১
ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব
লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
নাগরিকের বাক স্বাধীনতা
অনেক মুসলিমই মনে করেন তার পরিপার্শ্বের সবিশেষ পশ্চিমা সমাজের সফল সংগঠনগুলোই কেবল মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি বাস্তবায়ন করতে পারে। কেননা এসব সংগঠন ব্যক্তির চিন্তা ও মতামতের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা যদি এসব মুসলিমকে জিজ্ঞেস করি, সত্যি করে বলুন তো, আপনারা কি এসব সমাজে বিদ্যমান বল্গাহীন সেই স্বাধীনতা পছন্দ করেন যা পরকালের অনন্ত জীবন বরবাদ করার মতো কাজেরও সুযোগ দেয়? স্বভাবতই তাদের উত্তর হবে, না।
আর যদি বাক স্বাধীনতার উদ্দেশ্য হয় (কথা ও কৌশলের মাধ্যমে) সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের অধিকার, তবে মুসলিমদের তো কোনো বিদেশি সমাধান আমদানী করার প্রয়োজন নেই। এ অঙ্গনে তারাই বরং অগ্রগামী। বিশেষত ক্ষমতাসীনদের ইষ্ট কামনায়। [চীনী, বাক স্বাধীনতা।] হ্যা, এখন মুসলিমদের দরকার কেবল এ ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা। এ অর্থে বাক স্বাধীনতা কোনো মুসলিমের শুধু অধিকার নয় যাকে সে উপেক্ষা করতে পারে; বরং তা তার ধর্মীয় কর্তব্য। তার বিশ্বাস ও ঈমানই তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
তবে এ দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত মূলনীতির আলোকে। এ মূলনীতির সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তা কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলিম উম্মাহর আলিমদের সর্বসম্মত মত বা তাদের ‘ইসতিমবাত’ তথা ইসলাম বিষয়ক মাসআলা উদ্ভাবন নীতির পরিপন্থী না হতে হবে। পরন্তু তা এমন পদ্ধতিতে সম্পাদিত হতে হবে, যা কোনো মানব সমাজের কল্যাণ সাধন বা তা রক্ষার স্বয়ংক্রিয় প্রয়োজনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। এ পদ্ধতির সবচে গুরুত্বপূর্ণটি হলো, তা হতে হবে উত্তম ও সুন্দর উপদেশমূলক এবং সমাজের সামর্থ্যবানরা এ দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করতে পারবে না; যদিও তাদের হতে হয় কষ্টের সম্মুখীন। এদিকে সমাজের দায়িত্ব তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দান এবং এর উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করা। এ পরিবেশের দাবি, একটি সীমিত গোষ্ঠীকে নিষ্পাপ মনে করে কিংবা কেবল তাদেরই দায়িত্ব; অন্যের নয় ভেবে এ কাজকে পুরোপুরি সীমিত না রাখা। কারণ তারাও মুখাপেক্ষী অন্যের উপদেশের।
পরিবারের ক্ষেত্রে যেমন, এতে এমন কেউ নেই যে তার সদস্যবর্গকে পিতার অজ্ঞাতে চুপিসারে অধঃপতন থেকে রক্ষা করবে। যেমন, তাদেরকে সমগ্র পরিবারের কল্যাণে দমন বা পীড়নের ভয় ছাড়া পরামর্শ, নিজস্ব চিন্তা বা মতামত দানের অনুমতি প্রদান করা। এতে দেখা যাবে তার কিছু মতামত অপক্ক, কিছু ভাষা শিষ্টাচার পরিপন্থী। তথাপি তা পরিবার ও পরিবার প্রধানের জন্য ‘সব কিছু মনের মতো’ নামের কল্পনার রাজ্যে বাস করার চেয়ে শ্রেয়। যা মূলত অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার নামান্তর। কারণ, উন্মুক্ত আচরণের মধ্য দিয়ে গুরুতর হয়ে ওঠার আগে অপরিণত বয়সেই তার ভুলচুক সম্পর্কে জানা যায়। ফলে অবকাশ থাকে তা শুধরে দেওয়ার। পক্ষান্তরে যা অজ্ঞাতে-অগোচরে চলছে তা তো নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের যথাযথ পূর্ব প্রস্ত্ততি ছাড়া বেড়ে ওঠা ক্যান্সারের মতো।
