢، ٤٣ ]
“তারা কি আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে (অন্যদেরকে নিজেদের মুক্তির জন্য) সুপারিশকারী বানিয়ে নিয়েছে? বল, তারা কোনো কিছুর মালিক না হওয়া সত্ত্বেও এবং তারা না বুঝলেও? বল, যাবতীয় সুপারিশ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহ তা‘আলারই। অতঃপর তারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪৩-৪৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِۚ قُلۡ أَتُنَبُِّٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ ١٨﴾ [ يونس : ١٨ ]
“আর তারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন বস্তুসমূহের ইবাদাত করে যারা তাদের কোনো অপকারও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে এরা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার নিকট আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ তা‘আলাকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি অবগত নন, না আকাশ সমূহে, আর না জমিনে? তিনি পবিত্র এবং তাদের মুশরিকী কার্যকলাপ হতে অনেক ঊর্ধ্বে”। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮]
﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِهِۦ فَلَا يَمۡلِكُونَ كَشۡفَ ٱلضُّرِّ عَنكُمۡ وَلَا تَحۡوِيلًا ٥٦ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ يَبۡتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ ٱلۡوَسِيلَةَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ وَيَرۡجُونَ رَحۡمَتَهُۥ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُۥٓۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحۡذُورٗا ٥٧﴾ [ الاسراء : ٥٦، ٥٧ ]
“বল, ‘তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, (তাদেরকে আহ্বান করলেও দেখবে) তারা তোমাদের দুঃখ-বেদনা দূর করতে বা পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়। তারা যাদেরকে আহবান করে তারা নিজেরাই তো তাদের ‘রব’-এর নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটবর্তী হতে পারে, তার দয়া প্রত্যাশা করে ও তার শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের শাস্তি ভয়াবহ”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৫৬-৫৭]
পূর্বসূরি এক দল জ্ঞানী বলেন, প্রাচীনকালে কিছু লোক ছিল যারা মাসীহ, উযাইর ও ফিরিশতামণ্ডলীকে ডাকত, আল্লাহ তা‘আলা তাদের বলেন, তোমরা যেমন আমার নিকট নৈকট্য চাও, তোমরা যাদেরকে ডাকছ তারাও তেমনি আমার নৈকট্য চাইত, তোমরা যেমন আমার রহমত চাও তারাও আমার নিকট রহমত চাইত। তোমরা যেমন আমার আযাবকে ভয় কর তারাও আমার আযাবকে ভয় করত। আল্লাহ তা‘আলা এদের প্রসঙ্গে বলেন,
﴿قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَمۡلِكُونَ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا لَهُمۡ فِيهِمَا مِن شِرۡكٖ وَمَا لَهُۥ مِنۡهُم مِّن ظَهِيرٖ ٢٢ وَلَا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ عِندَهُۥٓ إِلَّا لِمَنۡ أَذِنَ لَهُۥۚ ٢٣﴾ [ سبا : ٢٢، ٢٣ ]
“বল, তোমরা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে যাদেরকে ইলাহ মনে করতে তাদেরকে আহবান কর। তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনুপরিমাণও কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দু’য়ে তাদের কোনোও অংশ নেই, আর তাদের কেউ আল্লাহর সাহায্যকারীও নয়। যাকে অনুমতি দেওয়া হয় সে ছাড়া আল্লাহ তা‘আলার নিকট কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না”। [সূরা সাবা, আয়াত: ২২-২৩]
মহান পবিত্র আল্লাহ অবহিত করছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন শক্তিকে ডাকা হচ্ছে যাদের আল্লাহ তা‘আলার রাজত্বে অনুপরিমাণ ক্ষমতা ও অংশীদারীত্ব নেই, সৃষ্টি বিষয়ে তাদের কোনো ক্ষমতাও নেই যার দ্বারা সাহায্য করবে। আর আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া তারা নিকট কারো সুপারিশ উপকারে আসবে না।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيًۡٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦﴾ [ النجم : ٢٦ ]
“আকাশসমূহে কত ফিরিশতা রয়েছে। তাদের কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না যতক্ষণ আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেবেন”। [সুরা আন-নাজম, আয়াত: ২৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿أَمِ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَۚ قُلۡ أَوَلَوۡ كَانُواْ لَا يَمۡلِكُونَ شَيۡٔٗا وَلَا يَعۡقِلُونَ ٤٣ قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعٗاۖ لَّهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٤٤﴾ [ الزمر : ٤٢، ٤٣ ]
“তারা কি আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে (অন্যদেরকে নিজেদের মুক্তির জন্য) সুপারিশকারী বানিয়ে নিয়েছে? বল, তারা কোনো কিছুর মালিক না হওয়া সত্ত্বেও এবং তারা না বুঝলেও? বল, যাবতীয় সুপারিশ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহ তা‘আলারই। অতঃপর তারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪৩-৪৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِۚ قُلۡ أَتُنَبُِّٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ ١٨﴾ [ يونس : ١٨ ]
“আর তারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া এমন বস্তুসমূহের ইবাদাত করে যারা তাদের কোনো অপকারও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে এরা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার নিকট আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ তা‘আলাকে এমন বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি অবগত নন, না আকাশ সমূহে, আর না জমিনে? তিনি পবিত্র এবং তাদের মুশরিকী কার্যকলাপ হতে অনেক ঊর্ধ্বে”। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৮]