hadith book logo

ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব

লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

ইসলামে মানবাধিকার

আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন,

﴿وَلَقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِيٓ ءَادَمَ وَحَمَلۡنَٰهُمۡ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ وَرَزَقۡنَٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَفَضَّلۡنَٰهُمۡ عَلَىٰ كَثِيرٖ مِّمَّنۡ خَلَقۡنَا تَفۡضِيلٗا ٧٠﴾ [ الاسراء : ٧٠ ]

“আর আমরা তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমরা তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের থেকে অনেকের উপর আমি তাদেরকে অনেক মর্যাদা দিয়েছি।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭০]

আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর খলীফা বানিয়েছেন। [দেখুন সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩০; সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭২।] তাদেরকে পৃথিবীর উত্তম বস্তু থেকে উপকৃত হবার এবং তা ব্যবহার করে পার্থিব ও চিরস্থায়ী জীবনের কল্যাণ অর্জনের স্বাধীনতা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে এ পৃথিবী আবাদ করা এবং এতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্বও দিয়েছেন।

তিনি সকল মানবকে একই উপাদান তথা মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৫৯।] অতপর এক পিতা ও এক মাতা থেকে তাদের সংখ্যা ক্রমে বাড়াতে লাগলেন। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ০১।] তাইতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى عَجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى» .

“হে লোকসকল, তোমাদের রব এক। তোমাদের পিতা এক। মনে রেখো, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আরবের ওপর অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কালোর ওপর লালের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আবার লালের ওপর কালোরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতে।” [আহমাদ, হাদীস নং ৬৩৫৩২।]

হাদীসে উল্লিখিত এই সাম্যের আহ্বান কিন্তু বহুল উচ্চারিত সাধারণ মানবাধিকারের শ্লোগানের মতো নয়। এর তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য হলো তা কথার নয়, কাজের।

মানুষকে সম্মানিত করার অংশ হিসেবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সর্বোত্তম অবয়ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন [সূরা আত-তীন, আয়াত: ০৪।] এবং তার পিতামাতার ওপর তার একটি সুন্দর নাম রাখা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। সুন্নত করেছেন সন্তানের শুভাগমনের আনন্দ উদযাপন করা এবং এজন্য তাঁর উদ্দেশ্যে কুরবানী করা। অতঃপর তাদের ওপর তাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন অপরিহার্য করেছেন যাতে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি তিনি তার জন্য নানা সামাজিক অধিকারও সংরক্ষণ করেছেন। [আল-মুহাইসিন নাসির ওয়া দারবীশ, পৃ. ৩৯৯; চীনী, আল-ইসলাম ওয়াত-তানশিয়া সিয়াসিয়্যা।]