১
মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
যারা সাহাবীগণের গাল দেয় তাদের শাস্তি:
অতঃপর যখন রাফিদ্বী সম্প্রদায় সাহাবীগণের গালি গালাজ শুরু করল, তখন আলেমগণ সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যারাই সাহাবীগণকে গালি দিবে তাদেরকেই শাস্তি প্রদান করতে হবে। তারপরও রাফেদ্বী সম্প্রদায় সাহাবীগণকে কাফির বলা ছাড়াও আরও বহু বাড়াবাড়ি করেছে। আমি ইতোপূর্বে বহু স্থানে তার উল্লেখ করেছি এবং ঐ কাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শর‘ঈ বিধানও বর্ণনা করেছি। সে সময় ইয়াযিদ ইবন মু‘আবিয়ার বিষয়ে কেউই কোনো কথা উপস্থাপন করে নি। তার বিষয়টি দীনী কোনো আলোচনার বিষয়ও ছিল না। পরবর্তীতে তার বিষয়ে বহু কাল্পনিক ইতিহাস রচনা করা হয়েছে। কোনো কোনো দল তাকে প্রকাশ্যে অভিসম্পাত প্রদান করেছে। হয়তো এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্যদের অভিশাপের দরজা খুলে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত কাউকে নির্দিষ্টভাবে অভিসম্পাত করা কখনো পছন্দ করেন নি। সুন্নতের প্রতি আজ্ঞাবহ কতক মুসলিম (আহলে সুন্নাত কর্তৃক) লা‘নত না করার বিষয়টি জানতে পেরে মনে করল ইয়াযিদ ছিল অনেক বড় নেককার ও হিদায়েতের বিশেষ ইমাম। (অথচ এটা তাদের ভুল ধারণা)
বস্তুত ইয়াযিদের বিষয়ে দুই দিক থেকে বিপরীত মুখী বাড়াবাড়ি করা হয়েছে অর্থাৎ একদল তার সম্পর্কে বলে, কাফির, দীন-চ্যুত মুরতাদ। কারণ, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতীকে হত্যা করেছে, তার নানা উত্বাহ ইবন রাবী‘আহ ও তার মামা ওয়ালিদসহ যাদেরকে কাফির মনে করে হত্যা করা হয়েছিল তাদের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তিনি আনসার ও তার বংশধরকে হাররা নামক স্থানে হত্যা করেছে, প্রকাশ্য মদ খাওয়া, দিবালোকে গর্হিত কার্যাবলী সম্পাদন সহ নানা অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
পক্ষান্তরে প্রশংসাকারীগণ বিশ্বাস করেন যে, তিনি সুপথ প্রাপ্ত পথ প্রদর্শক ন্যায়পরায়ণ নেতা ছিলেন। তিনি সাহাবী বা শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীগণের অন্যতম একজন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার ওলীদের বিশেষ একজন। কখনো কখনো কেউ এও বিশ্বাস করতো যে তিনি নবীদের একজন ছিলেন। তারা আরো বলেছেন যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বিরত রাখবেন।
তারা শাইখ হাসান ইবন আদী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ইয়াজিদ এ রূপ এ রূপ মহাগুণের অধিকারী মহান অলী ছিলেন। যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত হবে তারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে। শাইখ হাসানের সমকালীন ঐসব ভক্তরা মহামান্য শাইখ আদীর মতের বিরুদ্ধে তার ও ইয়াজিদের বিষয়ে তারা বহু ভ্রান্ত কবিতা, বাড়াবাড়িমূলক বহু রচনাবলী তার নামে ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা শাইখ ‘আদি ও ইয়াযিদ বিষয়ে এমন বাড়াবাড়ি করে যা শাইখ ‘আদি যে মতের ওপর ছিলেন তা তার বিরুদ্ধে চলে যায়। তার বিরুদ্ধে যে সব অপবাদ দেওয়া হয়, তা হতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার মধ্যে এ ধরনের কোন বিদ‘আত ছিল না, যার অপবাদ তারা রটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি রাফেজীদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং তাদের রোষানলে পড়েন। তারা শাইখ হাসানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। মুসলিম জাহানে ফিতনার কালো ছায়া নেমে আসে যা আল্লাহ ও তার রাসূল কখনো পছন্দ করেন নি।
এ হলো ইয়াজিদের বিষয়ে দু’দিক থেকে বিপরীতমুখী বাড়াবাড়ির সংক্ষিপ্ত ভাষা চিত্র। ইয়াযিদ সম্পর্কে উভয় পক্ষের পরস্পর বিরোধি এ ধরনের বাড়াবাড়ি মুসলিম সমাজ ও আলিমদের ঐক্যমতের সম্পূর্ণ বিরোধী কার্যকলাপ।
