১
সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব
লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
৩০। আল্লাহর প্রতি বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি আরোপ
জাহেলী যুগের আরবরা ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা বলতো। খৃষ্টানরা ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামকে ও ইয়াহূদীরা ওযায়ের আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র বলতো। একদল দার্শনিক আল্লাহ থেকে আকল বা বিবেক জন্ম হওয়ার কথা কল্পনা করে থাকে। আল্লাহ এসব থেকে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বহু আয়াত নাযিল করেছেন। যেমন এক জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ ﴿100﴾ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿101﴾ ( سورة الأنعام : 100-102)
‘তারা আল্লাহর সঙ্গে জিনকে শরীক করে, অথচ তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর জন্য ছেলে-মেয়ের অলীক কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তারা যা বলে আল্লাহ সেব থেকে উর্দ্ধে ও সম্পূর্ণ পবিত্র। আসমান ও যমীনের স্রষ্টা তিনি। কেমন করে তাঁর সন্তান হতে পারে? যখন তার নেই কোনো স্ত্রী। তিনিই সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল বিষয়ে জ্ঞানী’। (সূরা আল-আন‘আম, ৬: আয়াত ১০০-১০২)
তারা আল্লাহর প্রতি স্বজনপ্রীতি আরোপ করেছিল। অথচ তিনি এসব থেকে উর্দ্ধে। যেমন আল্লাহ বলেন-
وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿18﴾ ( سورة المائدة : 18)
‘ইয়াহূদী ও খৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, আমরা আল্লাহর বেটা ও তাঁর প্রতি প্রিয়জন। (হে নবী) আপনি ওদেরকে বলে দিন যে, যদি তাই হবে তাহলে অপরাধের জন্য তোমাদেরকে আযাব দেন কেন? তোমরা অন্যান্য সৃষ্টিকুলের মত সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিয়ে থাকেন। আসমান-যমীন ও তন্মধ্যস্থিত সকল কিছুর মালিকানা কেবলমাত্র তাঁরই এবং তাঁর কাছেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল-মায়েদাহ, ৫: আয়াত ১৮)
তারা আল্লাহর সৃষ্ট জীবকে আল্লাহর মূল সত্ত্বার অংশ সাব্যস্ত করেছিল। যেমন আল্লাহ বলেন-
وَجَعَلُوا لَهُ مِنْ عِبَادِهِ جُزْءًا ( سورة الزخرف : 15)
‘‘তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে তাঁর সত্ত্বার অংশ হিসাবে গণ্য করেছিল’’। (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩: আয়াত ১৫)
কেননা তারা আল্লাহর ছেলে- মেয়ে সাব্যস্ত করেছিল এবং ছেলে- মেয়েরা বাপের সত্তার অংশ বৈকি। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই ফাতেমা আমার দেহেরই একটি টুকরা’। [বুখারী, হাদীস নং ২৯৪৩; মুসলিম, ২৪৪৯।] (হাদীস)
কালবী বলেন, এ আয়াত যিনদীকদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। যারা বলতো, আল্লাহ ও ইবলীস দুইজন শরীক। আল্লাহ জ্যোতি, মানুষ ও জীবজন্তুসমূহের স্রষ্টা এবং ইবলীস অন্ধকার, হিংস্র, শ্বাপদ, সর্প ও বিচ্ছুসমূহের স্রষ্টা। কেউ কেউ বলতো যে, আল্লাহ ও জিনের মাঝে বিয়ের ফলে ফেরেশতাদের জন্ম হয়। আল্লাহ তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেন। বলেন-
وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ﴿158﴾ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿159﴾ ( سورة الصافات : 158-159)
‘তারা আল্লাহ ও জিনের মাঝে বংশ সম্পর্ক কল্পনা করেছে। অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকে আল্লাহর সম্মুখে হাজির হতে হবে। আল্লাহ এদের এই সব অলীক বর্ণনাসমূহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র’। (সূরা আছ-ছাফফাত, ৩৭: আয়াত ১৫৮-১৫৯)
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার আল জাওয়াবুছ ছহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ’ ও তাফসীরু সূরাতিল ইখলাছ গ্রন্থসমূহে। [পুণরুক্তি, পূনরাবৃত্তি ও একই মর্মের উল্লেখিত অনেক আয়াতের উদ্ধৃতি ও তরজমা কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)]
وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ ﴿100﴾ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿101﴾ ( سورة الأنعام : 100-102)
‘তারা আল্লাহর সঙ্গে জিনকে শরীক করে, অথচ তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর জন্য ছেলে-মেয়ের অলীক কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তারা যা বলে আল্লাহ সেব থেকে উর্দ্ধে ও সম্পূর্ণ পবিত্র। আসমান ও যমীনের স্রষ্টা তিনি। কেমন করে তাঁর সন্তান হতে পারে? যখন তার নেই কোনো স্ত্রী। তিনিই সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল বিষয়ে জ্ঞানী’। (সূরা আল-আন‘আম, ৬: আয়াত ১০০-১০২)
তারা আল্লাহর প্রতি স্বজনপ্রীতি আরোপ করেছিল। অথচ তিনি এসব থেকে উর্দ্ধে। যেমন আল্লাহ বলেন-
وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿18﴾ ( سورة المائدة : 18)
‘ইয়াহূদী ও খৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, আমরা আল্লাহর বেটা ও তাঁর প্রতি প্রিয়জন। (হে নবী) আপনি ওদেরকে বলে দিন যে, যদি তাই হবে তাহলে অপরাধের জন্য তোমাদেরকে আযাব দেন কেন? তোমরা অন্যান্য সৃষ্টিকুলের মত সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিয়ে থাকেন। আসমান-যমীন ও তন্মধ্যস্থিত সকল কিছুর মালিকানা কেবলমাত্র তাঁরই এবং তাঁর কাছেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল-মায়েদাহ, ৫: আয়াত ১৮)
তারা আল্লাহর সৃষ্ট জীবকে আল্লাহর মূল সত্ত্বার অংশ সাব্যস্ত করেছিল। যেমন আল্লাহ বলেন-
وَجَعَلُوا لَهُ مِنْ عِبَادِهِ جُزْءًا ( سورة الزخرف : 15)
‘‘তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে তাঁর সত্ত্বার অংশ হিসাবে গণ্য করেছিল’’। (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩: আয়াত ১৫)
কেননা তারা আল্লাহর ছেলে- মেয়ে সাব্যস্ত করেছিল এবং ছেলে- মেয়েরা বাপের সত্তার অংশ বৈকি। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই ফাতেমা আমার দেহেরই একটি টুকরা’। [বুখারী, হাদীস নং ২৯৪৩; মুসলিম, ২৪৪৯।] (হাদীস)
কালবী বলেন, এ আয়াত যিনদীকদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। যারা বলতো, আল্লাহ ও ইবলীস দুইজন শরীক। আল্লাহ জ্যোতি, মানুষ ও জীবজন্তুসমূহের স্রষ্টা এবং ইবলীস অন্ধকার, হিংস্র, শ্বাপদ, সর্প ও বিচ্ছুসমূহের স্রষ্টা। কেউ কেউ বলতো যে, আল্লাহ ও জিনের মাঝে বিয়ের ফলে ফেরেশতাদের জন্ম হয়। আল্লাহ তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেন। বলেন-
وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ﴿158﴾ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿159﴾ ( سورة الصافات : 158-159)
‘তারা আল্লাহ ও জিনের মাঝে বংশ সম্পর্ক কল্পনা করেছে। অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকে আল্লাহর সম্মুখে হাজির হতে হবে। আল্লাহ এদের এই সব অলীক বর্ণনাসমূহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র’। (সূরা আছ-ছাফফাত, ৩৭: আয়াত ১৫৮-১৫৯)
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার আল জাওয়াবুছ ছহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ’ ও তাফসীরু সূরাতিল ইখলাছ গ্রন্থসমূহে। [পুণরুক্তি, পূনরাবৃত্তি ও একই মর্মের উল্লেখিত অনেক আয়াতের উদ্ধৃতি ও তরজমা কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)]