১
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
৬. সমুদ্র বিজ্ঞান মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির মধ্যেকার অন্তরায়
কোরআনের নিম্নলিখিত আয়াতটি লক্ষ্য করুন–
مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ . بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ
অর্থ : তিনি পাশাপাশি দুই প্রকার সাগর প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরায়, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। (সূরা আর-রাহমান :১৯-২০)
আরবি ভাষায় برزخ (বারযাখ) শব্দটির অর্থ হচ্ছে আড়াল বা অন্তরায়। এ অন্তরায় কোন শরীরিক বিভাজন নয়। আরবি শব্দ مرج (মরজা)-এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে। ‘তারা উভয়েই একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায়। প্রাথমিক যুগের মুফাসসিরগণ পানির দুটো ধারার দুটো বিপরীতমুখি অর্থের ব্যাখ্যা করতে অপারগ ছিলেন। অর্থাৎ, কিভাবে তারা মিশে একাকার হয়ে যায়, অথচ উভয়ের মধ্যে রয়েছে আড়াল। আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, যেখানে দুটি ভিন্ন সমুদ্র এসে একত্রে মিলিত হয়, সেখানে উভয়ের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক বা অন্তরায় থাকে। এ অন্তরায় দুটি সমুদ্রকে বিভক্ত করে, ফলে প্রত্যেক সমুদ্রের নিজস্ব তাপমাত্রা, লবণাক্ত এবং ঘনত্ব অক্ষুন্ন থাকে। সাগরবিদদের এ আয়াতের আরও উন্নততর ব্যাখ্যা দানের উত্তম সুযোগ রয়েছে। দুটি সাগরের মধ্যে প্রবাহমান ঢালু পানির অদৃশ্য আড়াল বা অন্তরায় আছে যার মধ্য দিয়ে এক সাগরের পানি অন্য সাগরে যায়।
কিন্তু যখন এক সমুদ্র থেকে পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে তখন সে সমুদ্রটি তার নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সমুদ্রের পানির বৈশিষ্ট্যের সাথে একাকার হয়ে যায়। এভাবে দুই ধরনের পানির মধ্যে পরিবর্তনমূলক একীভূতকারী বন্ধন হিসেবে এ অন্তরায় কাজ করে।
কোরআনে উল্লিখিত এ বৈজ্ঞানিক ধারণাটি ডঃ উইলিয়াম হে, যিনি বহুল পরিচিত সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক, তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সমর্থন করেছেন।
কোরআনের নিচের আয়াতেও এ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে–
وَ جَعَلَ بَیۡنَ الۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًا
অর্থ : তিনি দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। (সূরা নামল : ৬১)
এ অন্তরায় জিব্রাল্টার ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলসহ আরও অনেক জায়গায় দেখা যায়।
কিন্তু কোরআন যখন মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যে বিভক্তকারী অন্তরায় সম্পর্কে বলে, তখন ঐ অন্তরায়ের সাথে নিষেধকারী প্রতিবন্ধকতার কথাই বলে। যেমন, আল্লাহর কথা–
ہُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّ ہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَ جَعَلَ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخًا وَّ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا
অর্থ : তিনিই সমান্তরাল দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটি নিবারক ও এটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়; একটি দুর্ভেদ্য আড়াল। (সূরা ফুরকান : ৫৩)
‘আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, নদীর মোহনায় যেখানে মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানি মিলিত হয়, সেখানের অবস্থা ঐ স্থান থেকে ভিন্ন, যেখানে দু’লবণাক্ত পানি গিয়ে মিশে। নদীর মোহনায় লবণাক্ত ও মিষ্টি পানি মিলিত হলে যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, তার কারণ হলো সেখানে দুটো স্তরকে পৃথককারী চিহ্নিত ঘনত্বের ধারাবাহিকতাবিহীন Pycnocline zone রয়েছে। এ বিভাজন স্থানে এক প্রকার লবণাক্ততা রয়েছে যা মিঠা ও লবণাক্ত উভয় থেকেই ভিন্ন।
মিসরের নীলনদ যেখানে ভূ-মধ্যসাগরে গিয়ে মিলিত হয় সে স্থানসহ আরও কয়েক জায়গায় এ ধরনের বিভাজনের দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ . بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ
অর্থ : তিনি পাশাপাশি দুই প্রকার সাগর প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরায়, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। (সূরা আর-রাহমান :১৯-২০)
আরবি ভাষায় برزخ (বারযাখ) শব্দটির অর্থ হচ্ছে আড়াল বা অন্তরায়। এ অন্তরায় কোন শরীরিক বিভাজন নয়। আরবি শব্দ مرج (মরজা)-এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে। ‘তারা উভয়েই একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায়। প্রাথমিক যুগের মুফাসসিরগণ পানির দুটো ধারার দুটো বিপরীতমুখি অর্থের ব্যাখ্যা করতে অপারগ ছিলেন। অর্থাৎ, কিভাবে তারা মিশে একাকার হয়ে যায়, অথচ উভয়ের মধ্যে রয়েছে আড়াল। আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, যেখানে দুটি ভিন্ন সমুদ্র এসে একত্রে মিলিত হয়, সেখানে উভয়ের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক বা অন্তরায় থাকে। এ অন্তরায় দুটি সমুদ্রকে বিভক্ত করে, ফলে প্রত্যেক সমুদ্রের নিজস্ব তাপমাত্রা, লবণাক্ত এবং ঘনত্ব অক্ষুন্ন থাকে। সাগরবিদদের এ আয়াতের আরও উন্নততর ব্যাখ্যা দানের উত্তম সুযোগ রয়েছে। দুটি সাগরের মধ্যে প্রবাহমান ঢালু পানির অদৃশ্য আড়াল বা অন্তরায় আছে যার মধ্য দিয়ে এক সাগরের পানি অন্য সাগরে যায়।
কিন্তু যখন এক সমুদ্র থেকে পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে তখন সে সমুদ্রটি তার নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সমুদ্রের পানির বৈশিষ্ট্যের সাথে একাকার হয়ে যায়। এভাবে দুই ধরনের পানির মধ্যে পরিবর্তনমূলক একীভূতকারী বন্ধন হিসেবে এ অন্তরায় কাজ করে।
কোরআনে উল্লিখিত এ বৈজ্ঞানিক ধারণাটি ডঃ উইলিয়াম হে, যিনি বহুল পরিচিত সমুদ্র বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক, তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সমর্থন করেছেন।
কোরআনের নিচের আয়াতেও এ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে–
وَ جَعَلَ بَیۡنَ الۡبَحۡرَیۡنِ حَاجِزًا
অর্থ : তিনি দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। (সূরা নামল : ৬১)
এ অন্তরায় জিব্রাল্টার ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলসহ আরও অনেক জায়গায় দেখা যায়।
কিন্তু কোরআন যখন মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যে বিভক্তকারী অন্তরায় সম্পর্কে বলে, তখন ঐ অন্তরায়ের সাথে নিষেধকারী প্রতিবন্ধকতার কথাই বলে। যেমন, আল্লাহর কথা–
ہُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّ ہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَ جَعَلَ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخًا وَّ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا
অর্থ : তিনিই সমান্তরাল দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটি নিবারক ও এটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়; একটি দুর্ভেদ্য আড়াল। (সূরা ফুরকান : ৫৩)
‘আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, নদীর মোহনায় যেখানে মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানি মিলিত হয়, সেখানের অবস্থা ঐ স্থান থেকে ভিন্ন, যেখানে দু’লবণাক্ত পানি গিয়ে মিশে। নদীর মোহনায় লবণাক্ত ও মিষ্টি পানি মিলিত হলে যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, তার কারণ হলো সেখানে দুটো স্তরকে পৃথককারী চিহ্নিত ঘনত্বের ধারাবাহিকতাবিহীন Pycnocline zone রয়েছে। এ বিভাজন স্থানে এক প্রকার লবণাক্ততা রয়েছে যা মিঠা ও লবণাক্ত উভয় থেকেই ভিন্ন।
মিসরের নীলনদ যেখানে ভূ-মধ্যসাগরে গিয়ে মিলিত হয় সে স্থানসহ আরও কয়েক জায়গায় এ ধরনের বিভাজনের দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।