১
সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব
লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৪
৮৫। বাপ-মায়ের কর্ম দ্বারা কাউকে তিরস্কার করা
অন্যের কর্ম দ্বারা বিশেষ করে বাপ-মায়ের কর্ম দ্বারা মানুষকে তিরস্কার করা জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রীতির বিরোধিতা করলেন। অবশ্য এই অপকর্মের ফলে কেউ মুশরিক বলে গণ্য হবে না।
সহীহ বুখারীর কিতাবুল ঈমানের মধ্যে মারুর রা. হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন যে, আমি একদিন আবুযর গিফারী রা. এর সংগে রবযাহ নামক স্থানে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে দেখি যে, তাঁর ক্রীতদাস ও তিনি একই ধরণের পোষাক পরে আছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন যে, আমি একজন লোককে তার মায়ের নামে গালি দিয়েছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, হে আবুযর ! তুমি কি করে মায়ের নামে তিরস্কার করলে? তোমাদের অধীন যারা তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্ত করেছেন। অতএব তোমাদের কারো অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যেন নিজে যা খায়, তাই তাকে খাওয়ায়, নিজে যে পোশাক পরে তাই তাকে পরায় ও তাদেরকে অধিক না খাটায়। যদি খাটাতে হয়, তাহলে তোমারা নিজেরা ওদেরকে সাহায্য করো। হাদীসটির ব্যাখ্যায় ভাষ্যকারগণ বহু কথা বলেছেন। যা এখানে তা আলোচনা করা হলো না।
মোটকথা, এক জনের কর্মের কারণে অন্যকে তিরস্কার করা মোটেই পূর্ণ ঈমান ও দুরদর্শিতার পরিচায়ক নয়। আবুযর গিফারী রা. পূর্ণ ঈমান ও মারেফাত হাছিল করার পূর্বে এক সময় বিলালের রা. সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি বিলালকে রা. ‘ইবনুস সওদা’ বা কৃষ্ণমাতার সন্তান বলে গালি দেন। বিলাল রা. এ বিষয়ে রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট অভিযোগ করলে তিনি আবুযর গিফারীকে ডেকে বলেন যে, আবুযর তুমি কি বেলালকে গালি দিয়েছ? তুমি কি তাকে তার কৃষ্ণমাতার নামে ধিক্কার দিয়েছ? তিনি বলেন- জ্বী হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, আমার মনে হয় তোমার মধ্যে এখনও জাহেলী যুগের কিছু অংশ বাকী আছে। একথা শোনার সংগে সংগে আবুযর গিফারী রা. মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন এবং বলেন আমি আমার চেহারা মাটি থেকে উঠাবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না বেলাল তার পা দিয়ে আমার চেহারা মাড়িয়ে যাবে।’
হায় ! হায়! আজকের মানুষের মধ্যে জাহেলী যুগের এ সকল স্বভাব কত ব্যাপকহারেই না দেখা যাচ্ছে। তারা একটা দেশের একজন মানুষের অপকর্মের জন্য পুরা দেশবাসীকে তিরস্কার করেছে। জাহেলী স্বভাব থেকে এরা আর কত দূরে।
সহীহ বুখারীর কিতাবুল ঈমানের মধ্যে মারুর রা. হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন যে, আমি একদিন আবুযর গিফারী রা. এর সংগে রবযাহ নামক স্থানে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে দেখি যে, তাঁর ক্রীতদাস ও তিনি একই ধরণের পোষাক পরে আছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন যে, আমি একজন লোককে তার মায়ের নামে গালি দিয়েছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, হে আবুযর ! তুমি কি করে মায়ের নামে তিরস্কার করলে? তোমাদের অধীন যারা তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্ত করেছেন। অতএব তোমাদের কারো অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যেন নিজে যা খায়, তাই তাকে খাওয়ায়, নিজে যে পোশাক পরে তাই তাকে পরায় ও তাদেরকে অধিক না খাটায়। যদি খাটাতে হয়, তাহলে তোমারা নিজেরা ওদেরকে সাহায্য করো। হাদীসটির ব্যাখ্যায় ভাষ্যকারগণ বহু কথা বলেছেন। যা এখানে তা আলোচনা করা হলো না।
মোটকথা, এক জনের কর্মের কারণে অন্যকে তিরস্কার করা মোটেই পূর্ণ ঈমান ও দুরদর্শিতার পরিচায়ক নয়। আবুযর গিফারী রা. পূর্ণ ঈমান ও মারেফাত হাছিল করার পূর্বে এক সময় বিলালের রা. সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি বিলালকে রা. ‘ইবনুস সওদা’ বা কৃষ্ণমাতার সন্তান বলে গালি দেন। বিলাল রা. এ বিষয়ে রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট অভিযোগ করলে তিনি আবুযর গিফারীকে ডেকে বলেন যে, আবুযর তুমি কি বেলালকে গালি দিয়েছ? তুমি কি তাকে তার কৃষ্ণমাতার নামে ধিক্কার দিয়েছ? তিনি বলেন- জ্বী হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, আমার মনে হয় তোমার মধ্যে এখনও জাহেলী যুগের কিছু অংশ বাকী আছে। একথা শোনার সংগে সংগে আবুযর গিফারী রা. মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন এবং বলেন আমি আমার চেহারা মাটি থেকে উঠাবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না বেলাল তার পা দিয়ে আমার চেহারা মাড়িয়ে যাবে।’
হায় ! হায়! আজকের মানুষের মধ্যে জাহেলী যুগের এ সকল স্বভাব কত ব্যাপকহারেই না দেখা যাচ্ছে। তারা একটা দেশের একজন মানুষের অপকর্মের জন্য পুরা দেশবাসীকে তিরস্কার করেছে। জাহেলী স্বভাব থেকে এরা আর কত দূরে।