১
মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
শরী‘আত দ্বিতীয়টির বর্ণনা
দ্বিতীয় বিষয়টি (তথা আল্লাহ তা‘আলা বিশেষভাবে এ উম্মতের জন্য যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হচ্ছে) আল্লাহ তা‘আলা মাদানী সূরাসমূহে তার দীনের যে সব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের জন্য যে সব সুন্নাত প্রচলন করছেন। (যাকে শরী‘আত বলা হয় আর তা শুধু এ উম্মতের জন্য বিশেষভাবে প্রণয়নকৃত)।
কেননা আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর ওপর কিতাব ও হিকমাহ নাযিল করেছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা এ দ্বারা মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ দেখিয়েছেন। আর তিনি তার নবীর স্ত্রীদেরকে কিতাব ও হিকমত নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَأَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمۡ تَكُن تَعۡلَمُۚ﴾ [ النساء : ١١٣ ]
“এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমার প্রতি গ্রন্থ ও হিকমাহ (হাদীস) অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তিনি তাই তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿لَقَدۡ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذۡ بَعَثَ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ﴾ [ ال عمران : ١٦٤ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (হাদীস) শিক্ষা দিচ্ছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَٱذۡكُرۡنَ مَا يُتۡلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱلۡحِكۡمَةِۚ﴾ [ الاحزاب : ٣٤ ]
“আল্লাহর আয়াত ও হিকমাহ (হাদীস) এর কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখবে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৪] [আয়াতে হিকমতের তাফসীরে একাধিক মত পাওয়া যায়। কাতাদাহ বলেন, “হিকমত হলো কুরআন ও সুন্নাহ”। ইমাম শাফে‘ঈ রহ. বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো কুরআন। আর হিকমত উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে যিনি কুরআন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তার থেকে শুনেছি তিনি বলেন, হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ কথাটি একথারই মতো যে, কুরআন হলো যিকির এবং তার সাথেই রয়েছে হিকমত। আর আল্লাহ তা‘আলা তার মাখলুককে কুরআন ও হিকমত শেখানোর মাধ্যমে যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তার আলোচনা করেন। তবে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য এখানে শুধু সুন্নত। কারণ, সুন্নাত আল্লাহর কিতাবের বাহিরে নয় আল্লাহর কিতাবেরই অংশ। আল্লাহ তা‘আলা তার স্বীয় রাসূলের আনগত্য করাকে ফরয করেছেন এবং তার নির্দেশ মানাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং কোন কথা বিষয়ে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফরয তারপর তার রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী। কারণ, আমরা আগেই বলেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকে তার প্রতি ঈমান আনার সাথে একত্র করে দিয়েছেন। দুটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই। রাসূলের সুন্নাত হলো, আল্লাহ তা‘আলা কি বুঝাতে চেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা। আর এটি আল্লাহ তা‘আলা তার মাখলুকের মধ্য থেকে আর জন্য রাখেন নি একমাত্র স্বীয় রাসূল ছাড়া। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: রিসালাতুশ শাফে‘ঈ: ৭৮-৭৯)]
সালফে সালেহীনের অনেকেই বলেছেন, হিকমাহ হলো সুন্নাহ বা হাদীস। কেননা, কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের গৃহে যা পাঠ করা হতো তা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
«ألا وإني أُوتيت الكتاب ومثله معه»
“সাবধান! আমাকে কিতাব ও তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে”। [সুনান আবু দাউদ, ৭/৭, সুনান তিরমিযী, ৪২৬/৭, সুনান ইবন মাজাহ, ৬/১, মুসনাদে আহমাদ।]
হাসসান ইবন আত্বিয়া [তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, ইবাদাতকারী ও ফকীহ। আল্লামা আওযা‘ঈ রহ. বলেন, আমি তার থেকে অধিক ইজতেহাদকারী ও অধিক আমলকারী আর কাউকে পাইনি। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি তার যুগের শ্রেষ্ট যারা তাদের অন্যতম। একশত বিশের পর তিনি মারা যান। তাহযীবুত তাহযীব ২১৯-২২০/২] বলেন, ‘জিবরীল আলাইহিস সালাম যেরূপ কুরআন নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হতেন, তেমনি হাদীস নিয়েও অবতরণ করতেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআনের ন্যায় হাদীসও শিক্ষা দিতেন’।
