hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

৪৪। দ্বীনের ব্যাপারে না জেনেশুনে কথা বলা

জাহেলী যুগের আরবরা এবং ইয়াহূদী-খৃষ্টানরা দ্বীনের নামে এমন বহু কিছু চালু করেছিল যা করবার হুকুম আল্লাহ তাদেরকে দেননি। আরবদের অধিকাংশই ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের দ্বীনের অনুসারী ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে আমর ইবন লুহাই (খুযা‘ঈ) নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটলো। সে দ্বীনে ইব্রাহীমের মধ্যে বহু পরিবর্তন ঘটালো। অনেক রকমের বেদআত চালু করলো এবং লোকদেরকে মূর্তি পূজায় প্ররোচিত করলো। এতদ্ব্যতীত উটের কান কেটে ছেড়ে দেওয়া, আরোহনের অযোগ্য ঘোষণা করে ষাড় ছেড়ে দেওয়া, ভাগ্যের তীর বন্টন করা প্রভৃতি অন্যান্য ‘বেশরা’ কাজে তাদেরকে লিপ্ত করালো। সূরা আন‘আমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

অতঃপর জাহেলী ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা তাদের পীর পুরোহিতগণকে এবং ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রভূর আসনে বসিয়েছিল। এইসব সাধু সন্যাসীগণ রকমারী বেদআতসমূহ চালু করেছিল। ইচ্ছামত হালাল-হারাম নির্ধারণ করেছিল। লোকেরা তাদের ফতওয়া গ্রহণ করলো এবং এ সবের অনুসরণ করতে লাগলো। যদিও দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অহীর উপর নির্ভরশীল। তা কখনোই লোকদের ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশীর অনুসারী হতে পারে না। অতএব প্রত্যেক বস্তু যার উপর কিতাব ও সুন্নাতের কোনো দলীল নেই, সেটা তার প্রচলন ও অনুসরণকারীর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। ইয়াহূদীদের এই বদ-স্বভাবের নিন্দা করে আল্লাহ বলেন-

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿سورة آل عمران : 78﴾

‘তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা (নিজেদের লিখিত) কিতাবকে জিহবা দ্বারা বিকৃত ভাবে পাঠ করে, যাতে তোমরা (তাকে) আল্লাহর কিতাব বলে মনে করো। কিন্তু আসলে তা (আল্লাহর) কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে, তা আল্লাহর নিকট হতে। অথচ তা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত নয়। তারা জেনে শুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।’’ (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৭৮)

যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাতের দলীলসমূহকে নিজেদের চাহিদা ও খেয়াল খুশীর পক্ষে ব্যাখ্যা দানে প্রবৃত্ত হয়, সে ব্যক্তি অবশ্যই উপরোক্ত আয়াতের মর্ম অনুযায়ী জিহবা বিকৃতকারীদের দলভুক্ত হবে। জ্ঞানী পাঠকদের অবশ্যই জানা আছে, যে বর্তমান যুগে রচিত ধর্মীয় পুস্তকাদির মধ্যে এই ধরণের অসংখ্য মাসায়েল স্থান লাভ করেছে, শরীয়তের যার কোনো ভিত্তি নেই। বাতিলের ব্যাপক হামলা ও হকের অস্পষ্টতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।