কেননা, ইয়াজিদ ইবন মু‘আবিয়াহ উসমান ইবন ‘আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর খিলাফতে জন্ম গ্রহণ করে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত পান নি। আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী তিনি সাহাবী ছিলেন না। দীন ও যথাযোগ্য কাজের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি মুসলিম যুবকদের একজন একজন ছিলেন। কাফির দীন-চ্যুৎ মুরতাদ ছিলেন না। তার পিতার মৃত্যুর পর কিছু সংখ্যক মুসলিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং কিছু সংখ্যক মুসলিমদের সম্মতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হন। তার ছিল বহু বীরত্ব ও সুমহান বদান্য, তিনি প্রকাশ্য অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন না। যেমন কিছু সংখ্যক বিরুদ্ধবাদীরা বর্ণনা করে থাকে।
বস্তুত ইয়াযিদের বিষয়ে দুই দিক থেকে বিপরীত মুখী বাড়াবাড়ি করা হয়েছে অর্থাৎ একদল তার সম্পর্কে বলে, কাফির, দীন-চ্যুত মুরতাদ। কারণ, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতীকে হত্যা করেছে, তার নানা উত্বাহ ইবন রাবী‘আহ ও তার মামা ওয়ালিদসহ যাদেরকে কাফির মনে করে হত্যা করা হয়েছিল তাদের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তিনি আনসার ও তার বংশধরকে হাররা নামক স্থানে হত্যা করেছে, প্রকাশ্য মদ খাওয়া, দিবালোকে গর্হিত কার্যাবলী সম্পাদন সহ নানা অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
পক্ষান্তরে প্রশংসাকারীগণ বিশ্বাস করেন যে, তিনি সুপথ প্রাপ্ত পথ প্রদর্শক ন্যায়পরায়ণ নেতা ছিলেন। তিনি সাহাবী বা শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীগণের অন্যতম একজন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার ওলীদের বিশেষ একজন। কখনো কখনো কেউ এও বিশ্বাস করতো যে তিনি নবীদের একজন ছিলেন। তারা আরো বলেছেন যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বিরত রাখবেন।
তারা শাইখ হাসান ইবন আদী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ইয়াজিদ এ রূপ এ রূপ মহাগুণের অধিকারী মহান অলী ছিলেন। যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত হবে তারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে। শাইখ হাসানের সমকালীন ঐসব ভক্তরা মহামান্য শাইখ আদীর মতের বিরুদ্ধে তার ও ইয়াজিদের বিষয়ে তারা বহু ভ্রান্ত কবিতা, বাড়াবাড়িমূলক বহু রচনাবলী তার নামে ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা শাইখ ‘আদি ও ইয়াযিদ বিষয়ে এমন বাড়াবাড়ি করে যা শাইখ ‘আদি যে মতের ওপর ছিলেন তা তার বিরুদ্ধে চলে যায়। তার বিরুদ্ধে যে সব অপবাদ দেওয়া হয়, তা হতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার মধ্যে এ ধরনের কোন বিদ‘আত ছিল না, যার অপবাদ তারা রটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি রাফেজীদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং তাদের রোষানলে পড়েন। তারা শাইখ হাসানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। মুসলিম জাহানে ফিতনার কালো ছায়া নেমে আসে যা আল্লাহ ও তার রাসূল কখনো পছন্দ করেন নি।
এ হলো ইয়াজিদের বিষয়ে দু’দিক থেকে বিপরীতমুখী বাড়াবাড়ির সংক্ষিপ্ত ভাষা চিত্র। ইয়াযিদ সম্পর্কে উভয় পক্ষের পরস্পর বিরোধি এ ধরনের বাড়াবাড়ি মুসলিম সমাজ ও আলিমদের ঐক্যমতের সম্পূর্ণ বিরোধী কার্যকলাপ।
কেননা, ইয়াজিদ ইবন মু‘আবিয়াহ উসমান ইবন ‘আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর খিলাফতে জন্ম গ্রহণ করে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত পান নি। আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী তিনি সাহাবী ছিলেন না। দীন ও যথাযোগ্য কাজের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি মুসলিম যুবকদের একজন একজন ছিলেন। কাফির দীন-চ্যুৎ মুরতাদ ছিলেন না। তার পিতার মৃত্যুর পর কিছু সংখ্যক মুসলিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং কিছু সংখ্যক মুসলিমদের সম্মতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হন। তার ছিল বহু বীরত্ব ও সুমহান বদান্য, তিনি প্রকাশ্য অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন না। যেমন কিছু সংখ্যক বিরুদ্ধবাদীরা বর্ণনা করে থাকে।