অন্যকথায়, ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনা গুপ্ত দোষ পুষে রাখার চেয়ে ঢের ভালো ব্যক্ত হলেই বাতাসে মিলিয়ে যাবে এমন ঈষৎ ক্ষতি মেনে নেয়া। সুতরাং কোনো কল্যাণ অর্জন হয় না নিছক মোকাবেলা ছাড়া। এ দৃষ্টান্ত যেকোনো মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সঠিক চাই তা ছোট হোক বা বড়।
আর যদি বাক স্বাধীনতার উদ্দেশ্য হয় (কথা ও কৌশলের মাধ্যমে) সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের অধিকার, তবে মুসলিমদের তো কোনো বিদেশি সমাধান আমদানী করার প্রয়োজন নেই। এ অঙ্গনে তারাই বরং অগ্রগামী। বিশেষত ক্ষমতাসীনদের ইষ্ট কামনায়। [চীনী, বাক স্বাধীনতা।] হ্যা, এখন মুসলিমদের দরকার কেবল এ ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা। এ অর্থে বাক স্বাধীনতা কোনো মুসলিমের শুধু অধিকার নয় যাকে সে উপেক্ষা করতে পারে; বরং তা তার ধর্মীয় কর্তব্য। তার বিশ্বাস ও ঈমানই তাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
তবে এ দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত মূলনীতির আলোকে। এ মূলনীতির সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তা কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলিম উম্মাহর আলিমদের সর্বসম্মত মত বা তাদের ‘ইসতিমবাত’ তথা ইসলাম বিষয়ক মাসআলা উদ্ভাবন নীতির পরিপন্থী না হতে হবে। পরন্তু তা এমন পদ্ধতিতে সম্পাদিত হতে হবে, যা কোনো মানব সমাজের কল্যাণ সাধন বা তা রক্ষার স্বয়ংক্রিয় প্রয়োজনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। এ পদ্ধতির সবচে গুরুত্বপূর্ণটি হলো, তা হতে হবে উত্তম ও সুন্দর উপদেশমূলক এবং সমাজের সামর্থ্যবানরা এ দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করতে পারবে না; যদিও তাদের হতে হয় কষ্টের সম্মুখীন। এদিকে সমাজের দায়িত্ব তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দান এবং এর উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করা। এ পরিবেশের দাবি, একটি সীমিত গোষ্ঠীকে নিষ্পাপ মনে করে কিংবা কেবল তাদেরই দায়িত্ব; অন্যের নয় ভেবে এ কাজকে পুরোপুরি সীমিত না রাখা। কারণ তারাও মুখাপেক্ষী অন্যের উপদেশের।
পরিবারের ক্ষেত্রে যেমন, এতে এমন কেউ নেই যে তার সদস্যবর্গকে পিতার অজ্ঞাতে চুপিসারে অধঃপতন থেকে রক্ষা করবে। যেমন, তাদেরকে সমগ্র পরিবারের কল্যাণে দমন বা পীড়নের ভয় ছাড়া পরামর্শ, নিজস্ব চিন্তা বা মতামত দানের অনুমতি প্রদান করা। এতে দেখা যাবে তার কিছু মতামত অপক্ক, কিছু ভাষা শিষ্টাচার পরিপন্থী। তথাপি তা পরিবার ও পরিবার প্রধানের জন্য ‘সব কিছু মনের মতো’ নামের কল্পনার রাজ্যে বাস করার চেয়ে শ্রেয়। যা মূলত অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার নামান্তর। কারণ, উন্মুক্ত আচরণের মধ্য দিয়ে গুরুতর হয়ে ওঠার আগে অপরিণত বয়সেই তার ভুলচুক সম্পর্কে জানা যায়। ফলে অবকাশ থাকে তা শুধরে দেওয়ার। পক্ষান্তরে যা অজ্ঞাতে-অগোচরে চলছে তা তো নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের যথাযথ পূর্ব প্রস্ত্ততি ছাড়া বেড়ে ওঠা ক্যান্সারের মতো।
অন্যকথায়, ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনা গুপ্ত দোষ পুষে রাখার চেয়ে ঢের ভালো ব্যক্ত হলেই বাতাসে মিলিয়ে যাবে এমন ঈষৎ ক্ষতি মেনে নেয়া। সুতরাং কোনো কল্যাণ অর্জন হয় না নিছক মোকাবেলা ছাড়া। এ দৃষ্টান্ত যেকোনো মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সঠিক চাই তা ছোট হোক বা বড়।