১
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
ভূমিকা
بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
এ গ্রহে মানুষ প্রথম যেদিন এসেছিল, সেদিন থেকেই সে সর্বদা প্রকৃতি, সৃষ্টি পরিক্রমায় তার অবস্থান এবং তার জীবনের একান্ত উদ্দেশ্যকে বুঝতে চেষ্টা করছে। সত্য অনুসন্ধানের এ পরিক্রমায় বহু শতাব্দী এবং ইতিহাস গতিপথকে বহুলাংশে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় এসেছে বিভিন্ন ধর্ম। এসব ধর্মের মধ্যে কতিপয় ধর্ম বইভিত্তিক। আর এসব বইকে ঐসব ধর্মের অনুসারীরা ঐশী প্রত্যাদেশ বলে দাবি করেন। এছাড়া অন্য ধর্মগুলো মানবীয় অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে।
ইসলামি আক্বীদা বা ধর্ম বিশ্বাসের প্রধান উৎস হচ্ছে আল-কোরআন, মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, এটি সম্পূর্ণভাবে স্বর্গীয় প্রত্যাদেশ। মুসলমানরা আরও বিশ্বাস করেন যে, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক। যেহেতু কোরআনের বাণীকে সকল যুগের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য বলে বিশ্বাস করা হয়, সেহেতু এটি সকল যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোরআন কি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ? এ ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে আমি কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আলোকে, ঐশী উৎসের ভিত্তিতে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ দিতে চাই।
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে একদা এমন সময় ছিল, যখন ‘অলৌকিকতা’ বা যা অলৌকিক হিসেবে বিবেচিত হত, তা মানবীয় ধারণা ও যুক্তির ওপর প্রাধান্য পেত। কিন্তু আমরা ‘অলৌকিকতা’ শব্দটিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করব? ‘অলৌকিকতা’র সাধারণ সংজ্ঞা হল, এটি এমন বিষয় যা জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের বাইরে সংঘটিত হয় এবং সেজন্য মানুষের কাছে এর কোন ব্যাখ্যা থাকে না। যাহোক, কোন কিছুকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত ‘The Times of India’-এর ১৯৯৩ সালের একটি নিবন্ধে বলা হয়েছিল যে, ‘বাবা পাইলট’ নামে একজন সাধু একটানা তিন দিন তিন রাত ট্যাংকের ভেতরে পানির নিচে থাকার দাবি করে।
কিন্তু সংবাদিকরা যখন ঐ ট্যাংকটির তলদেশ পরীক্ষা করতে চাইল, যেখানে অবস্থান করে সে অলৌকিকত্ব দাবি করেছিল, সে তা তাদেরকে পরীক্ষা করতে দিতে অস্বীকৃতি জানাল। সে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যুক্তি দেখিয়েছে যে, যেই মা সন্তান প্রসব করে তার পেট পরীক্ষা করা যায় কীভাবে? ঐ ‘বাবা’ কোন কিছুকে লুকিয়েছিল? এটা ছিল নিজেকে জনপ্রিয় করার জন্য এক ধরনের প্রতারণা। সামান্যতম যৌক্তিক বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন কোন আধুনিক ব্যক্তি এ ধরনের অলৌকিকতাকে অবশ্যই গ্রহণ করবে না। এ ধরনের মিথ্যা অলৌকিকতা যদি ঐশী পরীক্ষা হয় তাহলে অতি সাধারণ যাদুকরী কৌশল ও মিথ্যাচারের রূপকার বিখ্যাত যাদুকর মিঃ পি. সি. সরকারকে সবচেয়ে আল্লাহভক্ত মানুষ হিসেবে আমাদের মানা উচিত নয় কি?
যদি কোন বইকে ঐশী বই বলে দাবি করা হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা অলৌকিক বলেও দাবি করা যাবে। এ জাতীয় দাবি যে কোন যুগে সহজভাবে পরীক্ষাযোগ্য হওয়া উচিত। মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত গ্রন্থ, যা সকল অলৌকিকতার অলৌকিকতা। সুতরাং আমাদের এ বিশ্বাসের নির্ভুলতা অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন।
এ গ্রহে মানুষ প্রথম যেদিন এসেছিল, সেদিন থেকেই সে সর্বদা প্রকৃতি, সৃষ্টি পরিক্রমায় তার অবস্থান এবং তার জীবনের একান্ত উদ্দেশ্যকে বুঝতে চেষ্টা করছে। সত্য অনুসন্ধানের এ পরিক্রমায় বহু শতাব্দী এবং ইতিহাস গতিপথকে বহুলাংশে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় এসেছে বিভিন্ন ধর্ম। এসব ধর্মের মধ্যে কতিপয় ধর্ম বইভিত্তিক। আর এসব বইকে ঐসব ধর্মের অনুসারীরা ঐশী প্রত্যাদেশ বলে দাবি করেন। এছাড়া অন্য ধর্মগুলো মানবীয় অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে।
ইসলামি আক্বীদা বা ধর্ম বিশ্বাসের প্রধান উৎস হচ্ছে আল-কোরআন, মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, এটি সম্পূর্ণভাবে স্বর্গীয় প্রত্যাদেশ। মুসলমানরা আরও বিশ্বাস করেন যে, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক। যেহেতু কোরআনের বাণীকে সকল যুগের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য বলে বিশ্বাস করা হয়, সেহেতু এটি সকল যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোরআন কি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ? এ ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে আমি কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আলোকে, ঐশী উৎসের ভিত্তিতে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ দিতে চাই।
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে একদা এমন সময় ছিল, যখন ‘অলৌকিকতা’ বা যা অলৌকিক হিসেবে বিবেচিত হত, তা মানবীয় ধারণা ও যুক্তির ওপর প্রাধান্য পেত। কিন্তু আমরা ‘অলৌকিকতা’ শব্দটিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করব? ‘অলৌকিকতা’র সাধারণ সংজ্ঞা হল, এটি এমন বিষয় যা জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের বাইরে সংঘটিত হয় এবং সেজন্য মানুষের কাছে এর কোন ব্যাখ্যা থাকে না। যাহোক, কোন কিছুকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। মুম্বাই থেকে প্রকাশিত ‘The Times of India’-এর ১৯৯৩ সালের একটি নিবন্ধে বলা হয়েছিল যে, ‘বাবা পাইলট’ নামে একজন সাধু একটানা তিন দিন তিন রাত ট্যাংকের ভেতরে পানির নিচে থাকার দাবি করে।
কিন্তু সংবাদিকরা যখন ঐ ট্যাংকটির তলদেশ পরীক্ষা করতে চাইল, যেখানে অবস্থান করে সে অলৌকিকত্ব দাবি করেছিল, সে তা তাদেরকে পরীক্ষা করতে দিতে অস্বীকৃতি জানাল। সে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যুক্তি দেখিয়েছে যে, যেই মা সন্তান প্রসব করে তার পেট পরীক্ষা করা যায় কীভাবে? ঐ ‘বাবা’ কোন কিছুকে লুকিয়েছিল? এটা ছিল নিজেকে জনপ্রিয় করার জন্য এক ধরনের প্রতারণা। সামান্যতম যৌক্তিক বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন কোন আধুনিক ব্যক্তি এ ধরনের অলৌকিকতাকে অবশ্যই গ্রহণ করবে না। এ ধরনের মিথ্যা অলৌকিকতা যদি ঐশী পরীক্ষা হয় তাহলে অতি সাধারণ যাদুকরী কৌশল ও মিথ্যাচারের রূপকার বিখ্যাত যাদুকর মিঃ পি. সি. সরকারকে সবচেয়ে আল্লাহভক্ত মানুষ হিসেবে আমাদের মানা উচিত নয় কি?
যদি কোন বইকে ঐশী বই বলে দাবি করা হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা অলৌকিক বলেও দাবি করা যাবে। এ জাতীয় দাবি যে কোন যুগে সহজভাবে পরীক্ষাযোগ্য হওয়া উচিত। মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত গ্রন্থ, যা সকল অলৌকিকতার অলৌকিকতা। সুতরাং আমাদের এ বিশ্বাসের নির্ভুলতা অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন।