hadith book logo

কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

৪. ভূগোল পানিচক্র

১৫০০ খ্রিস্টাব্দে বার্নার্ড পলিসি সর্বপ্রথম পানিচক্রের বর্তমান ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সাগর থেকে পানির বাষ্পাকারে উড়ে যাওয়া এবং পরে তা ঠাণ্ডা হয়ে মেঘে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেন। মেঘমালা সাগর থেকে দূরবর্তী ভূ-খণ্ডের ওপর ঘনীভূত হয় এবং ক্রমান্বয়ে তা বৃষ্টি আকারে নিচে পতিত হয়। এ বৃষ্টির পানি খাল-বিল ও নদ-নদীতে জড়ো হয় এবং অব্যাহত নিয়মে পুনরায় সাগরে ফিরে আসে। খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীতে মিলেটুসের থেলেস এ মতবাদ পোষণ করতেন যে, সমুদ্রের উপরিভাগের ছিটানো পানি কণাকে বাতাস ধারণ করে ওপরে তুলে নেয় এবং সমুদ্র দূরবর্তী স্থানে নিয়ে তা বৃষ্টি আকারে বর্ষণ করে।

আদিকালের লোকেরা ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস সম্পর্কে জানত না। তারা ভাবত যে, বাতাসের তাড়নায় সাগরের পানি সজোরে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে এসে পতিত হয়। তারা আরও বিশ্বাস করত যে, গোপন পথে কিংবা গভীর জলরাশি থেকে পানি পুনরায় ফিরে আসে যা সাগরের সাথে জড়িত। এটিকে প্লেটোর যুগে ‘টারটারুস’ বলা হত। এমনকি অষ্টাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত চিন্তাবিদ ডিসকার্টিজও এই একই মত পোষণ করতেন। ঊনবিংশ শতাব্দিতে এরিস্টোটলের তত্ত্ব সর্বত্র বিদ্যমান ছিল। এ তত্ত্ব অনুসারে, পাহাড়ের ঠাণ্ডা গভীর গুহায় পানি ঘনীভূত হয় এবং মাটির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হ্রদ ঝর্ণাগুলোকে পানি সরবরাহ করে। বর্তমানে, আমরা জানি যে, বৃষ্টির পানি মাটির ফাটল দিয়ে ভেতরে চুইয়ে পড়ার কারণে ঐ পানি পাওয়া যায়।

নিচের আয়াতসমূহের মাধ্যমে পানিচক্রের বর্ণনা দেয়া হয়েছে–

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَکَہٗ یَنَابِیۡعَ فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ

অর্থ : তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন। (সূরা যুমার : ২১)

وَّ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَیُحۡیٖ بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ

অর্থ : তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং এর দ্বারা মৃত্যুর পর ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। (সূরা রূম : ২৪)

وَ اَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسۡکَنّٰہُ فِی الۡاَرۡضِ ٭ۖ وَ اِنَّا عَلٰی ذَہَابٍۭ بِہٖ لَقٰدِرُوۡنَ

অর্থ : আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত, তারপর তাকে যমীনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম। (সূরা মুমিনুন :১৮)

১৪০০ বছর পূর্বে এমন অন্য কোন বই ছিল না যা পানিচক্রের এমন নির্ভুল বর্ণনা দেয়।