hadith book logo

ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব

লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

হিজাব কেন নারীর জন্য?

সম্ভবত অমুসলিমরা প্রশ্ন তোলেন পর্দা করার দায় কেবল নারীর কেন? আমি অমুসলিমের কথা বললাম এ জন্য যে মুসলিম মাত্রেই তো বিশ্বাস করেন, চেতনা লালন করেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যা-ই জরুরী সাব্যস্ত করেন না কেন তাতে তার মঙ্গল নিহিত থাকে। আর এ আদেশ অমান্য করলে তাকে শাস্তি ও আজাবে পতিত হতে হবে। হ্যাঁ, কিছু মুসলিমও বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। আসলে বিষয়টির প্রতি বাস্তবসম্মত দৃষ্টি দেওয়া দরকার। যাতে কেবল নারীর জন্যই পর্দা বিধানের ইতিবাচক দিকগুলো আমরা অনুধাবন করতে পারি।

ইসলামী পর্দা একজন নারীকে বিশেষ এক মর্যাদা দান করে। যা তার শারীরিক দুর্বলতা ও কোমলতাকে আড়াল করে। পর্দা নারীকে সেসব কষ্ট ও বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে বেপর্দা নারীরা যার শিকার হয়। যেমন, এর সর্বনিম্ন স্তর নারীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়া এবং তার সম্মানহানীর দুঃসাহস দেখানো। আর এটাই স্বাভাবিক। অপরদিকে এ পর্দা নানা রকমের মানসিক বাধা বা সুরক্ষাপ্রাচীরের মধ্যে অন্যতম। মানসিক প্রতিবন্ধকের মধ্যে রয়েছে যেমন, পরিচ্ছন্ন পোশাক, পোশাকের সুন্দর বিন্যাস ও মার্জিত প্রকাশ, আড়ম্বরপূর্ণ জীবনোপকরণ এবং ড্রাইভার, প্রাইভেট সেক্রেটারি বা গার্ড ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় মানুষের প্রভাব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে। সুরক্ষা দেয় নানা উটকো ঝামেলা ও বিড়ম্বনা থেকে। এ জন্যই সমাজের উঁচুশ্রেণীর লোকেরা এসব ব্যবহার করেন। নিজের প্রভাব ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশে এসবকে কাজে লাগান। সম্ভবত সরকারি ও সামরিক ইউনিফর্ম হওয়ার পেছনেও অন্যতম কারণ এটি।

আমি মনে করি না এ বাস্তবতাকে কেউ অস্বীকার করবেন। ইসলামের রয়েছে প্রয়োগিক ধর্ম হওয়ার গুণে ঋদ্ধতা। ইসলাম বিলাসদ্রব্যের প্রতি মানুষের সহজাত দুর্বলতাকে অস্বীকার করে না। একে উপেক্ষাও করে না। বরং এ প্রবণতাকে কল্যাণকাজে ব্যবহারে কাজ করে। তবে এ ব্যাপারে বাহুল্য বা বাড়াবাড়িও অপছন্দ করে, যা মানুষকে ভুলিয়ে দেয় যে, ভিত্তিই মুখ্য গুণ। কেননা মৌলিক বা বুনিয়াদি বৈশিষ্ট্যাবলি অর্জনে দরকার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা। পক্ষান্তরে বাহ্যিক ও বিলাসী গুণ অনুদান বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় কিংবা অন্যের থেকে ধারও করা যায়।

এর সঙ্গে যোগ করে বলা যায়, প্রাকৃতিকভাবেই নারী আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক। এমনকি বোরকা পরা অবস্থাতেও। কেউ হয়তো বলবেন, নারীকে এমন মোহনীয় ও চিত্তবিনোদিনী বানানো হলো কেন? তার উত্তরে বলা যায়, এ আকর্ষণের যাবতীয় উপাদান থেকে নারীকে যদি মুক্ত করা হয়, তবে তার সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে যারা তাকে ফাও উপভোগ করতে চায় তারা তো বটেই; তার স্বামী পর্যন্ত তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলবে।