hadith book logo

অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

ছয়. মানবাত্মা যখন কোন বৈধ বস্তুর আকাঙ্ক্ষা করে তখন তা অর্জন করার জন্য তাড়াহুড়া করা:

মানুষর স্বভাব হল, সে তাড়াহুড়া করতে পছন্দ করে। কোন কিছুতে মানুষ ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা খুব কমই রাখে। মানবজাতিকে যখন তার নফস কোন বৈধ কর্মের প্রতি আহ্বান করে, তখন সে দ্রুত তার বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে; তা তার জন্য ভাল নাকি মন্দ তা সে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখে না। জ্ঞানীরা তাদের বাচ্চাদের এবং নিজেদের ছাত্রদের প্রবৃত্তির বা নফসের চাহিদার বিরোধিতা করার উপর অভ্যস্ত করে গড়ে তুলেন। কোন বৈধ জিনিষও যখন তাদের ছাত্র বা সন্তানেরা হাসিল করতে চাইত, তারা তাদের চাহিদাকে প্রত্যাখ্যান করত। তারা যা চাইতো তা বৈধ হলেও তা থেকে তারা তাদের বাচ্চাদের বিরত রাখত। অনেক সময় ছাত্ররা তাদের ওস্তাদদের বারণ করাকে সহ্য করতে পারে না। ফলে তারা প্রতিবাদ করে এবং বিরোধিতা করে। কিন্তু তখন তারা বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে যখন তারা বড় হয় বা ওস্তাদ হয়, তখন ঠিকই বুঝতে পারে। কেন তাদের এ কাজ করতে নিষেধ করা হল এবং কাজটি কেন করতে দেয়া হল না। আমাদের সময় আমাদের শিক্ষকরা অনেক মুবাহ কাজ করতে আমাদের বারণ করত, তখন আমাদের তা বুঝতে কষ্ট হত। কিন্তু এখন তারা কেন নিষেধ করত তা বুঝতে আর কষ্ট হয় না। বর্তমানে দেখা যায় অনেক প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের জন্য মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। এর যথার্থতা ও যৌক্তিকতা স্পষ্ট। ছাত্ররা মোবাইল ব্যবহার করে তাদের জীবনের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করে, মাতা-পিতার কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় করে এবং মোবাইল দ্বারা বিভিন্ন লোকজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে সম্পর্ক করার কারণে তাদের পড়া লেখায় বিঘ্ন ঘটে।

খলফ ইব্ন খলিফা সুলাইমান ইব্ন হাবিব ইব্ন মিহলাব এর নিকট প্রবেশ করে দেখতে পেল, সুলাইমানের একটি বাঁদি, তার নাম বদর। তার চেহারা খুবই সুন্দর এবং সে অত্যন্ত ভাল ও গুণি। সুলাইমান খলফকে জিজ্ঞাসা করে বলল, তুমি এ বাঁদিকে কেমন দেখছ? সে বলল, আল্লাহ রাব্বূল আলামীন আমীরকে সংশোধন করুক! আমি ইতিপূর্বে এর চেয়ে সুন্দর কোন নারীকে দেখিনি। সে বলল, তুমি হাত ধর! উত্তরে খলফ বলল, না আমি এ কাজ করব না। আমি জানি আপনি তাকে পছন্দ করেন। তারপর সে আবারো বলল, আমি তাকে পছন্দ করলেও তুমি তাকে ধর কোন সমস্যা নাই। সে এ কথা এ জন্য বলল, যাতে আমার প্রবৃত্তি আমার উপর প্রাধান্য পায় কিনা তা জানতে পারে।

ধৈর্যের চর্চা করার কারণে মানুষ অনেক সময় প্রবৃত্তির পূজা করা হতে বিরত থাকতে সক্ষম হয়। আর এ ধরনের বঞ্চিত হওয়ার দরুন মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বরং মানুষের যাবতীয় কল্যাণ নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে যখন সে তার প্রবৃত্তি ও নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি হয়। কিন্তু যখন সে সাধারণত বৈধ ও মুবাহ বস্তু লাভে অভ্যস্ত হয়, তখন মানবাত্মা নিষিদ্ধ ও হারাম বস্তুর সামনে দুর্বল হয়ে পড়ে।