১
ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব
লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩০
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অবস্থান
ইসলামে নারীর অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে আমরা যে প্রাকৃতিক গুণাবলির কথা তুলে ধরেছি, তা থেকে আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, নারী-পুরুষ উভয়েরই এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে অন্যজনের থেকে আলাদা করে। পাশাপাশি আমাদের সামনে এ কথাও পরিষ্কার হয়েছে যে, পুরুষরা যেসব গুণে অন্যন্য, প্রায় ক্ষেত্রেই তা তাকে বড় নেতৃত্বের যোগ্যতর করে তোলে। [এ কথার ভিত্তি বিবেচনা করা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মন্তব্যকে। যখন তাঁর কাছে বলা হয় যে পারসিকরা তাদের নেতা নির্বাচন করেছে একজন নারীকে, তখন তিনি বলেন, ( لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمُ امْرَأَةً ) “সেই জাতি কখনো সফল হতে পারবে না, যারা তাদের নেতৃত্ব অর্পণ করে নারীর ওপর।” (সহীহ বুখারী, মাগাযী অধ্যায়)। অনেকে এই হাদীসের টিকায় বলেছেন, এর উদ্দেশ্য নারী নেতৃত্ব হারাম ঘোষণা করা নয়। বরং পারস্যে যা ঘটতে যাচ্ছে তার ভবিষ্যৎবাণী করা। উল্লেখ্য, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ভবিষ্যৎবাণী প্রতিফলিত হয়েছিল।] বিশেষত যখন এই কর্তৃত্বের জন্য প্রয়োজন হয় শাসন, বিচার ও ইজতেহাদের যোগ্যতা। আর অন্য ক্ষেত্রগুলোতে নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে শরিয়তবিদগণ নানা মত ব্যক্ত করেছেন। বিরোধপূর্ণ এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচার, ‘হাসবা’ (সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের জন্য সরকারি দায়িত্ব) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব। তবে এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, ইসলাম নারীকে দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য বিবেচনা করেছে। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ . الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ , وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ , وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ» .
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল, সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।” [সহীহ বুখারী, জুমু‘আ আধ্যায়।]
ইসলাম তেমনি নারীর সঙ্গে শলা-পরামর্শের গুরুত্বকেও উপেক্ষা করেনি। কেননা, রাববুল আলামীনের রাসূল, যার ওপর অহী অবতীর্ণ হতো তিনিও তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহার পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। কুরাইশদের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তিতে একটি ধারা সংযোজন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কুরাইশদের কেউ মুসলিম হয়ে মদীনায় গেলে তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে হবে। পক্ষান্তরে মুসলিমদের কেউ মক্কায় পালিয়ে এলে তাকে (মদীনায়) ফেরত পাঠানো হবে না। সাহাবীগণ কিছুতেই এ ধারা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাদের কাছে এটি পরাজয়তুল্য মনে হচ্ছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম থেকে হালাল হতে বললে সাহাবীরা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মুমিন জননী উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহাবীদের নির্দেশ না দিয়ে নিজে হালাল হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী হালাল হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে রাসূলের অনুসরণে সাহাবীরাও হালাল হয়ে যান। [ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা‘আদ: ৩/২৯৫।]
«كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ . الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ , وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ , وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ» .
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল, সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।” [সহীহ বুখারী, জুমু‘আ আধ্যায়।]
ইসলাম তেমনি নারীর সঙ্গে শলা-পরামর্শের গুরুত্বকেও উপেক্ষা করেনি। কেননা, রাববুল আলামীনের রাসূল, যার ওপর অহী অবতীর্ণ হতো তিনিও তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহার পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। কুরাইশদের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তিতে একটি ধারা সংযোজন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কুরাইশদের কেউ মুসলিম হয়ে মদীনায় গেলে তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে হবে। পক্ষান্তরে মুসলিমদের কেউ মক্কায় পালিয়ে এলে তাকে (মদীনায়) ফেরত পাঠানো হবে না। সাহাবীগণ কিছুতেই এ ধারা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাদের কাছে এটি পরাজয়তুল্য মনে হচ্ছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম থেকে হালাল হতে বললে সাহাবীরা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মুমিন জননী উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহাবীদের নির্দেশ না দিয়ে নিজে হালাল হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী হালাল হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে রাসূলের অনুসরণে সাহাবীরাও হালাল হয়ে যান। [ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা‘আদ: ৩/২৯৫।]