hadith book logo

ইসলামের সমালোচনা ও তার জবাব

লেখকঃ ড. সাঈদ ইসমাঈল চীনী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

মৌলিক আকীদা ও ইবাদাতগুলো কী কী?

ইসলামের মৌলিক আকীদা এ বাস্তবতাকে ঘিরে আবর্তিত যে দুনিয়ার জীবনই পূর্ণ গল্প নয়। দেখবেন কিছু মানুষ জন্ম নেয় তার মেধা অথবা পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে জীবনটাকে উপভোগ করার জন্য। কিছু লোক জন্ম গ্রহণ করে তার বোকামী ও নির্বুদ্ধিতা অথবা দারিদ্রের সঙ্গে যুঝবার জন্য। আবার কেউ শত্রুদের শত্রুতার বলী হয়, যেকোনো মতে এ জগতের শাস্তির হাত থেকে কোনোমতে পালিয়ে যায়। তেমনি আবার কেউ জীবন তার সৌভাগ্যের বদৌলতে সুখ ভোগ করে পক্ষান্তরে অন্যজন দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে কষ্ট ও বঞ্চনাভরা জীবনের ঘানি টেনে বেড়ায়। এখন যদি জীবনের গল্প দুনিয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ হয় তাহলে ইনসাফ থাকে কীভাবে? এ কারণেই ইসলাম আরেকটি শাশ্বত জীবনের কথা বলে। সেখানেই হবে চূড়ান্ত হিসাব। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হবে পূর্ণ ইনসাফ।

প্রকৃত মৌলিক আকীদাগুলো অতীতের সব আসমানী গ্রন্থ কর্তৃকই প্রমাণিত। আর ইসলামের দৃষ্টিতে তা দৃশ্যায়িত হয় স্রষ্টার একত্ব, তাঁর নির্দেশ পালনের অত্যাবশ্যকতা এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদাত তথা দাসত্বের মধ্য দিয়ে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ﴾ [ النساء : ٤٨ ]

“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮, ১১৬]

ইসলামের মৌলিক আকীদাগুলো বাস্তবায়িত হয় এক আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভালো-মন্দে তকদীর তথা ভাগ্যের ওপর ঈমান [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫; সহীহ মুসলিম: ঈমান অধ্যায়।] ও বিশ্বাসের মাধ্যমে। পক্ষান্তরে মৌলিক ইবাদাত হয় ইসলামের পঞ্চভিত্তির মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ কথা স্বীকার করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযানে সিয়াম পালন করা এবং যার সাধ্য আছে তার বাইতুল্লাহর হজ করা। [সহীহ মুসলিম: ঈমান অধ্যায়।]

এসব ইবাদাত মানুষের নিত্য জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন, নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্রতা ও অযুর শর্তে পাঁচবার সালাত আদায় করা। এটি মানুষকে সময়, শূচিতা ও শৃঙ্খলায় যত্নবান হবার প্রশিক্ষণ দেয়। একইসঙ্গে তা মানুষকে নিজের কাজে এবং তার স্রষ্টার হক সম্পর্কে আন্তরিক ও সচেতন হতে শিক্ষা দেয়। তেমনি যাকাত মানুষকে তার অভিন্ন জাতি তথা মানুষের হকের কথা, সিয়াম ক্ষতি করে না এমন সব সৃষ্টির প্রতি দয়ার্দ্র হবার প্রয়োজনীয়তার কথা এবং হজ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এটা ঠিক যে ইসলামের ইবাদাতে কোনো কোনো আমল বাহ্যিকভাবে পৌত্তলিক ধর্মীয় আচারের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে। যেমন, কাবামুখী হয়ে সালাত আদায় এবং তাকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করা ইত্যাদি; কিন্তু বাস্তবে এতদুভয়ের মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী রীতি কোনো যুক্তির আলোকে নয়। এটি সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ হিসেবে সম্পাদ্য। তাই তা পালনের অর্থ কেবল আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন। পক্ষান্তরে মানুষ যেসব আচার ও রীতির কথা বলে- চাই তা যৌক্তিক হোক বা অযৌক্তিক- তা আল্লাহ তা‘আলার মূল শিক্ষার বিকৃত রূপ।

লক্ষণীয়, আকীদার মতো মৌলিক ইবাদাতগুলো ও তার মৌলিক উপাদানসমূহ ইসলাম আগমনের দিন থেকে বর্তমান পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। নিত্যপরিবর্তশীল জীবনের প্রয়োজন ও জীবনোপকরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সহজের জন্য অল্প কিছু ক্ষেত্র ছাড়া (যেমন, সফরকালে সালাতে কসর এবং সিয়াম পালন না করে অন্য দিন করা) ইবাদাত খুব একটা প্রভাবিত হয় না।

তবে মানুষের সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট কিছু আইন আছে যা জীবনোপকরণ ও জীবনের নিত্য নতুন ও পরিবর্তনশীল উপকরণের দ্বারা প্রভাবিত হবে। কিন্তু ইসলাম যেহেতু আসমানী রিসালাতসমূহ ও সমগ্র বিশ্বাসীর জন্য সর্বশেষ দীন তাই বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা এর এমন কিছু গুণের দায়িত্ব নিয়েছেন, যা একে সর্বযুগে সর্বস্থানে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের যোগ্য করবে।