hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৭

৮৮। পেশার অহংকার

পেশার কারণে একে অপরকে ঘৃণা ও গর্ববোধ করা জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল। যেমন- কুরাইশ বংশের লোকেরা ব্যবসায়ী ছিল। তারা শীত মওসুমে (অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এলাকায়) ইয়ামনে এবং গ্রীষ্ম মওসূমে (তুলনামূলক ঠান্ডা এলাকা) সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের দিকে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতো। যে কথা সূরা কুরাইশের মধ্যে বিধৃত হয়েছে। (ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে তারা স্বাস্থ্য ও সম্পদশালী) সে কারণে- কৃষিকর্মে নিয়োজিত চাষীদের উপরে অহংকার প্রদর্শন করতো (যেমন আমাদের দেশে শেখ, সৈয়দ, খান ও চৌধুরী সাহেবরা চাষী ও কারিগর সম্প্রদায়ের ভাইদেরকে ‘চাষা’ ও জোলা’ বলে টিটকারী করে থাকে)। অথচ এ বিষয়ে আল্লাহ পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা উচ্চারণ করে বলেন- []

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَومٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ ( سورة الحجرات : 11)

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়ের লোককে ঠাট্টা-বিদ্রুপ না করে। কোনো মহিলাও যেন কোনো মহিলাকে বিদ্রুপ না করে’। (সূরা আল-হুজরাত, ৪৯: আয়াত ১১)

মোটকথা, কোনো পেশাদার ব্যক্তি যেমন অন্য কোনো পেশার ব্যক্তিকে শুধু পেশাগত কারণে টিটকারী না করে। কেননা দুনিয়াবী যে কোনো হালাল পেশার উদ্দেশ্য হলো তদ্বারা আল্লাহর আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা এবং পরিশেষে (জান্নাতের চিরস্থায়ী মুক্তি ও শান্তি অর্জন করা। আর যাবতীয় পর্বের মূল হলো সেখানে। তা ব্যতীত বাদবাকী সবকিছু অপসৃয়মান ছায়ার ন্যায়।

অতএব কোনো প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য পার্থিব জীবনের চাকচিক্য নিয়ে গর্ব করা উচিত নয়। যে কোনো মুহুর্তে এসব ছেড়ে চলে যেতে হবে। (আসুন) আল্লাহর নিকটে আমরা সেইসব সৎকর্ম সম্পাদনের শক্তি কামনা করি, যা করলে তিনি সন্তুষ্ট হন। (আমিন)