১
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
১২. ভ্রূণতত্ত্ব বিদ্যা মানুষ ‘আলাক্ব’ - জোঁকের মত বস্তু হতে সৃষ্ট
কয়েক বছর আগে একদল আরব পণ্ডিত কোরআন হতে ভ্রূণ বিজ্ঞানের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। সেক্ষেত্রে তারা কোরআনের এ উপদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে রেখেছেন–
فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থ : অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে। (সূরা আম্বিয়া : ৭)
কোরআন থেকে ভ্রূণসংক্রান্ত সকল তথ্যকে একত্রিত করে ইংরেজিতে অনুবাদ করার পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ অধ্যাপক এবং এনাটমি (জীবদেহের গঠনসংক্রান্ত বিজ্ঞান) বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ কেইথ মূরের নিকট উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তিনি ভ্রূণ তত্ত্ববিদ্যার সর্বশ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম।
কোরআনে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রদান করা হয়েছে সেই সম্পর্কে তার মতামত প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়। তার নিকট উপস্থাপিত কোরআনের আয়াতের অনুবাদগুলো সতর্কতার সাথে যাচাই করার পর ডঃ মূর বলেন, যে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে কোরআনের উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্য ভ্রূণ তত্ত্বের আধুনিক আবিষ্কারের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায় এবং কোনোক্রমেই এগুলোর মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয় না। তিনি আরও বলেন যে, কিছু আয়াত রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক সত্যতা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে পারেন না। সেগুলো সত্য না মিথ্যা তাও তিনি বলতে পারেন নি, কারণ ঐ আয়াতগুলোতে বর্ণিত তথ্যসমূহ সম্পর্কে তিনি নিজেই জ্ঞাত নন। আধুনিক ভ্রূণ তত্ত্ব বিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।
ঐ ধরনের একটি আয়াত হল–
اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ . خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ
অর্থ : পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। (সূরা আলাক্ব : ১-২)
আরবি শব্দ علق (আলাক্ব) এর অর্থ ‘জমাট রক্ত’। এর অন্য অর্থ হল– দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে এমন আঠালো জিনিস। যেমন, জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।
ডঃ কেইথ মূর জানতেন না যে, প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ভ্রূণকে জোঁকের মত দেখায় কিনা। একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা যাচাই করতে গবেষণা শুরু করেন এবং প্রাথমিক দশায় ভ্রূণের আকৃতির সাথে একটি জোঁকের আকৃতিকে তুলনা করেন। তিনি এ দুটোর মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখে অভিভূত হয়ে যান। একইভাবে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে তার অজানা অনেক জ্ঞান তিনি কোরআনের থেকে লাভ করেন।
ডঃ কেইথ মুর কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত আশিটির মত প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, ভ্রূণ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কারের সাথে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের পূর্ণ মিল রয়েছে। প্রফেসর মূর বলেন, ‘আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে এ সকল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হত, তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সেগুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।’
ডঃ কেইথ মূর ইতিপূর্বে ‘The Dveloping Human’ নামক একটি বই লিখেছিলেন। কোরআন থেকে নতুন জ্ঞান অর্জনের পর তিনি ১৯৮২ সালে বইটির তৃতীয় সংস্করণ লিখেন। বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বইটি বিশ্বের বড় বড় অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং প্রথম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ভ্রূণতত্ত্বের পাঠ্য বই হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৯৮১ সালে সৌদি আরবের দাম্মামে সপ্তম মেডিকেল কনফারেন্সে ডা. মূর বলেছেন, “কোরআনে বর্ণিত মানুষের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে তথ্যাবলির ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে আনন্দিত। এটা আমার নিকট অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সকল বর্ণনা অবশ্যই আল্লাহর নিকট হতেই এসেছিল। কারণ, এগুলোর প্রায় সকল জ্ঞানই পরবর্তী বহু শতাব্দী পরেও আবিষ্কৃত হয় নি। এটা আমার কাছে প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ জো লিগ সিম্পসান ঘোষণা করেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত এসব হাদীস সপ্তম শতাব্দীতে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তিতে সংগৃহীত হয় নি। তাই পরবর্তীতে দেখা গেল যে, ধর্মের সাথে বংশগতিবিষয়ক বিজ্ঞান বা প্রজননশাস্ত্রের কোন পার্থক্য নেই; উপরন্তু প্রচলিত বৈজ্ঞানিক মতের সাথে ধর্ম তার বিস্ময়কর জ্ঞানকে যুক্ত করার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে পথ প্রদর্শন করতে পারে.... কোরআনের বর্ণিত বর্ণনাগুলো কয়েক শতাব্দী পরে যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে; যাতে বুঝা যায় যে, কোরআনের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত।’
فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থ : অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে। (সূরা আম্বিয়া : ৭)
কোরআন থেকে ভ্রূণসংক্রান্ত সকল তথ্যকে একত্রিত করে ইংরেজিতে অনুবাদ করার পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণ অধ্যাপক এবং এনাটমি (জীবদেহের গঠনসংক্রান্ত বিজ্ঞান) বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ কেইথ মূরের নিকট উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তিনি ভ্রূণ তত্ত্ববিদ্যার সর্বশ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম।
কোরআনে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রদান করা হয়েছে সেই সম্পর্কে তার মতামত প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়। তার নিকট উপস্থাপিত কোরআনের আয়াতের অনুবাদগুলো সতর্কতার সাথে যাচাই করার পর ডঃ মূর বলেন, যে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে কোরআনের উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্য ভ্রূণ তত্ত্বের আধুনিক আবিষ্কারের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায় এবং কোনোক্রমেই এগুলোর মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয় না। তিনি আরও বলেন যে, কিছু আয়াত রয়েছে যার বৈজ্ঞানিক সত্যতা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে পারেন না। সেগুলো সত্য না মিথ্যা তাও তিনি বলতে পারেন নি, কারণ ঐ আয়াতগুলোতে বর্ণিত তথ্যসমূহ সম্পর্কে তিনি নিজেই জ্ঞাত নন। আধুনিক ভ্রূণ তত্ত্ব বিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।
ঐ ধরনের একটি আয়াত হল–
اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ . خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ
অর্থ : পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। (সূরা আলাক্ব : ১-২)
আরবি শব্দ علق (আলাক্ব) এর অর্থ ‘জমাট রক্ত’। এর অন্য অর্থ হল– দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে এমন আঠালো জিনিস। যেমন, জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।
ডঃ কেইথ মূর জানতেন না যে, প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ভ্রূণকে জোঁকের মত দেখায় কিনা। একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা যাচাই করতে গবেষণা শুরু করেন এবং প্রাথমিক দশায় ভ্রূণের আকৃতির সাথে একটি জোঁকের আকৃতিকে তুলনা করেন। তিনি এ দুটোর মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখে অভিভূত হয়ে যান। একইভাবে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে তার অজানা অনেক জ্ঞান তিনি কোরআনের থেকে লাভ করেন।
ডঃ কেইথ মুর কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত আশিটির মত প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, ভ্রূণ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কারের সাথে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের পূর্ণ মিল রয়েছে। প্রফেসর মূর বলেন, ‘আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে এ সকল প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হত, তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সেগুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।’
ডঃ কেইথ মূর ইতিপূর্বে ‘The Dveloping Human’ নামক একটি বই লিখেছিলেন। কোরআন থেকে নতুন জ্ঞান অর্জনের পর তিনি ১৯৮২ সালে বইটির তৃতীয় সংস্করণ লিখেন। বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বইটি বিশ্বের বড় বড় অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং প্রথম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ভ্রূণতত্ত্বের পাঠ্য বই হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৯৮১ সালে সৌদি আরবের দাম্মামে সপ্তম মেডিকেল কনফারেন্সে ডা. মূর বলেছেন, “কোরআনে বর্ণিত মানুষের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে তথ্যাবলির ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে আনন্দিত। এটা আমার নিকট অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সকল বর্ণনা অবশ্যই আল্লাহর নিকট হতেই এসেছিল। কারণ, এগুলোর প্রায় সকল জ্ঞানই পরবর্তী বহু শতাব্দী পরেও আবিষ্কৃত হয় নি। এটা আমার কাছে প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ জো লিগ সিম্পসান ঘোষণা করেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত এসব হাদীস সপ্তম শতাব্দীতে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তিতে সংগৃহীত হয় নি। তাই পরবর্তীতে দেখা গেল যে, ধর্মের সাথে বংশগতিবিষয়ক বিজ্ঞান বা প্রজননশাস্ত্রের কোন পার্থক্য নেই; উপরন্তু প্রচলিত বৈজ্ঞানিক মতের সাথে ধর্ম তার বিস্ময়কর জ্ঞানকে যুক্ত করার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে পথ প্রদর্শন করতে পারে.... কোরআনের বর্ণিত বর্ণনাগুলো কয়েক শতাব্দী পরে যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে; যাতে বুঝা যায় যে, কোরআনের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত।’