hadith book logo

মহা উপদেশ (‘আদী ইবন মুসাফিরের অনুসারীদের এর কাছে লেখা চিঠি)

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নেককার লোকদের বিষয়ে বাড়াবাড়ি বাড়াবাড়ি ধ্বংসের মূল:

অনুরূপভাবে ধ্বংস ও পথভ্রষ্টতার অন্যতম কারণ হচ্ছে, কতিপয় শাইখের বিষয়ে অতিভক্তি, সীমালঙ্ঘন ও অতি বাড়াবাড়ি করা, চাই তা শাইখ ‘আদী অথবা ইউনুস কানবি, মানছুর হাল্লাজ অথবা অনুরূপ যে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে হোক। এমনকি মহান খলিফা ও বিশিষ্ট সাহাবী আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-র বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও শীর্ষস্থানীয় নবী ঈসা আলাইহিস সালামের বিষয়ে বাড়াবাড়িও একই পর্যায়ভুক্ত।

যে ব্যক্তি কোনো বিশিষ্ট নবী অথবা পুণ্যবান ব্যক্তির ব্যাপারে যেমন আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অথবা ‘আদী অথবা অন্য কেউ, অথবা অনুরূপ কোনো ব্যক্তি যার যাকে নেককার লোক মনে করা হয়, যেমন, হাল্লাজ, মিসরের শাসক হাকিম লি আমরিল্লাহ (তথাকথিত ফাতেমী শাসক), ইউনুস কানাবি অথবা এ ধরনের অন্য যে কোনো মানুষের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করল এবং তার মধ্যে ইলাহ-এর কোনো ক্ষমতা আছে বলে মনে করল। যথাঃ এ কথা বলল যে, উমুক পীর বা শাইখের ইচ্ছা মোতাবেক প্রত্যেক ব্যক্তিকে খাদ্য দেওয়া হয় অথবা বকরী জবাইয়ের সময় বলে আমার নেতার নামে, আমার বাবা ও পীরের নামে জবাই দিলাম অথবা সাজদাহর মাধ্যমে তার বা তার মতো কোনো মাখলুকের ইবাদাত করল অথবা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যকে ডাকল, যেমন এভাবে বলা- হে আমার উমুক অভিভাবক আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি রহম কর, আমাকে সাহায্য কর, আমাকে রিযিক দাও, আমাকে পরিত্রাণ দাও, আমাকে মুক্তি দাও অথবা একথা বলা যে, তোমার ওপরই আমি তাওয়াক্কুল করলাম, তুমিই আমার জন্যে যথেষ্ট অথবা আমি তোমার যথেষ্টতায় অথবা এ ধরনের সব কথা ও কর্ম যেগুলো রবের বৈশিষ্ট্য; আর যেসব কথা ও কর্ম কেবল আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য প্রযোজ্য নয়, এমন কিছু করল তখন তা সবই শির্ক ও ভ্রষ্টতা বলে গণ্য হবে। এর জন্যে ঐ ব্যক্তির ওপর তওবা জারী করতে হবে। যদি তওবার নির্দেশ পাওয়ার পরও তওবা করে ইসলামে ফিরে না আসে তাহলে ইসলামী প্রশাসনের রায় অনুযায়ী তাকে হত্যা করতে হবে। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং বহু কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করা হয়, তার সঙ্গে যেন শরীক করা না হয়, যেন তার সঙ্গে অন্য কিছুকে ইলাহ হিসাবে গ্রহণ না করা হয়। [এগুলো সবই ইবাদত যা কেবল এক আল্লাহর জন্য নিবেদন করা হবে। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমে এবং তার নবী বর্ণনা করেছেন। জবেহ করা ইবাদত হওয়ার প্রমাণ, আল্লাহর তা‘আলা বলেন, ﴿قُلۡ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحۡيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ١٦٢ لَا شَرِيكَ لَهُۥۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرۡتُ وَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ ١٦٣﴾ [ الانعام : ١٦٢، ١٦٣ ] বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব। ‘তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর আমি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম। [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬২-১৬৩] অনুরূপভাবে দো‘আও ইবাদাত। যে সব বিষয়ের সমাধান করার ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ রাখে না তা কোন মাখলুকের কাছে চাওয়া, চাই তা সুপারিশকারী হিসেবে চাওয়া হোক বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যেই চাওয়া হোক তা অবশ্যই শির্ক। সুতরাং দো‘আ যেন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ فَإِن فَعَلۡتَ فَإِنَّكَ إِذٗا مِّنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٠٦﴾ [ يونس : ١٠٦ ] .‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব, তুমি যদি কর, তাহলে নিশ্চয় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬]]

আর যারা আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে অন্যান্য ইলাহগুলো ডাকে যেমন— সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, উযাইর, ঈসা, ফিরিশতামণ্ডলী, লাত, উয্যা, মানাত, ইয়াগুস, ইয়াউক, নাছর (প্রভৃতিকে ইলাহ হিসাবে ডাকে) তারা ঐ গুলোকে সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকারী, বৃষ্টি বর্ষণ কারী অথবা উদ্ভিদ ও শস্য উৎপাদনকারী স্রষ্টা বলে বিশ্বাস করে না (তবুও তারা মুশরিকদের মধ্যে গণ্য।)

বস্তুতঃ তারা ফিরিশতামণ্ডলী, নবীগণ, জিন্ন, নক্ষত্ররাজি, নির্মিত মূর্তিসমূহ এবং কবরবাসীর ইবাদাত এ জন্য করে যে, তারা ওদেরকে সুপারিশ করে আল্লাহ তা‘আলার সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দিতে সক্ষম হবে। তারা বলে, তারা আমাদের জন্যে আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশকারী হবে।