১
সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব
লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
১৫। সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ কিয়াস সম্পর্কে অজ্ঞতা
জাহেলী যুগের লোকেরা নিজেদের অন্যায় দাবীর সমর্থন অযৌক্তিক কিয়াসের আশ্রয় নিত এবং সঠিক কিয়াসকে প্রত্যাখ্যান করতো। পবিত্র কুর‘আনুল কারীমে তাদের এই বদ অভ্যাসের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿سورة المؤمنون : 23﴾
‘আমরা নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করি। তিনি তাদেরকে বলেনঃ হে আমার কওম! তোমরা এক আ্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি (আল্লাহর আযাবের) ভয় করো না’? সূরা আল মুমিনুন, ২৩: আয়াত ২৩)
তখন তার কওমের নেতৃস্থানীয় অবিশ্বাসীরা বললো, এই ব্যক্তি তোমাদেরই মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই নয়। সে তোমাদের উপর প্রধান্য বিস্তার করতে চায়। যদি আল্লাহ (সত্যি সত্যিই কোনো নবী প্রেরণ করতে) চাইতেন তাহলে কোনো ফেরেশতাকে (ঐ কাজে) পাঠাতেন। (এ ব্যক্তি যে সমস্ত কথা বলছে) আমরাতো কখনই এ সব কথা আমাদের বাপ-দাদাদের কাছে শুনিনি। নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির সংগে কোনো জিন-ভূত কিংবা পাগলামী আছে। অতএব, তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো (যতদিন না এর পাগলামী ছেড়ে যায়)’।
এখানে তারা নবীকে তাদের কুটবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের সংগে কিয়াস করছে। যদিও দৈহিক দিক দিয়ে নবীরা তাদেরই মত মানুষ, তবুও অন্য সকল দিক দিয়ে তাদের সংগে নবীদের যে হাজারো পার্থক্য রয়েছে সে কথা তারা বেমালুম ভুলে গেছে। যেমন আল্লাহ সমগ্র মানুষের মধ্যে নবীদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন তাঁর পয়গাম বহনের জন্য, তাঁর কালামের জন্য, অহীর জন্য প্রভৃতি। অতএব, এই দিক দিয়ে তারা দুনিয়ার অন্য সকল মানুষ হতে স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। অথচ জাহেলীরা তাদেরকে নিজেদের উপর কিয়াস করেছেন এবং অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছে। যেমন একালের জাহিলরাও করে থাকে। [লেখক উপরোক্ত আয়াতের শাব্দিক ও ভাবগত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কিয়াস সম্পর্কে জানার জন্য ইমাম ইবনে তাহমিয়াহ প্রণীত القياس فى الشرع الإســلامى বইটি পাঠককে পাঠ করতে বলেছেন। সর্বদিক বিবেচনা করেই এখানে কেবল মূল বক্তব্যটুকু তুলে ধরা হলো। (অনুবাদক)।]
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿سورة المؤمنون : 23﴾
‘আমরা নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করি। তিনি তাদেরকে বলেনঃ হে আমার কওম! তোমরা এক আ্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। তোমরা কি (আল্লাহর আযাবের) ভয় করো না’? সূরা আল মুমিনুন, ২৩: আয়াত ২৩)
তখন তার কওমের নেতৃস্থানীয় অবিশ্বাসীরা বললো, এই ব্যক্তি তোমাদেরই মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই নয়। সে তোমাদের উপর প্রধান্য বিস্তার করতে চায়। যদি আল্লাহ (সত্যি সত্যিই কোনো নবী প্রেরণ করতে) চাইতেন তাহলে কোনো ফেরেশতাকে (ঐ কাজে) পাঠাতেন। (এ ব্যক্তি যে সমস্ত কথা বলছে) আমরাতো কখনই এ সব কথা আমাদের বাপ-দাদাদের কাছে শুনিনি। নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির সংগে কোনো জিন-ভূত কিংবা পাগলামী আছে। অতএব, তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো (যতদিন না এর পাগলামী ছেড়ে যায়)’।
এখানে তারা নবীকে তাদের কুটবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের সংগে কিয়াস করছে। যদিও দৈহিক দিক দিয়ে নবীরা তাদেরই মত মানুষ, তবুও অন্য সকল দিক দিয়ে তাদের সংগে নবীদের যে হাজারো পার্থক্য রয়েছে সে কথা তারা বেমালুম ভুলে গেছে। যেমন আল্লাহ সমগ্র মানুষের মধ্যে নবীদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন তাঁর পয়গাম বহনের জন্য, তাঁর কালামের জন্য, অহীর জন্য প্রভৃতি। অতএব, এই দিক দিয়ে তারা দুনিয়ার অন্য সকল মানুষ হতে স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। অথচ জাহেলীরা তাদেরকে নিজেদের উপর কিয়াস করেছেন এবং অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছে। যেমন একালের জাহিলরাও করে থাকে। [লেখক উপরোক্ত আয়াতের শাব্দিক ও ভাবগত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কিয়াস সম্পর্কে জানার জন্য ইমাম ইবনে তাহমিয়াহ প্রণীত القياس فى الشرع الإســلامى বইটি পাঠককে পাঠ করতে বলেছেন। সর্বদিক বিবেচনা করেই এখানে কেবল মূল বক্তব্যটুকু তুলে ধরা হলো। (অনুবাদক)।]