hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৩

৮১। প্রতিপত্তির অহংকার

৮২। বিভিন্ন গ্রহের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা

৮৩। বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা

৮৪। কারো মৃত্যুর পরে চিৎকার করে কান্না করা

এ চারটি বিষয় একটি হাদীছ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন- বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো ‘আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না’। (১) প্রতিপত্তির অহংকার (২) বংশের নামে তিরস্কার (৩) গ্রহ নক্ষত্রাদির সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা ও (৪) কারো মৃত্যুর ফলে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা। এগুলো যে করবে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পাজামা এবং সারা গায়ে খোস পাঁচড়ার পোষাক পরানো হবে।’

উক্ত হাদীছ দ্বারা জাহেলী যুগের উপরোক্ত রীতিসমূহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে আজকাল অনেকেই এ সবের অনুকরণ করছে, বরং আরও বেড়ে গেছে এবং সেতারে রাগিনী সংযোগ করেছে। প্রিয় পাঠক! আপনি এসব লোকদেরকে দেখবেন নিজেদের বাপ-দাদার গর্ব করছে। অথচ নিজেরা তাদের চেয়ে অনেক দূরে। কেউ বলবে আমার দাদা ছিলেন অমুক বুযুর্গ। কেউ বলবে আমার দাদা ছিলেন অমুক আলেমী হক্কানী, এমনিতরো আরো কত কিছু। এমনিভাবে বংশের বড়াই করে তারা বলে- অমুকের বাপ-দাদারা পবিত্র বংশের ছিল না, কিংবা অমুকের পূর্ব পুরুষ উচচ মর্যাদার অধিকারী ছিল না প্রভৃতি।

এমনিভাবে গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনকে বৃষ্টির কারণ বা অসীলা মনে করা। অথচ তাদের অধিকাংশই এ বিশ্বাস রাখে না যে, গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনের মূল নিয়ামক খোদ আল্লাহ রাববুল আলামীন।

অতঃপর মৃত ব্যক্তির উপরে শোক করার বিষয়টি অনেকে শ্রেষ্ঠ আমল ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায় হিসাবে ধরে নিয়েছিলেন। যেমন- বিশেষ করে প্রতি বছর আশুরার সময় ইমাম হোসায়েনের রা. নামে ‘তাযিয়া’ বা শোক মিছিল বের করা হয়।

এমনিতরো অসংখ্য বেদআত চালু হয়ে গেছে যা লেখতে গেলে কলম ভারী হয়ে যাবে। সমস্ত বিষয় আল্লাহর উপরেই ন্যস্ত। তিনি ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।