hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৬

৭৪। আল্লাহর উপর কাল্পনিক মিথ্যা আশা

ইয়াহূদীরা অনুরূপ আশা পোষণ করতো। এদের একটি ঘটনা উপলক্ষে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়-

الم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتاب يدعون إلى كتاب الله ليحكم بينهم ثم يتولى فريق منهم وهم معرضون . ذلك بأنهم قالوا لن تمسنا النار إلا أياما معدودات وغرهم فى دينهم ما كانوا يفترون . ( آل عمران :23-24)

(হে নবী !) ‘‘আপনি কি দেখেননি ওদের আচরণ, যাদেরকে আল্লাহর কিতাবসমূহের একটা অংশ (তাওরাত) দেওয়া হয়েছে? ফয়সালার জন্য ওদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হলো। অতঃপর ওদের মধ্যকার একটি দল তা হতে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। (আল্লাহর কিতাবের ফয়সালা হতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার দুঃসাহসের পিছনে তাদের যে ধারণা ক্রিয়াশীল ছিল, তা হলো এই যে) তারা বলতো যে, (বাছুর পূজার) মাত্র কয়েকটি দিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের এই মিথ্যারোপ তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে ধোঁকায় নিক্ষেপ করে।’’ (সূরা আলে ইমরান : ২৩-২৪)

শানে নুযূলঃ ইবনে আব্বাস রা. থেকে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা ইয়াহূদীদের তাওরাত শিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে সমবেত ইয়াহূদীদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন। তখন ইয়াহূদী নেতা নু’মান ইবন আমর ও হারেছ ইবন যায়েদ জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি কোনো দ্বীনের উপরে আছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- ‘ইব্রাহীমের দ্বীন ও মিল্লাতের উপরে’। তখন উক্ত দুইজন বলল, ইব্রাহীমতো ইয়াহূদী ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, ‘বেশ তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো’। তাওরাতই তোমাদের ও আমাদের মধ্যে ফয়সালা দিবে। উক্ত ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়েই উপরোক্ত আয়াত নাযলি হয়।

বাইরের বর্ণনায় জানা যায় যে, ইসলামে রজমের নির্দেশ আসার আগে ইয়াহূদীদের মধ্যে একটি ব্যভিচারের ঘটনা সংঘটিত হয়। ব্যভিচারী পুরুষ ও মহিলা দু’জনেই উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কারণে শাস্তি কিছু হালকা করবার জন্য ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যাতায়াত শুরু করলো। রাসূল তাদেরকে বললেন, ‘আমি তোমাদের ধর্মের কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবো। তখন তারা রজমকে অস্বীকার করলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওরাত আনতে হুকুম দিলেন। ইয়াহূদী নেতা জুরহুম ইবন ছুরিয়া চতুরতার সংগে রজমের আয়াতটির উপরে হাত রেখে ওটা বাদ দিয়ে পড়ে গেল। তখন নও-মুসলিম প্রাক্তন ইয়াহূদী ধর্মীয় পন্ডিত আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে দিলেন এবং আয়াতটি প্রকাশ করে দিলেন। অতঃপর তাওরাতের বিধান মতে উক্ত ব্যভিচারীদের পাথর মেরে হত্যা করা হলো। এই ঘটনায় ইয়াহূদীরা ক্রুদ্ধ হয়। তখন উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া ফয়সালা ও তাওরাতের মীমাংসার প্রতি অবজ্ঞা করার পিছনে তাদের বিশ্বাস ছিল একটাই যে, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের ধারণা ছিল এই যে, আমাদের বাপ-দাদারা নবী ছিলেন। তাঁরা আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি তার আওলাদদেরকে আযাব দিবেন না, কেবল কসম লংঘন করা ব্যতীত। আল্লাহ তাদের এই সব ধারণার প্রতিবাদ করেন।

বর্তমান যুগে মুসলিমদের মধ্যেও শাফাআতের ভুল ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে এবং অনেকের ধারণা আছে যে, তারা নিজেদের আমল ব্যতীত অমুক হুজুর বা অমুক পীর সাহেবের কিংবা নিজেদের উচ্চ পদমর্যাদার কারণে সুপারিশের জোরে কিয়ামতের দিন পার পেয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। [লেখক এখানে সূরায়ে বাক্বারাহ ৮১-৮২ আয়াতকে পূনরায় দলীল হিসাবে এনেছেন।]