hadith book logo

ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব

লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

ইসলামী রাষ্ট্র কি চোরের হাত কাটার শাস্তি বাতিল করতে পারে?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱلسَّارِقُ وَٱلسَّارِقَةُ فَٱقۡطَعُوٓاْ أَيۡدِيَهُمَا جَزَآءَۢ بِمَا كَسَبَا نَكَٰلٗا مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٣٨﴾ [ المائ‍دة : ٣٨ ]

“আর পুরুষ চোর ও নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আযাবস্বরূপ এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩৮]

অতএব, যখন কোনো ইসলামী রাষ্ট্র হাত কাটার দণ্ড কার্যকর করে তখন তা তার একটি দায়িত্বই পালন করে মাত্র। ইসলামী রাষ্ট্র বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধিকার নেই একটি জাতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যে বিধান পালন করে, তা বাতিল করে দেয়।

ইসলাম মানুষের এবং মুকাল্লাফ সৃষ্টিজীবের মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা তার শান্তি নিশ্চিত করে। তার জীবনকে করে নিরাপদ ও শান্তিময়। যার মধ্যে রয়েছে তার জীবন, সম্পদ ও সম্মান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

«أَىُّ يَوْمٍ هَذَا؟ فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ . قَالَ أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ قُلْنَا بَلَى . قَالَ فَأَىُّ شَهْرٍ هَذَا فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ بِذِى الْحِجَّةِ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا ، فِى شَهْرِكُمْ هَذَا ، فِى بَلَدِكُمْ هَذَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ، فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ .«

“এটি কোন দিন? আমরা এই ভেবে চুপ করে রইলাম যে, হয়তো তিনি এদিনের পূর্বের নাম ছাড়া অন্য কোনো নাম দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বললেন, এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, অবশ্যই। তিনি আবার বললেন, এটি কোন্ মাস? আমরা এই ভেবে চুপ রইলাম যে, হয়তো তিনি এর পূর্বের নাম ছাড়া অন্য কোনো নাম দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বললেন, এটা কি যিলহজ মাস নয়? আমরা বললাম, অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের পারস্পরিক সম্মান তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহরের মতই হারাম তথা পবিত্র ও সম্মানিত। উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ কথা পৌঁছে দেয়। কারণ উপস্থিত ব্যক্তি হয়তো এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে যে তার চেয়ে অধিক হেফাযতকারী হবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭।]

এ কারণেই এসবের ওপর স্বেচছায় ও সুপরিকল্পিত অন্যায় হস্তক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যোগ্য করে। যে এসব অন্যায় করেনি তার জন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে। কেননা চোর কখনো তার চৌর্যকর্ম সম্পাদনকালে এর চেয়েও বড় অন্যায় যেমন হত্যাকান্ড পর্যন্ত ঘটাতে উদ্বুদ্ধ হয় তার কর্মকে নির্বিঘ্ন করতে। চৌর্যবৃত্তিও সমাজে ভীতি ছড়িয়ে দেয়। আবার কখনো জীবন বা সম্পদ রক্ষার্থে হত্যার দিকেও নিয়ে যায়।