১
সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব
লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
৫৫। হিদায়েতপ্রাপ্ত লোকদেরকে অভিনব উপাধিসমূহ দ্বারা অভিহিত করা
জাহেলী যুগের লোকেরা তাদের মাযহাব ত্যাগকারীদেরকে ‘ছাবেয়ী’ বলতো। ছহীহ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীসসমূহ হতে জানা যায় যে, তার নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘ছাবেয়ী’ বলে ডাকতো। যাতে লোকেরা তাদের চিরাচরিত মাযহাব ছেড়ে চলে না যায়। বর্তমান যুগের মুসলিমদের মধ্যে আপনি এমন লোক বহু পাবেন, যাদেরকে বেদআতপন্থী হওয়ার কারণে লোকেরা ত্যাগ করেছে। অথচ উল্টা হক পন্থীদেরকেই তারা বিভিন্ন অপছন্দনীয় নামে অভিহিত করে থাকে। ইমাম ইবনে কুতাইবা স্বীয় ‘তাবীলু মুখতালাফিল হাদীস’ নামক যুগান্তকারী গ্রন্থে বলেন যে, ‘বিদআত পন্থীরা আহলে হাদীসদেরকে হাশবিয়া, নাবেতা, জাবরিয়া প্রভৃতি নামে অভিহিত করে। অথচ এ সবই মিথ্যা উপাধি মাত্র। এইসব নামের পশ্চাতে আল্লাহর রাসূলের কোনো সমর্থনই নাই। যেমন- তিনি নিম্নোক্ত নামসমূহ দ্বারা অভিহিত করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে লা’নত করেছেন। যেমন- (১) কাদরিয়াদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন- ‘তারা এই উম্মতের (মুসলিম মিল্লাতের) মজুসী বা অগ্নি উপাসক। যদি ওরা পীড়িত হয় তবে সেবা করো না, যদি মারা যায় জানাযায় শরীক হয়োনা’ (২) রাফেযী সম্পর্কে-শেষ যামানায় রাফেযী বলে একটি দল হবে, যারা ইসলামকে ত্যাগ করবে এবং দূরে নিক্ষেপ করবে। তোমরা ওদেরকে হত্যা করো। কেননা ওরা মুশরিক। (৩) মুর্জিয়া সম্পর্কে- ‘আমার উম্মতের মধ্যে দু’টি দল হবে যারা আমার শাফায়াত পাবে না, যারা সত্তর জন নবী কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছে। তারা হলো মুর্জিয়া ও কাদরিয়া।’ (৪) খারেজীদের সম্পর্কে- ‘তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে’। যেমন তীর তার ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়’। অন্য বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে ‘জাহান্নামবাসীদের কুত্তা’ বলেছেন।
‘গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন’ নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. বলেন যে, ‘বাতেনীরা আহলে হাদীসগণকে হাশবিয়া বলে।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল্লাহিল বালেগাহ’ এর মধ্যে বলেন যে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা আহলে হাদীস জামা‘আতের উপর অযথা বাড়াবাড়ি করেছে। তারা উল্টা এদেরকে মুজাসসিমা মুশাববিহা বলেছে এবং দোষারোপ করেছে এই যে, ‘আহলে হাদীসরা আল্লাহর গুণাগুণের ধরণ না জানা সম্পর্কিত ছদ্ম দাবী করছে মাত্র। তাদের আসল মতবাদ আল্লাহ আকার হওয়ার পক্ষে। অথচ আমার নিকট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সব অনুপ্রবেশকারীদের এই অযথা বাড়াবাড়ির পিছনে রিওয়ায়াত ও দেরায়াত (হাদীস ও প্রজ্ঞা) কোনদিক দিয়েই কোনো যুক্তি নেই। এরা হিদায়েতের অগ্রপথিক। আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র।’ হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তাঁর ‘নূনিয়্যাহ্’ বা ‘আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া’ নামক কিতাবের মধ্যে আলাদা অধ্যায় রচনা করে বেদআতীরা যে প্রথম কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী সালাফী আহলে হাদীস জামাআতকে ‘হাশবিয়া’ প্রভৃতি নামে অভিহিত করেছে ২০ লাইন কবিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। [মাননীয় লেখক মূল বইতে সমস্ত কবিতা নকল করেছেন। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির ভয়ে বাদ দিলাম। (অনুবাদক)]
আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে ইহা একটি বিরাট অপবাদ। যদিও এই ধরণের অপবাদ অন্যেরা দেয় না। আজকের দিনেও হকের এ শত্রু যারা, তারা পূর্ববর্তী জাহিলদের তরীকা অনুসরণ করে কুর‘আন ও সুন্নাহর অনুসারী এইসব হকপন্থী লোকদেরকে বিভিন্ন খারাপ নামে অভিহিত করে থাকে।
‘গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন’ নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. বলেন যে, ‘বাতেনীরা আহলে হাদীসগণকে হাশবিয়া বলে।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল্লাহিল বালেগাহ’ এর মধ্যে বলেন যে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা আহলে হাদীস জামা‘আতের উপর অযথা বাড়াবাড়ি করেছে। তারা উল্টা এদেরকে মুজাসসিমা মুশাববিহা বলেছে এবং দোষারোপ করেছে এই যে, ‘আহলে হাদীসরা আল্লাহর গুণাগুণের ধরণ না জানা সম্পর্কিত ছদ্ম দাবী করছে মাত্র। তাদের আসল মতবাদ আল্লাহ আকার হওয়ার পক্ষে। অথচ আমার নিকট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সব অনুপ্রবেশকারীদের এই অযথা বাড়াবাড়ির পিছনে রিওয়ায়াত ও দেরায়াত (হাদীস ও প্রজ্ঞা) কোনদিক দিয়েই কোনো যুক্তি নেই। এরা হিদায়েতের অগ্রপথিক। আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র।’ হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তাঁর ‘নূনিয়্যাহ্’ বা ‘আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া’ নামক কিতাবের মধ্যে আলাদা অধ্যায় রচনা করে বেদআতীরা যে প্রথম কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী সালাফী আহলে হাদীস জামাআতকে ‘হাশবিয়া’ প্রভৃতি নামে অভিহিত করেছে ২০ লাইন কবিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। [মাননীয় লেখক মূল বইতে সমস্ত কবিতা নকল করেছেন। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির ভয়ে বাদ দিলাম। (অনুবাদক)]
আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে ইহা একটি বিরাট অপবাদ। যদিও এই ধরণের অপবাদ অন্যেরা দেয় না। আজকের দিনেও হকের এ শত্রু যারা, তারা পূর্ববর্তী জাহিলদের তরীকা অনুসরণ করে কুর‘আন ও সুন্নাহর অনুসারী এইসব হকপন্থী লোকদেরকে বিভিন্ন খারাপ নামে অভিহিত করে থাকে।