১
সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব
লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৬
৮৭। নবী বংশের লোক হওয়ার গর্ব
ইয়াহূদী ও নাছারাগণ (ইব্রাহীম, ইয়াকুব তথা বনী ইস্রাইলের হাজার হাজার নবীর) বংশধর হওয়ার কারণে আত্মগর্বে গর্বিত ছিল। আল্লাহ রাববুল আলামীন তাদের এই হীন মানসিকতার প্রতিবাদ করে বলেন-
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ . ( سورة البقرة : 134)
(নবীদের) সেই দল চলে গেছেন। তাদের আমল ছিল তাদের। তোমাদের আমল হবে তোমাদের। তোমাদেরকে তাঁদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (সূরা আল-বাক্বারাহ ২: আয়াত ১৩৪)
অর্থাৎ শুধুমাত্র বংশীয় সম্পর্ক কোনো কাজ দেবে না। বরং পূর্ব পুরুষদের মত সৎকর্মশীল ও পূণ্যবান হতে পারলে তবেই কিছু ফায়দা হতে পারে। কেননা তাদের পাপের জন্য তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না, কিংবা তাদের পূন্যের ছওয়াবও তোমরা পাবে না।
একবার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বংশের লোকদের ডেকে বলেন- ‘হে কুরাইশগণ। নবীদের নিকট সমস্ত লোকদের মধ্যে আপন তারাই যারা মুত্তাকী। তোমরা সেই পথের পথিক হও। দেখো, আমার কাছে কোনো লোক দুনিয়াদারী কাজকর্ম নিয়ে আসে না। অথচ তোমরা কেবল ঐ স্বার্থের কাছে এসে থাকো। ফলে আমি তোমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই।
উক্ত আয়াতটি পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতেরই সমর্থক-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ . ( سورة الحجرات : 13)
‘হে মানব জাতি! আমরা তোমাদের নারী ও পুরুষের সমবায়ে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদের বিভিন্ন শাখা ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, কেবল তোমাদের (পারস্পরিক সহজ) পরিচিতি লাভের জন্য। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত সেই ব্যক্তি যিনি সর্বাপেক্ষা বেশী মুত্তাকী বা পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহ (তোমাদের) সব কিছু জানেন, খবর রাখেন। (সূরা আল-হুজরাত, ৪৯: আয়াত ১৩)
ইয়াহূদী-নাছারাদের যে স্বভাবের কথা উপরে বিধৃত হলো, উক্ত জাহেলী স্বভাব আজ বহু মুসলিমদের মধ্যে দৃষ্ট হয়। যাদের একমাত্র পুঁজিই হলো, বাপ দাদার গর্ব। যেমন কেউ কেউ বলে থাকেন আমি আব্দুল কাদের জিলানীর রহ. বংশধর। কেউ বলেন আমি আহমদ রিফাঈর আওলাদ।
কেউ বলেন আমি আবু বকরী, কেউ বা ওমরী, কেউবা আলুবী, কেউবা হাসানী, কেউবা হুসাইনী ইত্যাদি। অথচ কেয়ামতের মহাবিচারের দিনে এসব সম্পর্কে কোনো কাজ দিবে না। পরিত্রাণ পাবেন ঐদিন কেবলমাত্র সেই ব্যক্তি যিনি সমর্পিত অন্তঃকরণ নিয়ে আল্লাহর সম্মুখে হাযির হতে পারবেন।
বিস্মিত হতে হয় এসব লোকদের অবস্থা দেখে। যেখানে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ আদরের দুলালী ফাতিমা রা. কে বলছেনঃ ‘হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমা ! আল্লাহর দরবারে আমি তোমার কোনই উপকারে আসবো না।’ সেখানে এইসব বংশগর্বী লোকেরা কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারে? অথচ বিভিন্ন অন্যায় কলা কৌশলের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ শোষণ করা ব্যতীত এদের অন্য কোনো যোগ্যতা নেই। [যাঁরা আমাদের দেশে আওলাদে রাসূলের নামে কিংবা আবু বকর ছিদ্দিকের বা আলীর বংশধর হওয়ার নামে গর্ববোধ করেন কিংবা ঐ বংশের লোক হওয়ার কারণে তাদের প্রতি অহেতুক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকেন, তাঁরা একবার আলোচনাটি হৃদয়ঙ্গম করুন। (অনুবাদক)]
কবির বলেনঃ
إن الفتى من يقول ها أنا ذا * ليس الفتى من يقول كان أبي
‘নিশ্চয়ই প্রকৃত যুবক সেই যে, বলে যে, আমি বা আমার পরিচয় এই। সে কখনোই সত্যিকারের যুবক নয়, যে বলে আমার পিতা অমুক ছিলেন। অন্য এক কবি বলেন-
أقول لمن غدا في كل يوم * يباهينا بأســلاف عــظام
أتقنع بالعظام وأنت تدري * بأن الكلب يقنع بالعظام .