কেননা আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর ওপর কিতাব ও হিকমাহ নাযিল করেছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা এ দ্বারা মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ দেখিয়েছেন। আর তিনি তার নবীর স্ত্রীদেরকে কিতাব ও হিকমত নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَأَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمۡ تَكُن تَعۡلَمُۚ﴾ [ النساء : ١١٣ ]
“এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমার প্রতি গ্রন্থ ও হিকমাহ (হাদীস) অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তিনি তাই তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿لَقَدۡ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذۡ بَعَثَ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ﴾ [ ال عمران : ١٦٤ ]
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (হাদীস) শিক্ষা দিচ্ছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَٱذۡكُرۡنَ مَا يُتۡلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱلۡحِكۡمَةِۚ﴾ [ الاحزاب : ٣٤ ]
“আল্লাহর আয়াত ও হিকমাহ (হাদীস) এর কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখবে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৪] [আয়াতে হিকমতের তাফসীরে একাধিক মত পাওয়া যায়। কাতাদাহ বলেন, “হিকমত হলো কুরআন ও সুন্নাহ”। ইমাম শাফে‘ঈ রহ. বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো কুরআন। আর হিকমত উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে যিনি কুরআন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তার থেকে শুনেছি তিনি বলেন, হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ কথাটি একথারই মতো যে, কুরআন হলো যিকির এবং তার সাথেই রয়েছে হিকমত। আর আল্লাহ তা‘আলা তার মাখলুককে কুরআন ও হিকমত শেখানোর মাধ্যমে যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তার আলোচনা করেন। তবে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য এখানে শুধু সুন্নত। কারণ, সুন্নাত আল্লাহর কিতাবের বাহিরে নয় আল্লাহর কিতাবেরই অংশ। আল্লাহ তা‘আলা তার স্বীয় রাসূলের আনগত্য করাকে ফরয করেছেন এবং তার নির্দেশ মানাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং কোন কথা বিষয়ে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফরয তারপর তার রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী। কারণ, আমরা আগেই বলেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকে তার প্রতি ঈমান আনার সাথে একত্র করে দিয়েছেন। দুটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই। রাসূলের সুন্নাত হলো, আল্লাহ তা‘আলা কি বুঝাতে চেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা। আর এটি আল্লাহ তা‘আলা তার মাখলুকের মধ্য থেকে আর জন্য রাখেন নি একমাত্র স্বীয় রাসূল ছাড়া। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: রিসালাতুশ শাফে‘ঈ: ৭৮-৭৯)]
সালফে সালেহীনের অনেকেই বলেছেন, হিকমাহ হলো সুন্নাহ বা হাদীস। কেননা, কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের গৃহে যা পাঠ করা হতো তা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
«ألا وإني أُوتيت الكتاب ومثله معه»
“সাবধান! আমাকে কিতাব ও তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে”। [সুনান আবু দাউদ, ৭/৭, সুনান তিরমিযী, ৪২৬/৭, সুনান ইবন মাজাহ, ৬/১, মুসনাদে আহমাদ।]
হাসসান ইবন আত্বিয়া [তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, ইবাদাতকারী ও ফকীহ। আল্লামা আওযা‘ঈ রহ. বলেন, আমি তার থেকে অধিক ইজতেহাদকারী ও অধিক আমলকারী আর কাউকে পাইনি। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি তার যুগের শ্রেষ্ট যারা তাদের অন্যতম। একশত বিশের পর তিনি মারা যান। তাহযীবুত তাহযীব ২১৯-২২০/২] বলেন, ‘জিবরীল আলাইহিস সালাম যেরূপ কুরআন নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হতেন, তেমনি হাদীস নিয়েও অবতরণ করতেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআনের ন্যায় হাদীসও শিক্ষা দিতেন’।