hadith book logo

সংক্ষিপ্ত ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব

লেখকঃ সাইয়্যেদ মাহমূদ শুকরী আলূসী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

৩৯। বাতিল বইপত্র পড়াশুনা করা এবং আল্লাহর আয়াতসমূহকে দূরে নিক্ষেপ করা

আজেবাজে বাতিল বইপত্র ক্রয় করা এবং সেগুলোকে আল্লাহর আয়াতসমূহের উপর স্থান দেওয়ার জাহেলী যুগের স্বভাব সম্পর্কে সূরা বাক্বারায় বলা হয়েছে-

وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿101﴾ وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآَخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿102﴾ وَلَوْ أَنَّهُمْ آَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿103﴾ ( سورة البقرة : 101-103)

‘যখন কিতাবীদের নিকট তাদের কিতাবসমূহের (তাওরাত ও ইঞ্জীল) সত্যতা জ্ঞাপনকারী আল্লাহর (কিতাবসহ) কোনো রাসূলের আগমন ঘটে, তখন তাদের একদল উক্ত কিতাবকে পিছনে নিক্ষেপ করে। ভাবখানা এই যেন তারা ওসবের কিছুই জানে না। বরং তারা সোলায়মানের আমলে শয়তানরা যা কিছু আবৃত্তি করতো, তারই অনুসরণ করে। সোলায়মান কুফরী করেননি। শয়তানরাই কুফরী করেছিল ও তারা মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। (আর তারা অনুসরণ করতো ঐ সব বস্তুর যা) হারুত ও মারুত (ফেরেশতাদ্বয়ের উপর পরীক্ষামূলক ভাবে) নাযিল করা হয়েছিল। তারা কাউকে কিছু শিক্ষা দেওয়ার আগে বলতো যে, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ (এসেছি)। অতএব তোমরা (এসব শিখে) কাফির হয়ো না। (কিন্তু এসব উপেক্ষা করে) তারা ঐ দু’জনের কাছ থেকে ঐসব বিদ্যা শিখে নিত, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে এবং যে সব বিষয় শিখত যা দ্বারা মানুষের কোনো উপকার নয় বরং ক্ষতিসাধন করা সম্ভব হয়। যদিও আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে তারা কারো কোনরূপ ক্ষতিসাধনের ক্ষমতা রাখে না। ওরা অবশ্যই জানে যে, এসব বাজে বিদ্যার খরিদকারীদের জন্য আখেরাতে কিছুই পাবার নেই। তা কত না নিকৃষ্ট, যার বিনিময়ে তারা নিজেদেরকে বিক্রি করেছে, যদি তারা জানতো! [মিথ্যা হাদীস ও বাজে কেচ্ছা কাহিনী ভর্তি করে যারা তথাকথিত ধর্মীয় কিতাবপত্র লিখে প্রচার করেন, তারা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। (অনুবাদক)।] (সূরা বাক্বারাহ, ২: আয়াত ১০১-১০২)

এমনিভাবে অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿78﴾ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ ﴿79﴾ ( سورة البقرة : 78-79)

‘তাদের মধ্যে এমন কতক মূর্খ আছে, যারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে একটা ভাসা ভাসা ধারণা ছাড়া কিছুই জ্ঞান রাখে না। অতএব ধ্বংস ঐসব লোকদের জন্য, যারা সামান্য অর্থ উপার্জনের (হীন স্বার্থ হাসিলের) জন্য নিজেরা কিতাব লিখে আল্লাহর কিতাব বলে চালিয়ে দেয়। ধ্বংস তাদের লেখনীর এবং ধ্বংস তাদের উপার্জনের’! (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৭৮-৭৯)

এই আয়াতটি ইয়াহূদী পীর-পুরোহিতদের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছিল। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীকে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক মনে করে রাসূলের গুণাবলী পরিবর্তন করতঃ মনগড়া কিতাবাদী লিখে আল্লাহর কিতাব বলে প্রচার করতো। [জানা আবশ্যক যে, পবিত্র কুরআনের কোন আয়াত কোন নির্দিষ্ট সময় উপলক্ষে নাযিল হলেও তার হুকুম সকল যুগে সকলের জন্য প্রযোজ্য। (অনুবাদক)]