১
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৪
১৪. উপসংহার
কোরআন বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোর উপস্থিতিকে সমকালে সংঘটিত কোন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা সাধারণ জ্ঞান ও সত্যিকার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী। প্রকৃতপক্ষে কোরআনের আয়াতসমূহের বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতাই কোরআনের উন্মুক্ত ঘোষণার নিশ্চয়তা প্রদান করেঃ
سَنُرِیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا فِی الۡاٰفَاقِ وَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَہُمۡ اَنَّہُ الۡحَقُّ ؕ اَوَ لَمۡ یَکۡفِ بِرَبِّکَ اَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ
অর্থ : আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব দূর দিগন্তে (অর্থাৎ দূর পর্যন্ত ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হবে) আর তাদের নিজের মধ্যেও (অর্থাৎ কাফিররা নতজানু হয়ে ইসলাম কবুল করবে) যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সব কিছুরই সাক্ষী। (হামীম সিজদাহ : ৫৩)
নীচের আয়াতটির মাধ্যমে কুরআন সকল মানুষকে এ বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে ভাবতে আহ্বান করেঃ
اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّہَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ
অর্থ : নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন। (সূরা আলে ইমরান : ১৯০)
কোরআনের বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য পরিষ্কার প্রমাণ করে যে, এটি আল্লাহর বাণী। ১৪০০ বছর পূর্বে কোন মানুষের দ্বারা এমন বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য বৈজ্ঞানিক বিষয়াদি সম্বলিত কোন বই লেখা সম্ভব ছিল না– যেসব সত্য মানুষের দ্বারা শতশত বছর পর আবিষ্কৃত হবে। যাহোক, কোরআন বিজ্ঞানের কোন গ্রন্থ নয় বরং নিদর্শন গ্রন্থ। এ নিদর্শনাবলি মানুষকে পৃথিবীতে তার অবস্থানের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে আহ্বান জানায়। কোরআন যথার্থভাবেই সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক আল্লাহর পয়গাম বা বাণী। এতে আল্লাহর একত্ববাদের পয়গাম রয়েছে যার প্রতি সকল নবী-রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আদম আলাইহিস সালাম, মুসা আলাইহিস সালাম, ঈসা আলাইহিস সালাম এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যতম।
‘কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ বিষয়ের ওপর বহু বৃহৎ গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এ নিয়ে আরও অনেক গবেষণা চলছে। ইনশাআল্লাহ এ গবেষণা মানবজাতিকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ পুস্তিকায় কোরআনের অল্প কয়েকটি বৈজ্ঞানিক সত্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি বিষয়টির ওপর পূর্ণ ইনসাফ করতে পেরেছি বলে দাবি করছি না।
অধ্যাপক তেজাসেন কোরআনে উল্লিখিত একটি মাত্র বৈজ্ঞানিক নিদর্শনের শক্তির কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কোরআন যে আসমানী গ্রন্থ তা নিশ্চিত হতে প্রমাণস্বরূপ কারো প্রয়োজন হতে পারে ১০টি নিদর্শন, আবার কেউ হয়তো ১০০টি নিদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করতে পারে, আবার কেউ ১০০০টি নিদর্শন দেখেও সত্য (ইসলাম) গ্রহণ করবে না। কোরআনে নিচের আয়াতে এ ধরনের বন্ধ মানসিকতার নিন্দা করেছে–
صُمٌّۢ بُکۡمٌ عُمۡیٌ فَہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ
অর্থ : এরা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং এরা (সঠিক পথে) ফিরে আসবে না। (সূরা বাকারাহ : ১৮)
ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কোরআন একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আলহামদুলিল্লাহ, (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মানব রচিত বিভিন্ন মতবাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত! স্রষ্টার চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল পথনির্দেশ কে প্রদান করতে পারে?
আমি প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ যেন এ সামান্য প্রচেষ্টাটুকু কবুল করেন। আমি তার ক্ষমা ও হেদায়াত কামনা করি।
সমাপ্ত
سَنُرِیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا فِی الۡاٰفَاقِ وَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَہُمۡ اَنَّہُ الۡحَقُّ ؕ اَوَ لَمۡ یَکۡفِ بِرَبِّکَ اَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ
অর্থ : আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব দূর দিগন্তে (অর্থাৎ দূর পর্যন্ত ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হবে) আর তাদের নিজের মধ্যেও (অর্থাৎ কাফিররা নতজানু হয়ে ইসলাম কবুল করবে) যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সব কিছুরই সাক্ষী। (হামীম সিজদাহ : ৫৩)
নীচের আয়াতটির মাধ্যমে কুরআন সকল মানুষকে এ বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে ভাবতে আহ্বান করেঃ
اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّہَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ
অর্থ : নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন। (সূরা আলে ইমরান : ১৯০)
কোরআনের বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য পরিষ্কার প্রমাণ করে যে, এটি আল্লাহর বাণী। ১৪০০ বছর পূর্বে কোন মানুষের দ্বারা এমন বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য বৈজ্ঞানিক বিষয়াদি সম্বলিত কোন বই লেখা সম্ভব ছিল না– যেসব সত্য মানুষের দ্বারা শতশত বছর পর আবিষ্কৃত হবে। যাহোক, কোরআন বিজ্ঞানের কোন গ্রন্থ নয় বরং নিদর্শন গ্রন্থ। এ নিদর্শনাবলি মানুষকে পৃথিবীতে তার অবস্থানের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে আহ্বান জানায়। কোরআন যথার্থভাবেই সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক আল্লাহর পয়গাম বা বাণী। এতে আল্লাহর একত্ববাদের পয়গাম রয়েছে যার প্রতি সকল নবী-রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আদম আলাইহিস সালাম, মুসা আলাইহিস সালাম, ঈসা আলাইহিস সালাম এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যতম।
‘কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ বিষয়ের ওপর বহু বৃহৎ গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এ নিয়ে আরও অনেক গবেষণা চলছে। ইনশাআল্লাহ এ গবেষণা মানবজাতিকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ পুস্তিকায় কোরআনের অল্প কয়েকটি বৈজ্ঞানিক সত্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি বিষয়টির ওপর পূর্ণ ইনসাফ করতে পেরেছি বলে দাবি করছি না।
অধ্যাপক তেজাসেন কোরআনে উল্লিখিত একটি মাত্র বৈজ্ঞানিক নিদর্শনের শক্তির কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কোরআন যে আসমানী গ্রন্থ তা নিশ্চিত হতে প্রমাণস্বরূপ কারো প্রয়োজন হতে পারে ১০টি নিদর্শন, আবার কেউ হয়তো ১০০টি নিদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করতে পারে, আবার কেউ ১০০০টি নিদর্শন দেখেও সত্য (ইসলাম) গ্রহণ করবে না। কোরআনে নিচের আয়াতে এ ধরনের বন্ধ মানসিকতার নিন্দা করেছে–
صُمٌّۢ بُکۡمٌ عُمۡیٌ فَہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ
অর্থ : এরা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং এরা (সঠিক পথে) ফিরে আসবে না। (সূরা বাকারাহ : ১৮)
ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কোরআন একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আলহামদুলিল্লাহ, (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মানব রচিত বিভিন্ন মতবাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত! স্রষ্টার চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল পথনির্দেশ কে প্রদান করতে পারে?
আমি প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ যেন এ সামান্য প্রচেষ্টাটুকু কবুল করেন। আমি তার ক্ষমা ও হেদায়াত কামনা করি।
সমাপ্ত