আমার কাছে প্রতিদিন সকালে একব্যক্তি এসে বংশের প্রাক্তন লোকদের নিয়ে বড়াই করে। অবশেষে আমি তাকে একদিন বললাম, তুমি যে শুধু বংশের হাড়-গোড় নিয়ে গৌরব করো, অথচ তুমি তা ভাল করেই জানো যে, কুকুরই শুধু হাড়-গোড় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে’।
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ . ( سورة البقرة : 134)
(নবীদের) সেই দল চলে গেছেন। তাদের আমল ছিল তাদের। তোমাদের আমল হবে তোমাদের। তোমাদেরকে তাঁদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (সূরা আল-বাক্বারাহ ২: আয়াত ১৩৪)
অর্থাৎ শুধুমাত্র বংশীয় সম্পর্ক কোনো কাজ দেবে না। বরং পূর্ব পুরুষদের মত সৎকর্মশীল ও পূণ্যবান হতে পারলে তবেই কিছু ফায়দা হতে পারে। কেননা তাদের পাপের জন্য তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না, কিংবা তাদের পূন্যের ছওয়াবও তোমরা পাবে না।
একবার রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বংশের লোকদের ডেকে বলেন- ‘হে কুরাইশগণ। নবীদের নিকট সমস্ত লোকদের মধ্যে আপন তারাই যারা মুত্তাকী। তোমরা সেই পথের পথিক হও। দেখো, আমার কাছে কোনো লোক দুনিয়াদারী কাজকর্ম নিয়ে আসে না। অথচ তোমরা কেবল ঐ স্বার্থের কাছে এসে থাকো। ফলে আমি তোমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই।
উক্ত আয়াতটি পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতেরই সমর্থক-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ . ( سورة الحجرات : 13)
‘হে মানব জাতি! আমরা তোমাদের নারী ও পুরুষের সমবায়ে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদের বিভিন্ন শাখা ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, কেবল তোমাদের (পারস্পরিক সহজ) পরিচিতি লাভের জন্য। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত সেই ব্যক্তি যিনি সর্বাপেক্ষা বেশী মুত্তাকী বা পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহ (তোমাদের) সব কিছু জানেন, খবর রাখেন। (সূরা আল-হুজরাত, ৪৯: আয়াত ১৩)
ইয়াহূদী-নাছারাদের যে স্বভাবের কথা উপরে বিধৃত হলো, উক্ত জাহেলী স্বভাব আজ বহু মুসলিমদের মধ্যে দৃষ্ট হয়। যাদের একমাত্র পুঁজিই হলো, বাপ দাদার গর্ব। যেমন কেউ কেউ বলে থাকেন আমি আব্দুল কাদের জিলানীর রহ. বংশধর। কেউ বলেন আমি আহমদ রিফাঈর আওলাদ।
কেউ বলেন আমি আবু বকরী, কেউ বা ওমরী, কেউবা আলুবী, কেউবা হাসানী, কেউবা হুসাইনী ইত্যাদি। অথচ কেয়ামতের মহাবিচারের দিনে এসব সম্পর্কে কোনো কাজ দিবে না। পরিত্রাণ পাবেন ঐদিন কেবলমাত্র সেই ব্যক্তি যিনি সমর্পিত অন্তঃকরণ নিয়ে আল্লাহর সম্মুখে হাযির হতে পারবেন।
বিস্মিত হতে হয় এসব লোকদের অবস্থা দেখে। যেখানে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ আদরের দুলালী ফাতিমা রা. কে বলছেনঃ ‘হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমা ! আল্লাহর দরবারে আমি তোমার কোনই উপকারে আসবো না।’ সেখানে এইসব বংশগর্বী লোকেরা কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারে? অথচ বিভিন্ন অন্যায় কলা কৌশলের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ শোষণ করা ব্যতীত এদের অন্য কোনো যোগ্যতা নেই। [যাঁরা আমাদের দেশে আওলাদে রাসূলের নামে কিংবা আবু বকর ছিদ্দিকের বা আলীর বংশধর হওয়ার নামে গর্ববোধ করেন কিংবা ঐ বংশের লোক হওয়ার কারণে তাদের প্রতি অহেতুক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকেন, তাঁরা একবার আলোচনাটি হৃদয়ঙ্গম করুন। (অনুবাদক)]
কবির বলেনঃ
إن الفتى من يقول ها أنا ذا * ليس الفتى من يقول كان أبي
‘নিশ্চয়ই প্রকৃত যুবক সেই যে, বলে যে, আমি বা আমার পরিচয় এই। সে কখনোই সত্যিকারের যুবক নয়, যে বলে আমার পিতা অমুক ছিলেন। অন্য এক কবি বলেন-
أقول لمن غدا في كل يوم * يباهينا بأســلاف عــظام
أتقنع بالعظام وأنت تدري * بأن الكلب يقنع بالعظام .
আমার কাছে প্রতিদিন সকালে একব্যক্তি এসে বংশের প্রাক্তন লোকদের নিয়ে বড়াই করে। অবশেষে আমি তাকে একদিন বললাম, তুমি যে শুধু বংশের হাড়-গোড় নিয়ে গৌরব করো, অথচ তুমি তা ভাল করেই জানো যে, কুকুরই শুধু হাড়-গোড় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে’।