hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

৮৬। কোনো বিশেষ ঘরের তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার গর্ব

‘জাহেলী যুগের আরবরা কাবাগরের মুতাওয়াল্লী হওয়ার কারণে অহংকার করতো। আল্লাহ তাদের এই বদ স্বভাবের নিন্দা করে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন-

حَتَّى إِذَا أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِمْ بِالْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْأَرُونَ ﴿64﴾ لَا تَجْأَرُوا الْيَوْمَ إِنَّكُمْ مِنَّا لَا تُنْصَرُونَ ﴿65﴾ قَدْ كَانَتْ آَيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ تَنْكِصُونَ ﴿66﴾ مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ ﴿67﴾ ( سورة المؤمنون : 64-67)

‘আমি যখন তাদের নেতাদের গ্রেফতার করবো, তখন তারা আর্তনাদ করে উঠবে। তাদেরকে বলা হবে আজ আর্তনাদ করো না, তোমাদের কোনরূপ সাহায্য করা হবে না। আমার আয়াতগুলো তোমাদের নিকট যখন তিলাওয়াত করা হতো, তখন তোমরা (কাবা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার গর্বে) দম্ভবরে এ বিষয়ে আজে বাজে কথা বলতে বলতে পিছনে ফিরে চলে যেতে।’ (সূরা আল-মুমিনুন, ২৩: আয়াত ৬৪-৬৭)

মোটকথা, জাহেলী যুগের অন্যতম স্বভাব ছিল কোনো পবিত্র স্থানের উপর দায়িত্বশীল হওয়ার কারণে অহংকার করা। আজকের যুগে যেমন অনেকেই এসব কারণে মর্যাদার দাবী করে থাকে। মক্কা-মদীনার উপরে নেতৃত্ব থাকার কারণে কেউ নিজেদেরকে সারা মুসলিম বিশ্বের উপরে মর্যাদা দাবী করে। কেউবা কোনো পূন্যস্থান বা নেককার লোকদের বাসস্থানের তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারণে সম্মানের দাবী করে।

যারা শায়খ আবদুল কাদের জিলানীর রহ. দিকে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করেন, তারা তার কবরে তত্ত্বাবধানের গৌরবে নিজেদের জন্য কিছু মর্যাদা কামনা করেন। এর অন্যতম কারণ তারা এ সমস্ত নজর মানত এবং ছদকা কুরবানীসহ বিভিন্ন শিরকী উৎসর্গসমূহের তত্ত্বাবধান করে থাকে। যা হিন্দু, কুর্দী ও অন্যান্য মূর্খ মুসলিমরা সেখানে ভেট হিসাবে নিবেদন করে থাকে। এই সব কবরের তত্বাবধানকারী তথাকথিত খাদেম ও মুতাওয়াল্লীরা আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচে নিকৃষ্ট, সর্বাপেক্ষা নীচ ও মতবাদের দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট।

এদের এই মুতাওয়াল্লীগিরী বা পৌরিহিত্য আল্লাহর নিকট কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহর ক্রোধ ও অপরের হাত থেকে এদেরকে কেউই রেহাই দিতে পারবে না। যদিও লোকরা এদের (অলৌকিক কেরামতি বা কামালিয়াতের নমুনা দেখে) অনেক কিছু উচ্চ কল্পনা করে থাকে। এরা আল্লাহ ও তার নেককার বান্দাদের নিকট ছোট পিঁপড়ার চেয়েও নিকৃষ্ট। কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর রহমত হতে এরা থাকবে বহু দূরে।